প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :            পৃথিবীর ইতিহাসে ল্যুভর মিউজিয়াম, বোস্টন জাদুঘর থেকে শিল্পকর্ম চুরি বা ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুরো বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। চলুন জেনে নিই এমন কিছু দুর্ধর্ষ জাদুঘর ডাকাতির ঘটনা-

 

 

 

 

১. ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের জাদুঘরে দুর্ধর্ষ এক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে যাদুঘরটি গড়ে তুলেছিলেন শিল্পসংগ্রাহক ইসাবেলা স্টুয়ার্ট গার্ডনার। তার নামানুসারেই নামকরণ করা হয় ইসাবেলা স্টুয়ার্ট গার্ডনার মিউজিয়ামের। ওই রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে জাদুঘরের দুই গার্ডের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থকে ১৩টি মূল্যবান শিল্পকর্ম নিয়ে চম্পট দিয়েছিল।

 

 

 

 

 

 

ডাচ স্বর্ণযুগের বিখ্যাত শিল্পী ইয়োহান ভার্মির এর শিল্পীজীবনে আঁকা মাত্র ৩৪টি ছবির একটি ‘দ্য কনসার্ট’ ছিল সেই চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে। কেবল ‘দ্য কনসার্ট’ এর আর্থিক মূল্যই ২০ কোটি মার্কিন ডলার।

 

 

 

 

একই সময়ের আরেক বিখ্যাত শিল্পী রেমভ্রান্ট এর আঁকা একমাত্র সাগরের ছবি ‘দ্য স্টোর্ম অন দ্য সি অব গ্যালিলি’ও চুরি হয়ে যায়। এছাড়া এডগার ডেগাস, এডুয়ার্ড ম্যানেট ও গোভার্ট ফ্লিংক এর মত শিল্পীর আঁকা ছবিও ছিল চুরি যাওয়া সম্পদের তালিকায়।

 

 

 

 

এফবিআই সহ বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা এই চুরির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করলেও বিফল হয়েছে সবাই। গত ২৮ বছরেও গ্রেফতার হয়নি কোন চোর, উদ্ধার হয়নি চুরি হওয়া কোন শিল্পকর্ম।

 

 

 

 

 

২. ইতিহাসের যাদুঘর ডাকাতির আরেকটি বড় ঘটনা ঘটেছিল ১৯১১ সালের ২১ আগস্ট ফ্রান্সের লুভর মিউজিয়ামে। ঐ দিনে লুভর মিউজিয়াম থেকে চুরি হয়েছিল লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা বিখ্যাত ‘মোনালিসা’ শিল্পকর্মটি। অবশ্য চুরি হওয়ার আগে মোনালিসা আজকের মতো এতোটা বিখ্যাত ছিল না।

 

 

 

 

ভিনসেনজো পেরুজিয়া, ল্যান্সেলত্তি ও মিকেলে নামের তিন জনের নেতৃত্বে লুভর থেকে চুরি হয়েছিলো মোনালিসা। ঐ সময়ে লুভর মিউজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আজকের মতো ছিল না। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান চোরেরা। এর মধ্যে একজন মিউজিয়ামের মধ্যে ছবি ফ্রেমিংয়ের কাজ করেছিল বলে ভেতরের সব কিছু সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল।

 

 

 

 

 

 

সাপ্তাহিক ছুটির দিনের আগের দিন তারা মিউজিয়ামের মধ্যে ঢুকে লুকিয়ে ছিল। চোরের লিওনার্দোর ‘মোনালিসা’ ছবিটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরি যাওয়ার দুই বছর পর্যন্ত মোনালিসার কোন খোঁজ ছিল না।

 

 

 

 

১৯১৩ সালে পেরুজিয়া ছবিটি নিয়ে প্যারিস থেকে ফ্লোরেন্সে আসে। এরপর উফিজি গ্যালারির আর্ট ডিলারের কাছে ছবিটি বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। মোনালিসা’কে প্যারিসে ফেরত পাঠানো হয়।

 

 

 

 

 

মূলত ঐ চুরির পর থেকেই বিখ্যাত হয়ে যায় মোনালিসা। আগে শুধু শিল্পবোদ্ধাদের কাছে মোনালিসা প্রিয় থাকলেও চুরির পর তা সাধারণ মানুষের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। লুভর মিউজিয়ামে মোনালিসা ফেরার পর প্রতি বছর গড়ে এক কোটি মানুষ লুভরে যায় শুধুমাত্র মোনালিসা’কে দেখতে।

 

 

 

 

 

 

৩. ২০১২ সালে গ্রিসের অলিম্পিয়া জাদুঘরে হানা দিয়ে বহু সংখ্যক অমূল্য শিল্পকর্ম ডাকাতি হয়।মুখোশ পরা সশস্ত্র দুই ব্যক্তি রক্ষীদের জিম্মি করে প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করে এবং ৬০টিরও বেশি শিল্পকর্ম নিয়ে যায়।

 

 

 

 

 

শিল্পকর্মগুলোর বেশিরভাগই ব্রোঞ্জের এবং মাটির তৈরি মূর্তি। এগুলোর মূল্য নির্ধারণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় সংস্কৃতিমন্ত্রী পাভলোস গেরোলানোস পদত্যাগ পত্র দিয়েছিলেন কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করেনি। এই জাদুঘরটি পশ্চিম গ্রিসের জঙ্গলাকীর্ণ একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।

 

 

 

 

 

 

৪. ২০১২ সালেই এথেন্স ন্যাশনাল গ্যালারিতে রক্ষিত বিখ্যাত শিল্পী পাবলো পিকাসোর আঁকা একটি শিল্পকর্ম চুরি যায়। এই শিল্পকর্মটি পিকাসো নিজেই দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইতালীয় শিল্পী গুগলিয়েলমো কাসিয়োর একটি চিত্রকর্ম এবং স্কেচও চুরি যায়।

 

 

 

 

 

 

 

৫. ১৯৯১ সালে অ্যামস্টারডামের ভন গঘের জাদুঘর থেকে এক ব্যক্তি প্রহরীর সহায়তায় ২০টি চিত্রকর্ম চুরি করে। পরে অবশ্য চিত্রকর্মগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং চোরও ধরা পরে।