মাদক নির্মূলে মরিয়া সরকার। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতি রাতেই মাদক ব্যবসায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে। এ নিয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গত ২৩ দিনে ৪০ প্রায় জন নিহত হয়েছে।

 

 

 

 

গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সাড়াশি অভিযানে সাধারণ মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও গডফাদাররা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে অভিযানও চালানো হয়নি।

 

 

 

 

এদিকে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে তা দমন করছে- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এ ধরনের ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।

 

 

 

 

 

মরণনেশা ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। বয়স্ক মাদক সেবনকারী ছাড়াও টিনেজাররা ইয়াবা সেবন করে উচ্ছন্নে যাচ্ছে।

 

 

 

 

মাদক সেবনের কারণে অনেক পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক পরিবারের তরুণ সদস্য মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালায়। আবার কেউ নেশার টাকা জোগাড়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক ভারসাম্য।

 

 

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে, অবাধে সমাজে মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা এবং মাদকের চোরাচালান হচ্ছে। কিন্তু মাদক নির্মূলে সরকারের তরফ থেকে বড় ধরনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

 

 

 

 

 

মাঝে মাঝে পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে নামলেও তা রহস্যজনক কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয় না; সফলও হয় না। এছাড়া মাদক ব্যবসার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ ওঠে। সরকারের গোপন তদন্তে এর প্রমাণও পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

 

এসব প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের নির্দেশে এবারই প্রথম পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক নির্মূলে আটঘাট বেঁধে নেমেছে। তবে কয়েক দিন যেতে না যেতেই অভিযোগ উঠেছে, এ অভিযানে শুধু চুনুপুঁটিদের ধরা হচ্ছে, গডফাদারদের নয়।

 

 

 

 

মাদক ব্যবসায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যারা সারাদেশে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তাদের গায়ে কোন আচরও পড়ছে না। তবে দু’একটি স্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের দু’একজন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

 

গডফাদাররা সামাজিক প্রতিপত্তি রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে মাদক ব্যবসা নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালের বাইরে থেকে যায়।

 

 

 

 

 

এসব ক্ষমতাধররা নানা কৌশলে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য আমদানি ও দেশের ভিতরে বিভিন্ন স্থানে পাচার করে। প্রাইভেটকার, ট্রাক, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন এবং নদীপথে অহরহ মাদক পাচার করা হচ্ছে। গত ২২ দিনে বন্দুকযুদ্ধে যারা মারা গেছে তাদের সবাই তৃণমূল পর্যায়ের ও ছোট ব্যবসায়ী।

 

 

 

 

মোঃ মাহ্‌বুব-উল- আহ্‌সান উল্লাস
সম্পাদক, কৃষি কণ্ঠ