ঢাকা, বুধবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রত্যেক বছর একটু করে বড় এই কালীর মূর্তি

প্রথমবার্তা ডেস্ক, রিপোর্টঃ          উত্তরবঙ্গে অন্যতম বৃহৎ কালী পুজোকে ঘিরে উৎসবে মেতেছে মালদহের বুলবুলচণ্ডী৷ এখানে প্রায় ৪৮ তেকে ৫০ ফিটের কালি প্রতিমা তৈরি হয়৷ তবে এবারই প্রথম নয়৷ বুলবুলচণ্ডীতে বড় কালি পুজোর দীর্ঘ দিনের৷ এবার এখানের পুজো ৬৯ বছরে পড়ল৷ স্বাধীনতার পরপরই ১৯৪৯ সালে এখানে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নদীর ধারে বসে মদ্যপান করছিল তখনই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেয় কালি পুজো করবে৷ যেমন ভাবনা আর সঙ্গে সঙ্গে শুরু কালি পুজো৷ পুজোর সূচনা করে রাজ রোষে পড়েন তাঁরা৷

 

 

 

 

 

 

 

স্থানীয় জমিদার এই পুজোর বিরোধিতা করেন৷ কিন্তু সাধারণ মানুষের আবেগে পিছু হঠতে বাধ্য হন তাঁরাও৷ এরপরেই থেকেই শুরু হয় মায়ের যাত্রা৷ কালি পুজো এক বছর করার পর তাঁরা আরও একটি সিদ্ধান্ত নেয় মা কালি কোনও মতেই ছোট থাকবে না৷ যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ৷ সেই মতো প্রতি বছরই এক হাত করে বৃদ্ধি শুরু৷

 

 

 

 

 

 

 

বাড়তে বাড়তে কালী বিশালাকৃতি রূপ নেয়৷ কিন্তু দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে এলাকার উন্নতিও হয়৷ চারিধারে বিদ্যুতায়ন হয়৷ বড় বড় বাড়ি হয়৷ দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়৷ এরফলে এত বিশালাকার কালীমাকে নদীতে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তে শুরু করল৷ এদিকে যুগের সঙ্গে সঙ্গে পুজোও চলে আসল নতুন প্রজন্মের হাতে৷ সুতরাং, প্রতিমাকে ৪৮ থেকে ৫০ ফিটের মধ্যেই রাখা শুরু হল৷ তবে রীতি মেনে এখনও সামান্য করে মাকে বৃদ্ধি করা হয়৷ আরও একটি রীতি এই কালীর বৈশিষ্ঠ তা হল এখানে পাঠা বলির রীতি নেই৷ কেউ যদি কোনও ভাবে মানতও করে তবে সেখানে তা উৎসর্গ করে অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে বলি দেওয়া হয়৷

 

 

 

 

 

 

 

 

এবারও বিশালাকার এই প্রতিমা তৈরি হয়েছে এবং তার জন্য প্রায় ১৩০টি বাঁশ, পঞ্চাশ কেজি দড়ি, কাঁটা ৫০ কেজি, খড়ও লাগে তিন কাউন এছাড়া প্রচুর সামগ্রী লাগে ৫০ ফিটের প্রতিমা তৈরি করতে৷ প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা লাগে প্রতিমা তৈরি করতেই৷ স্থায়ী মণ্ডপেই গড়া হয় মা কালির মূর্তি৷ উদ্যোক্তাদের দাবি উত্তরবঙ্গের মধ্যে সর্ববৃহৎ কালি পুজো হয় এখানে৷ কোনও থিমের চমক বা মণ্ডপের বৈচিত্র্য নয়৷ প্রতিমার সৌন্দর্য ও পুজোর নিষ্ঠায় এখানকার বিশেষত্ব৷ প্রথমেই বারো হাতের কালী দিয়ে সূচনা হলেও প্রতিবছর রীতি মেনে উচ্চতায় বাড়ানো হয় প্রতিমা৷

 

 

 

 

 

 

 

তবে, বর্তমানে স্থায়ী মণ্ডপ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েকবছর ধরে নাম মাত্র বাড়ানো হচ্ছে উচ্ছতায়৷ মালদহ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এমনকি বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে প্রতিমা দেখতে আসেন অসংখ্য মানুষ৷ পুজো উপলক্ষে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বড় মেলাও বসে এখানে৷ বিসর্জন পর্বও আকর্ষনীয়৷ মণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরত্বে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন হয়৷ বাঁশের মাচা করে টেনে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় একটি জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন হয়৷ বিসর্জন পর্বে সমাবেত হন কয়েক হাজার মানুষ৷ বিসর্জনে থাকে আতসবাজির প্রদর্শনীও৷

Translate »