শহিদুল ইসলাম কবির। একজন লেখক, সাংবাদিক এবং সম্পাদক। এক সময় ছাত্র রাজনীতি করতেন। এখন কৃষক মজুরদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম কাউন্সিল নামে একটা সংগঠন করেছেন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ইসলামের পক্ষে সংগঠিত করতে তিনি দীর্ঘ দিন ওই

 

 

 

সংগঠনের ব্যানারে কাজ করেন। তার সাথে আমার বন্ধুত্ব বেশ পুরনো। মাঝে মধ্যে তিনি আমাকে রাজনীতির বিভিন্ন তত্ত¡-উপাত্ত পাঠান। আমি সেগুলো বেশ মনোযোগ সহকারে দেখি। এইতো কদিন আগে একটা ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলছেন, যদি কোনো দল নির্বাচনে না আসে এর দায় দায়িত্ব ওই রাজনৈতিক দলকেই নিতে। খুব সম্ভব ১৫ ফেব্রæয়ারী বিএনপির এক দলীয় নির্বাচনের সময়ের ভিডিও ক্লিপ ওটি। ভিডিওটির সাথে তিনি ছোট্ট একটা মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন, বিএনপি কী নিজেদের খোড়া গর্তে নিজেরাই পড়লো?

 

 

ইসলামী কৃষক-মজুর আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কবির এক সাথে অনেক কাজ করেন। তার কাজ দেখেই বোঝা যায় তিনি একজন মেধাবী মানুষ। দেশের কৃষক-মজুরদের নিয়ে তিনি অনেক স্বপ্ন দেখেন। তাদের ন্যায্য অধিকার এবং মর্যাদা আদায়ের জন্য সংগ্রাম করছেন। আন্দোলন করছেন। ইসলামী কৃষক-মজুর আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১৫ দফা দাবী নিয়ে গণমানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। কৃষকের অধিকার মর্যাদা আদায়ের চেষ্টা করছেন। তাদের ১৫ দফা দাবীগুলো হলো- কৃষকের উৎপাদন ব্যয় পুষিয়ে নেয়ার স্বার্থে উন্নত সার, প্রয়োজনীয় সেচ ও উচ্চফলনশীল বীজ বিনামূল্যে দিতে হবে। কৃষি কাজে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষে বিনা সুদে সহজশর্তে কৃষকদের প্রয়োজনীয় ঋণ দিতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এলাকা ভিত্তিক কৃষি পণ্য উৎপাদন জোন প্রতিষ্ঠা করে কৃষি নির্ভর শিল্প

 

 

 

কারখানা গড়ে তুলতে হবে। কৃষি সরঞ্জমাদির মূল্য কমানো ও উৎপাদিত পণ্য ভোক্তার কাছে দ্রæত পৌঁছে দেয়ার লক্ষে পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ রাখতে হবে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রয়ের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কৃষিবান্ধব আমদানী নীতি প্রণয়ন করতে হবে। অনাবাদি খাস জমি দরিদ্র কৃষকদেরকে সহজশর্তে বরাদ্দ দিয়ে দরিদ্রতা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বীজ ও কীটনাশকের ভেজালের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কৃষকদের

 

 

 

চিকিৎসা ও তাদের সন্তানদের শিক্ষা এবং পরিবহন ব্যায় অর্ধেক করতে হবে। জাতীয় বাজেটে কৃষিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিতে হবে। কৃষক, কৃষি মজুরদের ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিমের’ আওতায় আনতে হবে। কৃষি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে অযথা হয়রানী বন্ধ করতে হবে, কৃষকের সুবিধার্থে ‘টাইম বার্ড’ আইন রহিত করতে হবে। কৃষকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকদের সম্মানিত নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।
ইসলামী কৃষক-মজুর আন্দোলনের যৌক্তিক দাবীগুলো আমাকে প্রভাবিত করেছে। একটা ঝাকুনি দিয়েছে। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও আমাদের কৃষকদের সাধারণ অধিকার এবং মর্যাদা আদায়ের জন্য দাবী জানাতে হয়। আন্দোলন করতে হয়। এর চেয়ে লজ্জার আর কী থাকতে পারে?
ইসলামী কৃষক-মজুর আন্দোলন এর দাবীগুলো প্রমাণ করে আমারা এখনো কল্যাণ রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারিনি। জনগণের সরকার, দেশপ্রেমিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। যা জাতীগত ভাবে আমাদের জন্য সত্যিই দূর্ভাগ্য জনক।