প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :           মুমিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ক্ষমার মহান বারতা নিয়ে সমহিমায় হাজির হয়েছে পবিত্র রমজান। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের প্রতিদান যেমন বহুগুণে বেড়ে যায় তেমনি সব পাপ ছেড়ে দিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে নিজের জীবনকে নতুন করে সাজাবার সুযোগও এনে দেয় রমজান।

 

 

 

 

 

কোরআনে নিষিদ্ধ জিনিসগুলোকে ‘না’ বলে সেগুলো ত্যাগ করা এবং নির্দেশিত বিষয়গুলোর চর্চার প্রশিক্ষণরও এক মহাসুযোগ রমজান। এ রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমা ও সৌভাগ্য অর্জনে নিম্নের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে :

 

 

 

 

 

হক আদায় করে রোজা রাখা : রমজানের মূল ফরজই হলো রোজা। মহান আল্লাহ বলেন, সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে। (সুরা বাকারা : আয়াত : ১৮৫)।

 

 

 

 

রোজা শুধু পানাহার এবং স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকাই নয় বরং সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সম্ভোগ এবং সব ধরণের গুনাহ থেকে বিরত থাকা। হাদেসেও এমনটিই এসেছে।

 

 

 

 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় কাজ ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করতে না পারবে তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লহ তায়ালার কোনো প্রয়োজন নেই।

 

 

 

 

 

(বোখারি: ৫/২২৫১)। পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় কাজ ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করে এভাবে রোজা রাখলেই তা হবে হক আদায় করে রোজা রাখা।

 

 

 

 

 

রোজার মাধ্যমে ক্ষমা পেতে হলে সে রোজা হতে হবে পাপমুক্ত। শুধু পানাহার ত্যগ করে গুনাহের কাজ না ছাড়লে তা কিছুতেই রোজা হবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, পানাহার বর্জনের নাম সিয়াম নয়; সিয়াম হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা এবং কাজ বর্জন করা।

 

 

 

 

(বায়হাকি: ৪/২৭০)। অর্থাৎ রোজার মাধ্যমে পবিত্র কোরআনে নিষিদ্ধ জিনিসগুলো ছেড়ে দেয়ার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। নিজেকে বিরত রাখতে হবে সব ধরণের মিথ্যা ও পাপাচার থেকে।

 

 

 

 

অনেক সময় রোজা রেখেও আড্ডায় বসে আমরা অন্যের গিবত করি। এটিও পরিহার করতে হবে।

 

 

 

 

 

রমজানে দিনের বেলায় খাবারকে যেমন ‘না’ বলা হয় তেমনি গিবত, পরনিন্দা, সুদ, ঘুষ, সন্ত্রাসসহ সব গুনাহের কাজকেও ‘না’ বলে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার প্রশিক্ষণ হিসেবে রোজাকে গ্রহণ করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। রমজানের প্রথম দিনে আজই আমরা শপথ করি যে গুনাহ করব না।

 

 

 

 

 

 

 

তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা : রমজানে কিয়ামুল্লাইলের ব্যাপারে নবীজি নির্দেশ দিয়েছেন। ‘কিয়ামুল লাইল’ অর্থ রাতের নামাজ। তারাবিহও কিয়ামুল্লাইলেরই অন্তর্ভূক্ত।

 

 

 

 

 

তবে কিয়ামুল্লাইলের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো তাহাজ্জুদ। রমজানে আমাদেরকে সাহরি খাওয়ার জন্য শেষ রাতে জাগতে হয়। সাহরির সময় সামান্য সময় আগে উঠে সহজেই চাইলে কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদের অভ্যাস করে নিতে পারি।

 

 

 

 

 

 

কোরআন খতম ও তিলাওয়াত : পবিত্র রমজানে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই কোরআন নাজিলের মাস রমজানে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত।

 

 

 

 

 

কারণ রোজা ও কোরআন বান্দাদের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে সুপারিশ করবে। মহানবী (সা.) বলেছেন : ‘রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে…।’ (আহমাদ : হাদিস ৬৬২৬)।

 

 

 

 

 

অফিসের যেতে অনেক সময় জ্যামে পড়ে আমাদের সময় কেটে যায়। এ সময়টুকুও কাজে লাগাতে পারি। এ সময়টুকুও ইবাদতে ব্যবহার করতে মোবাইলে কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন ইসলামিক এ্যাপস চালু করে তা কাজে লাগাতে পারি।

 

 

 

 

 

 

রমজানে অফিসের কাজের ফাকে গল্প করে সময় না কাটিয়ে তিলাওয়াত, জিকির, দরূদ শরিফ পড়াসহ বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে সে সময়টাও কাজে লাগানো যেতে পারে।

 

 

 

 

অনেকে রমজান মাসে খতম উঠানোর জন্য খুব তাড়াহুড়ো করে তিলাওয়াত করে। ফলে তিলাওয়াতটা বিশুদ্ধ হয় না। ‘যেভাবেই হোক এক খতম দিতে হবে’ এই ধরণের মানসিকতা পরিহার করে ধীরেসুস্থে তারতীলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত।

 

 

 

 

 

আস্তেধীরে পড়ে খতম করার চেষ্টা করতে হবে। নয়তো যতোটুক হয় তাতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। পরিমাণের চেয়ে তিলাওয়াতের গুণগতমান বেশি গরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

 

 

 

বেশি বেশি ইসতিগফার করা : ইসতিগফার হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা ক্ষমার দরজা খুলে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদেরকে সে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

 

 

 

 

 

 

ইফতারির আগ মুহর্তে দুআ কবুল হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ইফতারির ব্যবস্থাপনাগত কাজকর্ম আগেভাগে শেষ করে ইফতার সামনে নিয়েই দুআ করতে পারি।

 

 

 

 

 

বেশি বেশি দান করা : রমজানে নবীজি (সা.), সাহাবায়ে কেরাম এবং পূর্ববর্তী বুজুর্গরা বেশি বেশি দান করতেন। প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন : ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল।

 

 

 

 

 

আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’ (মুসলিম : হাদিস ৩২০৮)। দান সদকা ক্ষমারও বড় কারণ। দান সদকা করলে আল্লাহ তায়ালার দরবার থেকে ক্ষমা পাওয়া যায়।

 

 

 

 

 

 

আমরা সামান্য কিছু টাকা জমা করে হলেও আমাদের অভাবী প্রতিবেশীর ঘরে সামান্য ইফতার সামগ্রী দিয়ে আসতে পারি। একজন অভাবী মানুষ সারাদিন রোজা রেখে যখন আমাদের দেয়া ইফতার দিয়ে ইফতার করে আনন্দিত হবে তখন সে আনন্দটা শুধু তার ঘইে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

 

 

 

 

 

 

সে আনন্দ আল্লাহ তায়ালার আরশে পৌঁছে যাবে। আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে ইফতারদাতাকে সে রোজাদারের রোজার সওয়াবের সমান সওয়াব দান করে ধন্য করবেন।

 

 

 

 

 

 

জিকির আজকার করা : ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’’, ‘আল্লাহু আকবার’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’ এ দুয়াসহমূহ পড়া যেতে পারে। এগুরো ছাড়াও হাদিসে বর্ণিত দুয়া, তাসবিহ ও দরুদ পড়ে সময় কাটানো উচিত।

 

 

 

 

 

 

ইতিকাফের প্রস্তুতি নেয়া : ইবাদতের বসন্তকাল রমজানের বড় একটি প্রাপ্তি হলো লাইলাতুল কদর। হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর পাওয়ার বড় একটি মাধ্যম হলো ইতিকাফ করা।

 

 

 

 

 

 

নবীজি (সা.) ইতিকাফ করতেন। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম : হাদিস ১১৭১)। আল্লহর সান্নিধ্য লাভে লাইলাতুল কদর পেতে রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফের প্রস্তুতি এখন থেকেই নেয়া উচিত।

 

 

 

 

 

 

ওমরাহ আদায় : সম্পদশীল হলে রমজানে উমরা করা উচিত। রমজানে একটি ওমরা আদায় করলে অন্য মাসে ৭০টি ওমরাহ করার সওয়াব হয়। রমজানের উমরায় হজের সমান সওয়াব।

 

 

 

 

 

এ প্রসঙ্গে এক বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ আদায় আমার সঙ্গে হজ আদায়ের সমতুল্য।’ (মাজমাউল কাবির : হাদিস ৭২২, জামেউল আহাদিস : হাদিস ১৪৩৭৯)। ওমরাহর নিয়ত করলে রমজানের আগেই কিংবা রমজানের শুরু থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।