প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      জাঁকজমকভাবে পারিবারিক পছন্দে বিয়ে করেছিলেন সুজিত এলিয়াস গোলু। কিন্তু কয়েকদিন পরই জানতে পারেন স্ত্রীর আগের সম্পর্কের কথা। বিয়ের আগে অন্য এক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার স্ত্রীর। তাকে সুজিতের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল জোর করে। এখনও ভালোবাসার মানুষটিকে ভুলতেই পারেননি তিনি।

 

 

 

 

 

এমন ঘটনা জেনে বেশিরভাগ মানুষেরই যেখানে ক্ষোভে ফেটে পড়ার কথা, তবে সুজিত জন্ম দিলেন নতুন ঘটনার। স্বেচ্ছায় স্ত্রীকে তার প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

 

ভারতের কানপুরের চাকেরি জেলার সনিগ্বোয়ান গ্রামে ঘটেছে এই অদ্ভূত ঘটনা। গত বুধবার সুজিত এলিয়াস গোলু নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী শান্তির সঙ্গে প্রেমিক রবির বিয়ে দেন।

 

 

 

 

সনিগ্বোয়ান বাসিন্দা সুজিত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখে শ্যামনগরের শান্তিকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু দু’সপ্তাহ শ্বশুরবাড়িতে থাকার পরে শান্তি বাপের বাড়ি ফিরে আসে।

 

 

 

 

কিন্তু তার পরে অনেকদিন পর্যন্ত শান্তির কোনও খোঁজ না পাওয়ায় সুজিত স্ত্রীকে বাড়ি না ফেরার কারণ জিজ্ঞেস করেন। স্ত্রী প্রথমে সোজাসুজি কোনও উত্তর দিতে না চাইলেও পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান সুজিতের সঙ্গে বিয়েতে একেবারেই রাজি ছিলেন না তিনি।

 

 

 

 

 

 

বাড়ির লোকজন জোর করে সুজিতের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়েছে। লখনৌ-এর গোসাইনগঞ্জ নিবাসী রবির সঙ্গে অনেকদিন ধরেই প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ শান্তি। কিন্তু জোর করে সুজিতের সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় তার কিছুই করার ছিল না।

 

 

 

 

সুজিত স্বাভাবিকভাবেই খুব বিচলিত হয়ে পড়েন শান্তির অতীত কাহিনী শুনে। এর পরে তিনি শান্তির প্রেমিক রবির সঙ্গে দেখা করেন এবং রবির মুখ থেকেও একই কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেন শেষ পর্যন্ত রবি আর শান্তির বিয়ে দিতে পারলেই তিনি নিজেও সুখে থাকবেন।

 

 

 

 

 

জানা যায়, সম্পূর্ণ ঘটনাটি তিনি চাকেরি থানার পুলিশকে জানান। এর পরে গত বুধবার চাকেরি জেলার সনিগ্বোয়ানের একটি হনুমান মন্দিরে তারা পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। এই বিরল ঘটনার সাক্ষী ছিলেন বহু মানুষ। সবাই সুজিতের সিদ্ধান্তে খুশি হয়ে তাকে আশীর্বাদ করেন।

 

 

 

 

 

চাকেরি থানার পুলিশ জানান, সুজিতের এই সিদ্ধান্ত ভীষণই উদার ও মিষ্টি। মানুষ ওকে মনে রাখবে।