প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     রক্ত না পেলে মেয়েটার জীবন বাঁচানো যাবে না। সেই রক্ত দিতে হবে দ্রুত। হাতে বিশেষ সময় নেই। এটা জেনেই আমার বন্ধুকে ফোন করি। জানাই, রোজা ভেঙে হলেও আমি রক্ত দেব। নিউটাউনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি শ্রীজিতা মণ্ডলের জন্য তাই আমি বুধবার রক্ত দিয়েছি।

 

 

 

 

 

আমার বাড়ি ঘানার রাজধানী আক্রায়। বাবা, মা এবং চার ভাইকে নিয়ে সংসার। ছোটবেলা থেকেই নিয়ম করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। রমজান মাসে রোজা রাখি। ২৫ বছরের জীবনে এই প্রথম রোজা ভাঙলাম। কিন্তু যে কারণে এমনটা করলাম, আমি নিশ্চিত, আল্লা সে জন্য আমায় আর্শীবাদই করবেন।

 

 

 

 

 

 

আমাদের পারিবারিক রেডিমেড পোশাকের ব্যবসা। বিবিএ পাশ করার পর সেই ব্যবসার সঙ্গেই যুক্ত আছি। ব্যবসা সংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি আমি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত। শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোম এবং হাসপাতালে যে রোগীরা রক্তের সংকটে পড়েন, আমরা তাঁদের রক্ত দিই।

 

 

 

 

মঙ্গলবার রাতে ওই সংস্থার অনুপম ভট্টাচার্যের পোস্ট থেকে জানতে পারি, নিউটাউনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শ্রীজিতা নামে এক রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁর অবিলম্বে ও পজিটিভ সিঙ্গল ডোনার প্লেটলেট প্রয়োজন। এরপরই অনুপম’দাকে ফোন করে জানাই, আমি রক্ত দিতে রাজি।

 

 

 

 

 

আমার কথা শুনে প্রথমেই অনুপম’দা রোজার প্রসঙ্গ তোলেন। তখন অনুপমদা’কে জানাই, আমি রোজা ভেঙেই রক্ত দেব। এদিন ব্যবসার কাজকর্ম সেরে বার হতে প্রায় বেলা ১০টা হয়ে গিয়েছিল।

 

 

 

 

 

তখনও কিছু খাওয়ার সুযোগ হয়নি। নিউটাউনে পৌঁছে প্রথম ডবল ডিম দিয়ে টোস্ট, দই এবং ফলের রস খাই। অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। এরপর রক্ত দিলাম। শ্রীজিতার পরিবারে সদস্যেরা কৃতজ্ঞতা জানালেন। অসম্ভব তৃপ্তি লাগছিল।

 

 

 

 

অনুপম’দা একদিন ফোনে বলছিলেন, আমাদের মেটিয়াবুরুজ এলাকাকে অনেকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বলেন। যদি আমার ভূমিকায় তাঁদের সেই ভুল ধারণা সামান্য বদলায়, ভাল লাগবে। পরিবারে প্রত্যেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলিম। আশা করি, তাঁরাও আনন্দই পাবেন।

 

 

(অনুলিখন: অর্ক ভাদুড়ি),