প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :         স্বামী অ্যানাল সেক্সের প্রতি আসক্ত। ওকে ভালোবাসি বসে চেষ্টা করি। কিন্তু ব্যাপারটা আমার মোটেও ভালো লাগেনি। কিন্তু নিজের অসুবিধার কথা বলতেই ও খুব রেগে গেল।

 

 

 

বার বার বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকল যে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়, সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক খবর পড়ার ফলেই অ্যানাল নিয়ে আমার আপত্তি দেখা দিয়েছে।

 

 

 

অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে এর সঙ্গে মিডিয়া প্রচারিত সংবাদের সম্পর্ক নেই এবং ওই যৌন প্রক্রিয়া আমার পক্ষে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু কিছুতেই কোলও লাভ হল না।

 

 

 

 

ও ওর যুক্তিতে অনড় থাকল। এই টানাপোড়েন আমাদের যৌন জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে এবং ধীরে ধীরে এর জেরে হয়তো আমাদের মধ্যে মানসিক দূরত্বও বাড়তে থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে আমার কী করণীয়, দয়া করে জানান।

 

 

 

 

অনামিকা, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, কলকাতা (নাম পরিবর্তিত)

ডা. সামান্থার জবাব:

স্বামীর প্রতি আপনার ভালোবাসা সুগভীর। না হলে, সম্পূর্ণ অপরিচিত যৌন অভ্যাসে রাজি হতেন না। কিন্তু বিষয়টি আপনার ভালো লাগেনি আর সে কথা জানাতেই স্বামী খাপ্পা হয়েছেন। এখানে আমার কিছু কথা বলার আছে।

 

 

 

 

১) আপনার স্বামীর আচরণ আদৌ প্রশংসা করার মতো নয়। নিজের অভ্যাস ছাপিয়ে স্রেফ ওঁর আনন্দের জন্য আপনি যে এতটা এগিয়েছেন, তা কি আদৌ তিনি ভেবে দেখেছেন? আপনার আন্তরিক চেষ্টার উত্‍স যে নিখাদ প্রেম, তা কি তিনি একবারও প্রকাশ করেছেন?

 

 

 

 

 

২) আপনার শারীরিক ও মানসিক যাতনা সম্পর্কে আপনার জীবনসঙ্গী খুবই উদাসীন বলে মনে হচ্ছে। না হলে অযথা মিডিয়ার দোহাই দিয়ে আপনার অনুভূতিকে হেয় করার চেষ্টা করতেন না। মাফ করবেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই কি তিনি এমনই আচরণ করে থাকেন?

 

 

 

 

আবার সমস্যা সমাধান করতে চাইলে কয়েকটি টিপ্‌স দিতে পারি যা ভেবে দেখতে পারেন।

 

 

 

 

১) ওঁকে জানান, আপনার অনুভূতি নিয়ে তাঁর একপেশে মন্তব্যে আপনি কতটা আহত হয়েছেন।

 

 

 

 

২) স্বামীকে বলুন যে নিজের মন সম্পর্কে আপনি ১০০% সচেতন। যদি ওঁর অ্যানাল সেক্সের আসক্তিকে মিডিয়ার দ্বারা প্রভাবিত বলা হয়, সে ক্ষেত্রে উনি তা মেনে নেবেন কি না জিজ্ঞেস করুন। দেখবেন, নিজের পছন্দ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উনি কী প্রবল আত্মরক্ষাত্মক হয়ে উঠেছেন। যদি তিনি কোনও আলোচনায় না গিয়ে আবার একতরফা বক্তব্য পেশ করতে শুরু করেন, তাহলে সিঁদুরে মেঘ দেখুন। প্রয়োজনে ম্যারেজ কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।

 

 

 

 

 

৩) ওঁকে বলুন, একমাত্র নিরাপদ পরিস্থিতিতেই সুখী যৌনজীবন সম্ভব। সেখানে পার্টনাররা পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে পারবেন। আলোচনায় ব্যঙ্গ, শ্লেষ, কুরুচিকর মন্তব্য বা একে অপরকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা স্থান পাবে না।

 

 

 

 

 

আসলে আপনার স্বামী ভয় পেয়েছেন যে ভবিষ্যতে আপনি ওঁর অনুরোধ রাখবেন না। সেই কারণে মিডিয়ার দোহাই দিয়ে আপনার মতামতকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তা করতে গিয়ে মানসিক ভাবে আপনাকে অপমান করছেন। বিষয়টি ওঁর জানা দরকার।