আমি টানা ১১ বছর সাংবাদিকতা করেছি। এর মধ্যে ৫ বছরই ছিলাম ঢাকাতে একটি ইংলিশ ও একটি বাংলা পত্রিকায়। বাঁকি সময় অর্থাৎ ৬ বছর কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আমার নিজের সম্পাদিত পত্রিকা কৃষি কণ্ঠ তে কাজ করছি। অহঙ্কার নয়, খুব ভালো লাগা নিয়ে বলতে পারি এই ১১ বছ‌রে আমি কখনো ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকতা করিনি।

 

 

 

 

 

কোনটা নিউজ আর কোনটা নয়, আমি খুব সহজভাবে ভাবি। আমি হি‌সেব করি এই নিউজটা করলে দেশ, জাতি, সাধারণ মানুষ নিদেনপক্ষে কোন একজন মানুষের মঙ্গল হবে কী? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তবেই আমি নিউজটা করি। কখনো কোনদিনও ব্যক্তিগত হিংসা বিদ্বেষ থেকে কারো বিরুদ্ধে নিউজ করিনি।

 

 

 

 

 

বিভিন্ন নিউজ এর কারনে গালিগালাজ নিয়মিতই শুনতে হয়। এই গা‌লিগালাজকারীদের একটা বড় অংশই ছিলো সরকারি দলের লোকজন যারা অকারণেই গালি দেয়। কিন্তু খুব ভালো লাগা নিয়ে বলতে পারি ব্যক্তি মোঃ মাহ্‌বুব-উল- আহ্‌সান উল্লাস বা তাঁর কাজের জন্য কখনো গালি খেতে হয়নি।

 

 

 

 

ফেসবুকে আমার পত্রিকার নানা নিউজের নিচে প্রচুর গালিগালাজ থাকলেও আমার নিউজের ক্ষেত্রে এমনটা হতো না বললেই চলে। কথাগুলো বলার কারণ আমি আমার সাংবাদিকতা জীবনে কখনো টার্গেট করে কারো বিরুদ্ধে সাংবাদিকতা করিনি।

 

 

 

 

 

কতোজন কতো কথা ব‌লে‌ছে, ক‌তো কাগজপত্র দিয়ে গেছে কতোজনের বিরুদ্ধে কিন্তু যাচাই বাছাই না করে, প্রমাণ না নিয়ে কারো বিরুদ্ধে নিউজ লিখিনি। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে নিউজ গেছে তারাও পরে স্বীকার করেছে আমি তথ্য প্রমাণ নি‌য়ে ঠিক লিখেছি।

 

 

 

 

কথাগুলো বলছিলাম সেটা হ‌লো আমি আমার ১১ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে বারবার দেখেছি বিরাগ বা অনুরাগের বশবর্তী হয়ে আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছে যার থে‌কে আমি মুক্ত থাকার চেষ্টা ক‌রে‌ছি।

 

 

 

 

কোন কর্মকর্তা বা কেউ খারাপ ব্যবহার কর‌লে অ‌নেক সাংবা‌দিক‌কে বল‌তে শু‌নে‌ছি আপনা‌কে দে‌খে নেব। এক্ষেত্রে ছোট ছোট পত্রিকা বা অনলাইগুলোর সাংবাদিকরা বেশি এগিয়ে।

 

 

 

 

এদেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোর মালিক বা সম্পাদক‌দের অনেকেই ব্যস্ত নিজেদের ধান্দায়। তারা এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে নিউজ করায় নানা স্বার্থে।

 

 

 

 

এসব পত্রিকার অনেক সাংবাদিকের কাজই হ‌লো মালিকের এসব স্বার্থ রক্ষা করা। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে এমন কিছু সাংবাদিক গড়ে ওঠে যারা মালিক সম্পাদকদের ফরমায়েশি এসব সংবাদ তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। তাদের কাজ কাউকে টার্গেট করে নিউজ করা। সেটা কখ‌নো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

 

 

 

 

 

আজকাল দেখছি ব্যক্তি টার্গেট করে নিউজের সংখ্যা বাড়‌ছে। ওহে সাংবাদিক ভাইয়েরা কেউ খারাপ করলে অবশ্যই নিউজ করবেন কিন্তু ‌তি‌নি যখন ভালো ক‌রেন তখন কেন সেটা সযত্ন‌ে এড়াবেন? তার মানে কী এই আপনারা কারও প্রতি রাগ বা ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে শুধুই তার নিউজ করছেন। এটা তো কখ‌নোই সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে যায় না।

 

 

 

 

শুরু‌তে বলেছি আমি মোঃ মাহ্‌বুব-উল- আহ্‌সান উল্লাস আমার ১১ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে কখনো কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে টার্গেট করে নেমে নিউজ করিনি।

 

 

 

 

আমার সাংবাদিক বন্ধুদের কাছেও আমার অনুরোধ কখনো নি‌জের বা মা‌লিক সম্পাদ‌কের স্বার্থ উদ্ধারে কারো প্রতি অনুরাগ বিরাগ থেকে সাংবাদিকতা করবেন না। আমরা সাংবাদিকরা যদি ব্যক্তিগত রাগ অনুরাগের বাইরে বের না হতে পারি তবে প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিবিদ কারো সমালোচনা করা আমাদের শোভা পায় না।

 

 

 

শুধু সাংবাদিক নয় বিচারক পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ জনপ্রতিনিধি সবার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। এই পেশার মানুষগু‌লো রাগ অনুরাগ বিরাগ বা কা‌রো স্বা‌র্থে কাজ কর‌লে দেশ ধ্বংস হ‌বেই।

 

 

 

 

শেষ করছি হযরত আলী (রাঃ) এর ঘটনা দিয়ে। কোন এক যুদ্ধে কোন এক কাফরেকে হত্যার জন্য তিনি তলোয়ার বের করেছেন। এমন সময় ওই কাফের হযরত আলীর মুখে থুথু দিলেন।

 

 

 

 

হযরত আলী তখন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেন। তবে তিনি তার ত‌লোয়ার না চা‌লি‌য়ে থে‌মে গে‌লেন। বাকি সাহাবিরা কারণ জানতে চাইলে হযরত আলী বললেন আমি তাকে হত্যা করলে সেটা ইসলাম বা যুদ্ধের জন্য হতো না। সেটা হতো ব্যক্তি আলীর ক্ষোভ রাগ।

 

 

 

 

 

আমি সেখান থেকে নিজেকে সংযত করেছি। কারণ আমি আমার স্বা‌র্থে ইসলা‌মের না‌মে কাউ‌কে হত্যা কর‌তে পা‌রি না।
আমার মনে হয় সাংবাদিক, পুলিশ, বিচারক, শিক্ষক, ডাক্তারসহ, আমরা যে যে পেশায় আছি আমরা যেন ব্যক্তিগত রাগ অনুরাগ থেকে দূরে থেকে কাজ ক‌রি। তবেই আসবে পেশাদারিত্ব।

 

 

 

 

 

এগিয়ে যাবে রাষ্ট্র সমাজ, দেশ। নয়তো, সব‌কিছুই এক‌দিন নষ্ট‌দের দখ‌লে যা‌বে। তার দায় আপ‌নি আমি কেউ এড়া‌তে পারবো না।

 

 

 

 

 

মোঃ মাহ্‌বুব-উল- আহ্‌সান উল্লাস

সম্পাদক, কৃষি কণ্ঠ