প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :          প্রতেক সন্তানের আচার-আচারণ, স্বভাব-চরিত্র, আদব-কায়দা প্রায় সবকিছু নির্ভর করে তার পরিবারের উপর। আর সাধারণত পরিবারের প্রধান ভূমিকায় থাকে বাবা-মা।

 

 

 

 

 

তাই সন্তানরা সব ধরণের শিক্ষা পেয়ে থাকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে। বাবা-মায়ের ভালো অভ্যাসে সন্তান হয়ে উঠে আদর্শবাদী আর বদঅভ্যাসে হয়ে উঠে বদ মেজাজী।

 

 

 

 

 

বাবা-মা সন্তানকে সঠিক ভাবে বিকশিত করতে চাইলে অবশ্যই তাদের অভ্যাসগুলোর উপর নজর দিতে হবে। কোনো বদঅভ্যাস থাকলে তা বর্জন করা উচিত। চলুন জেনে নিই, বাবা-মায়ের যে বদঅভ্যাসগুলো সন্তানের ক্ষতি করে

 

 

 

 

সন্তানদের সামনে ঝগড়া করা:

স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া হওয়াটাই স্বাভাবিক, তবে সেটা সন্তানদের সামনেই ঝগড়া করবেন না। এই অভ্যাসটা সন্তানের জন্য ভালো নয়। এতে সন্তানের মধ্যে নেতিবাচক সাড়া দিবে। তাদের মধ্যে কোনো রকম শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে না। তাই প্রয়োজনেআপনারা অন্য রুমে দরজা বন্ধ করে কিংবা সন্তান যখন সামনে থাকবে না তখন যা ইচ্ছে তাই করুন।

 

 

 

 

 

 

সন্তানের সামনেই নেশা জাতীয় জিনিন খাওয়া:

সমাজে প্রায় দেখা যায়, অনেক বাবারাই দুশ্চিন্তা ও যন্ত্রণার মুক্তি পেতে সন্তান সমানে থাকলেও মদ্যপান করে থাকেন। সন্তানের সামনে মদ্যপান বা ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা আপনার সন্তানের শারিরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ পরবর্তী জীবনে আপনার সন্তানও তা অনুসরণ করতে পারে।

 

 

 

 

 

অতিরিক্ত আদর ও শাসন:

বাবা-মা সন্তানদেরকে অতিরিক্ত আদর করা অভ্যাসটা যেমন খুবই খারাপ তেমনি অতিরিক্ত শাসন করাটাও খুব ভালো অভ্যাস নয়। সন্তানকে খুব ভালোবাসেন তাই তার সব জিদ পূরণ করছেন এতে ভবিষ্যতে তাকে আয়ত্তে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

 

 

 

 

 

আবার অতিরিক্ত শাসন করা অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে। শাসন করতে হবে ঠিক আছে কিন্তু অতিরিক্ত শাসনে সন্তানের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে।

 

 

 

 

 

নিজের সন্তানই ঠিক:

অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানের ভুল কখনোই চোখে দেখেন না কিংবা ভুল করলেও ভাবতে পারেন না। দেখা গেলো আপনার সন্তান বাহিরে কোনো অন্যায় করেছে, এখন কেউ একজন বাবা-মাকে বিচার দিতে এলে তারা সন্তানের সামনেই বলে তাদের সন্তান কোনো অন্যায় করেনি। এতে সন্তান আরো প্রশ্রয় পেয়ে যাবে।

 

 

 

 

 

ছেলে-মেয়ের অসমতা:

অনেক বাবা-মা আছেন যারা তাদের সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই বিপরীত লিঙ্গের শিশুর সঙ্গে মিশতে দেয় না। সারাক্ষণ সন্তানকে বলতে থাকে ‘ছেলেরা এমন করে না’, ‘মেয়েদের এটা করতে নেই’।

 

 

 

 

অনেক সময় জোরপূর্বক একসঙ্গে খেলাধূলা করা, আড্ডা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই অভ্যাসগুলো সন্তানের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।শাস্তি দেওয়ার কথা বলে না দেওয়া:

 

 

 

 

 

 

অনেক অভিভাবক এমন অভ্যাস রয়েছে যারা সবসময় যে কোনো কথাতেই সন্তানদের শাস্তি দেওয়ার কথা বলে কিন্তু পরে আর দেয় না। যেমন- ‘আজ থেকে তোমার আইসক্রিম খাওয়া বন্ধ’, তুমি আমার কথা না শুনলে তোমাকে আর কার্টুন দেখতে দেব না।

 

 

 

 

 

‘পরীক্ষায় অধিক নাম্বার না পেলে তোমার খেলতে যাওয়া বন্ধ’। এসব অযাথা হুমকী সন্তানরা একসময় বুঝতে পারে। তখন তাদের যা ইচ্ছা তাই করে যায়। পরবর্তী হুমকি আর কাজে লাগে না।

 

 

 

 

 

উচ্চস্বরে করে কথা বলা:

অনেক অভিভাবকই চিৎকার করে কথা বলার অভ্যাস রয়েছে। সন্তানের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলার অভ্যাস থাকলে সন্তান পরবর্তীতে কোনো কথা শুনবেই না। বরং আপনার সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট হবে।