প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করলো চাচা ও ভাতিজা। কালিহাতী উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের আনছের আলী ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করার সময় ঘটনাটি দেখে ফেলে তারই আপন বড় ভাই মুনসব আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম।

 

 

 

 

 

পরে শরিফুল ঘটনাটি লোকজনের কাছে বলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। হত্যার ভয় দেখিয়ে ও কাউকে কিছু না বলতে ওই মেয়েকে নিষেধ করে দেয় আনছের আলী ও শরিফুল। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে চাচা-ভাতিজা প্রায়ই তাকে ধর্ষণ করতো। ধর্ষণের ফলে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে।

 

 

 

 

 

 

এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আদালতে আনছের আলী ও শরিফুলের নাম উল্লেখ করে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ওই স্কুল ছাত্রী।

 

 

 

 

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে শরিফুলকে আটক করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ। তবে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার মূলহোতা আনছের আলীকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

 

 

 

 

 

কালিহাতী উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে ভূঞাপুরের নিকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী একই গ্রামের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আনছের আলীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতো।

 

 

 

 

 

 

দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় ওই ছাত্রী পড়াশোনার ফাঁকে আনছের আলীর বাড়িতে কাজ করতো। বিনিময়ে দু’বেলা খাবার পেত। আনছের আলীর স্ত্রী অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করায় ওই বাড়িতে একাই থাকতো সে।

 

 

 

 

কিশোরীটি অন্তঃসত্বা হয়ে হবার কারণে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। জিজ্ঞসাবাদে সে সব কিছু খুলে বলে। বিষয়টি আনছের আলী জানার পর মেয়ের পরিবারকে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দেয়।

 

 

 

 

 

এ নিয়ে মেয়ের পিতা মেয়েকে নিয়ে আনছের আলীর বাড়িতে গেলে সে কয়েক দফা তাদের মারধর করে। আনছের আলী প্রভাবশালী হওয়ায় নীরবে সহ্য করে চলে আসে মেয়ে ও তার বাবা। এরই মধ্যে গর্ভপাত করানোর জন্য মেয়ের পরিবারকে চাপ দেয় আনছের আলী।

 

 

 

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় মেয়েটিকে টাঙ্গাইল মুন নার্সিং হোমে গর্ভপাত করানোর জন্য ভর্তি করা হয়। কিন্তু ৭ মাসের অন্তঃসত্তা হওয়ায় গাইনী ডাক্তার মালেকা শফি করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে আনছের আলীর বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

 

 

 

কালিহাতী থানা অফিসার ইনচার্জ মীর মোসারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং বলেন, আনছের আলীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।