প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণী গৃহবধূ জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা। তার বিশাল চিঠিটি সংক্ষেপে এই রকম।

 

 

 

“আমার বিয়ে হয় ১৬ বছর বয়সে, স্বামীর বয়স তখন ৪০। এখন আমার বয়স ২২, আমার ৫ বছরের একটি ছেলে আছে। বিয়ে বয়েছে ৬ বছর, কিন্ত স্বামীর সাথে ৬ মাসও থাকিনি। উনি বিদেশে থাকেন।

 

 

 

 

উনি বয়স্ক, প্রথম থেকেই আমার উনাকে ভালো লাগত না। মা বাবার চাপে সংসার করতে বাধ্য হই। ৩ বছর আগে ফেসবুকে একটি ছেলের সাথে পরিচয় হয়, আমরা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলি।

 

 

 

 

 

কিন্ত আমদের সম্পর্কের ব্যাপারটা আমার শ্বশুরবাড়িতে জেনে যায়। আমি ওর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম, সেখান থেকেই সমস্যা। আমি গত ১ বছর যাবত বাপের বাড়িতে আছি।

 

 

 

 

বাবার বাড়িতে আমাকে প্রচণ্ড পাহাড়া দিয়ে রাখে। আমার কোন স্বাধীনতা নাই। আমার প্রেমিক আমাকে খুব ভালোবাসে। আমিও ওকে। আমি সব ছেড়ে ওর কাছে চলে যেতে চাই।

 

 

 

 

যখন বাচ্চাটার কথা মনে হয়, তখন খব কষ্ট হয়। কিন্তু আমি তারপরও সব ছেড়ে স্বার্থপরের মত চলে যেতে চাই। আমি এই বিয়েতে সুখী না আর অসুখী হয়ে আমি বাকি জীবন কাটাতে পারব না।

 

 

 

 

 

আমার প্রেমিক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে , ওর লেখাপড়া এখনো শেষ হয়নি। তারপরও আমার মনে হয় কষ্ট হলেও সে আমাকে ভালো রাখবে।

 

 

 

 

 

এদিকে আমার স্বামী খুব শীঘ্রই দেশে আসছে। আমি তার আগেই প্রেমিকের সাথে চলে যেতে চাই। বুঝতে পারছি না কী করবো… ”

 

 

 

 

পরামর্শ:

আপু, প্রথম অন্যায়টা আপনার মা বাবা করেছেন। ছেলে বিদেশে থাকে বলেই এত কমবয়সী একটা মেয়েকে ৪০ বছরের মধ্য বয়স্ক পুরুষের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। লেখাপড়া শেষ করার আগে আপনাকে বিয়ে দিয়ে প্রচণ্ড অন্যায় করেছেন তারা।

 

 

 

 

একই সাথে আপনার স্বামী অন্যায় করেছেন এত কম বয়সে আপনাকে মা বানিয়ে। যখন সন্তান হয়, আপনি নিজেই তো তখন শিশু!!

 

 

 

 

 

 

যাই হোক, জীবনটি আপনার এবং এখন আপনি প্রাপ্ত বয়স্ক। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত আপনার নিজেকেই নিতে হবে। আপনি যেহেতু প্রেমিকের সাথে চলে যাবার সিদ্দান্ত নিয়েই ফেলেছেন, সেহেতু আমার কিছু বলার নেই।

 

 

 

 

 

তবে হ্যাঁ, এটুক বলবো যে সব দিক দেখেসুনে পা ফেলবেন। তাছাড়া সন্তানের কথাটিও আপনাকে ভাবতে হবে।

 

 

 

 

 

 

প্রেমিকের সাথে হুট করে চলে যাওয়াটা চূড়ান্ত পর্যায়ে না গেলে করবেন না। প্রথমে দেখুন, পারিবারিক ভাবে কিছু করা যায় কিনা। আপনার স্বামীকে যেহেতু আপনি ভালোবাসেন না, প্রথমে দেখুন তাঁকে ডিভোর্স দিতে পারেন কিনা।

 

 

 

 

 

ভালোবাসা না থাকলে আপনাদের দুজনের জীবনই তো নষ্ট হচ্ছে। তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে প্রেমিককে পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত আপনার যে আপনি কী করবেন। নিজের পরিবারকে আপনিই ভালো চেনেন।

 

 

 

 

 

তবে হ্যাঁ, কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে প্রেমিকের সাথে খুব ভালো করে কথা বলে নিন। সে কি আসলেই আপনাকে জীবন সঙ্গী করতে চায়? আপনি ডিভোর্সি হলে বা স্বামীর ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার পরিবার কি আপনাকে মেনে নেবে?

 

 

 

 

 

আপনারা কীভাবে চলবেন? পরিবারের উপার্জন উৎস কী হবে? প্রেমিক কি আপনার সন্তান সহ আপনাকে গ্রহণ করতে পারবে? এছাড়াও প্রেমিকের সাথে চলে যাওয়ার পর থানা পুলিশ সহ নানান রকম সমস্যা হবে, সেটা কীভাবে মোকাবেলা করবেন আপনারা সেটাও ভেবে রাখুন।

 

 

 

 

 

স্বামীকে তালাক অবশ্য দিতে হবে। সেটা এক তরফাও দিতে পারেন। সেটার জন্য কোন ভালো উকিল, কাজী সাহেব বা মহিলা পরিষদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

 

 

 

 

ঠাণ্ডা মাথায় জীবনের সিদ্ধান্ত নেবেন আপু, এটাই বিশেষ অনুরোধ।