বাংলাদেশ ভবন চাই না আমি,
আমি আমার (বঙ্গবন্ধুর) নামে মিউজিয়ামও চাই না।
আমি তিস্তায় ন্যায্য পানি চাই।
এই বোকা মেয়ে, তুই ভবন-মিউজিয়াম বাদ দিয়ে পানি আদায় কর।
তিস্তার মানুষের কষ্ট আমার সহ্য হয় না রে মা। আহারে ! কি কষ্টই না করে তিস্তার জেলেরা। এক সময় তিস্তার তলদেশের বালু কণাগুলো আকাশের তারকা গোনে। আর বর্ষা এলেই বাধ খুলে দেয় ভারত। এতে গরিব কৃষকের লাগানো ধান/ফসল সব ডুবে যায়। তলিয়ে যায় বাড়ি-ঘর, আলান-পালান। মা হাসিনা, এ কি অবস্থা আমার তিস্তার সন্তানদের! ভালো লাগে যখন দেখি, প্রতিবেশির এমন আচরণে দিশেহারা যখন তিস্তা আর গঙ্গা পাড়ের মানুষগুলো তখন অন্য মানুষগুলো আর স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কমলমতি শিক্ষার্থীগুলো তাদের সাহায্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাতে। এটাই আমার সোনার বাংলা। ভাইয়ের বিপদে ভাই এগিয়ে আসে।

 

 

পানি শুন্য তিস্তায় জেলে আর কৃষকের বুক ফাটা কান্না আমার যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেয়রে মা। তুমি তো প্রায় দশ বছর দেশটার দায়িত্বে আছো, দেশের সন্তানদের দেখা শোনার দায়িত্ব পালন করে আসছো? কিন্তু তুমি দশ বছরেও তিস্তার পানি কেন আদায় করলে না? আর কত বছর চাও তুমি? সন্তানগুলোরে আর ধোকা দিও না। বাংলা মায়ের সন্তানদের তুমি চেনো না? আমিও কিন্তু বাংলা মায়ের সন্তান। আমাকে দেখ। আমি কেমন ছিলাম। আমরা মুক্তিযুদ্ধ কেন করেছিলাম? পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার মানুষদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বি ত করত। এদেশের সম্পদ পাকিস্তানে নিয়ে যেত।

 

 

 

কয়েক দিন হলো আমার কাছে নতুন একটা খবর এসেছে। তুমি না কি দেশের মাদক ব্যবসায়ীদের ক্রসফায়ার দিচ্ছো। কাজটা তুমি ভালো না কি খারাপ করছো তা আমি বলব না। তার আগে কিছু কথা তোমাকে বলা প্রয়োজন বলে মনে করছি। এদিকে এগিয়ে আস মা, এগিয়ে আস।

 

 

 

 

 

শোন, কথাগুলো কাউকে বলার আগে তুই নিজে চিন্তা করবি। ক্রসফায়ার কাদের দিচ্ছিস? তারা কি মাদক ব্যবসায়ী না কি মাদক উৎপাদনকারী ? যদি মাদক উৎপাদনকারী না হয়ে শুধু ব্যবসায়ী হয় তবে তাদের আগে তোর উৎপাদনকারীদের ধরতে হবে। শুনেছি অনেক ধরণের মাদক না কি এখন বাহির দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সিমান্তের বিভিন্ন দিক দিয়ে চুরাই পথে এগুলো আসে।

 

 

 

শোন মা, যারা আমদানি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আমদানি রোধ করতে পারলে কিন্তু গ্রাম্য বা শহুরে ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসার সুযোগ পাবে না। আর সাড়া দেশের মাদক ব্যবসায়ীদের চেয়ে আমদানি কারকের সংখ্যা স্বভাবতই কম হওয়ার কথা। সুতরাং আমদানিকারকদের থামানো তোর জন্য কষ্ট সাধ্য হলেও কার্যকর হবে।

 

 

 

 

 

 

আমদানি বন্ধ করার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে মাদক নির্মুল করা যাবে মনে হয়। বিষয়টা নিয়ে একলা একলা ভাববি আগে। শোন, তোর বাবার নাম শেখ মজিবুর রহমান। ‘বঙ্গবন্ধু’ মানুষে আমারে উপাধি হিসাবে দিয়েছে। যারা আমারে উপাধী দিয়েছিল আমার ইন্তেকালের পর কিন্তু তারা আমারে মাটি দেয় নাই। তাই বলি, উপাধীর দিকে বেশি খেয়াল না দিয়ে নিজের মূল নামের দিকে খেয়াল দে।

 

 

 

 

 

 

ও আরেকটা কথা, র‌্যাব-পুলিশের কিছু সোর্সরাও নাকি মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। চট্রগ্রামের হাবিবুর নামের একজন সাধারণ মানুষকে নাকি মারা হয়েছে শুনলাম। সোর্স মোশাররফ না কি ভুল তথ্য দিয়ে আসল হাবিবকে বাঁচিয়ে অন্য এক হাবিবকে প্রশাসনের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল ? বিষয়টা খুব স্পর্শকাতর মা। তুই ওই মৃত হাবিবুরের পরিবারের দায়িত্ব নিস।

 

 

 

 

 

 

বেশ কিছু দিন হলো আমার কানে কিছু ¯েøাগান ভেসে আসে। ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই। কি বৈষম্য রয়েছে আমার বাংলায়? তারা কি সত্য বলছে? বিষয়টা দেখ মা। ছাত্র জনতা বলে কথা। ছাত্রদের অবহেলা করতে নাই মা। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের মানুষ/চাকুরেরা অন্যায্য দাবি নিয়ে নামলেও সাড়া দেশের ছাত্রসমাজ একসাথে কোন ওযৌক্তিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারে না। ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’ এই ¯েøাগান আমার সহ্য হয় না।

 

 

 

 

 

শিশুরাও না কি আজ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে !! দেশের সমাজকে এভাবে বিষিয়ে তুলো না মা। ছোট্টো শিশুটিও কি আজ নিরাপদ নয়! পত্র-পত্রিকার শিরনামগুলো আমি নিয়মিত দেখার চেষ্টা করি। তোমার উন্নয়নের অনেক শিরনাম চোখে পরে। ইদানিং আমি খুব বিরক্ত বোধ করি কিছু শিরনাম দেখে।

 

 

 

 

 

 

সেদিন যুগান্তর নামে একটা পত্রিকায় গরুর খাবার (খড়) দিয়ে রাস্তা মেরামতের একটা শিরনাম দেখলাম। যুবলীগের কোন নেতা না কি কাজটা করছে! আল্লাহর দোহায় মা এসব তাড়াতাড়ি বন্ধ কর। এর আগে বাঁশ আর কি র শিরনামটাও খারাপ লাগছিল।

 

 

 

 

 

 

অনেক দিন পত্রিকা হাতে নিয়েই মনটা কষ্টে বিষিয়ে ওঠে। যখন দেখি গ্রামের স্কুলের সুন্দর মেয়েগুলো বখাটের দ্বারা ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। আবার দেখি মেধাবী মেয়েগুলো বখাটের দাপটে স্কুলে যেতে পারছে না। বেশি খারাপ লাগে কখন জানিস মা, যখন দেখি অনেক শিরনামে ধর্ষকের কোটায় আমার হাতে গড়া ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের নাম।

 

 

 

 

 

 

এসব খবরও কি সত্য? আমি তো বিশ্বাস করতে পারি না। তখন ওই পত্রিকা বাদ দিয়ে অন্য পত্রিকা দেখি। অন্য পত্রিকাতেও যখন একই শিরনাম দেখতে পাই তখন রাগ করে আর পত্রিকায় পরি না সে দিন। তুমি তো মায়ের জাত, মা হাসিনা। তনু/তনুর মাদের কষ্ট তুমিই তো আমার চেয়ে ভালো বুঝবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

এলোমেলো করে কিছু কথা বললাম। কথাগুলো গুছিয়ে বলার মতো আনন্দ মনে নেই। আমি কেমনে আনন্দে থাকি বল? প্রতিদিনের এত এত সব সংবাদ আমার মনটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। ভালো থাকিস মা। আজ আর না। তোর মা আর আমার কথা চিন্তা করে ভালো কিছু কাজ করিস। তাহলে আল্লাহ আমাদের শান্তি দিবে। তোর দোয়া ছাড়া আমার আর কোন উপার্জনের পথ খোলা নেই যে। দেশ চালানোর সময় অনেক ক্ষমতা ছিল আমার হাতে। কিন্তু পরপারে এসে সে সব ক্ষমতা কোন কাজেই আসে নাই। যতটুক ভালো কিছু করেছিলাম তাই একমাত্র সম্বল।

 

 

 

 

তুইও ভুল করিস না। পরপারে নেতা-ফকির কোন পার্থক্য নেই। কোরআন শরিফের ৩০ নম্বর পারার সূরা জিলজালের শেষের দিকের আয়াতে বলা হয়ে

 

 

 

 

 

ছে, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।’ এই আয়াতের তাফসির (ব্যাখ্যা) পড়িস। আল্লাহ যা কোরআনের বলেছে তার তিল পরিমাণও হেরফের হবে না কিন্তু। মরার পরে যা যা হবে বলে শুনেছিলাম, পরপারে এসে দেখি ঠিক তাই তাই হচ্ছে। সুতরাং সাবধান ! আমার এই কথাগুলো মানুষকে শুনাবি। এতে যদি মানুষ সামন্য কল্যাণের পথে আসে। এতে আমার আত্মা শান্তি পাবে।

 

 

 

 

 

 

মাঝে মাঝে আমার কবর জিয়ারত করতে যাও। আল্লাহ আমারে জানায়। আমার জন্য দোয়া-কালাম কিছু করলে সেটা আল্লাহ আমার কাছে দেয়। তোমার মায়ের জন্য আর ভাইদের জন্যও করবে। তবে দোয় কালাম ছাড়া আর যাই কর, কিছুই পাই না।

 

 

 

 

 

 

আমার কবরের পাশে এসে শুধু চুপচাপ দাড়িয়েই থেক না। মুখ ফুটে আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করো মা। আরো একবার তোমাকে অনুরোধ করছি, খালি হাতে এখানে এসো না। কিছু নিয়ে এসো। আর দেশবাসির কাছে আমার জন্য দোয়া কামনা করো।