প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   কলেজ জীবনে আমার ক্লাসমেট একটা মেয়ের সাথে প্রেম হয়। দুজনেই পরস্পরকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসত। বিয়ে করার ব্যাপারেও আমদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলো। তবে বিয়ের আগে আমরা কখনই শারীরিক সম্পর্ক করবো না এমনটাই ভাবতাম। কিন্তু যখন আমাদের সহজে বিয়ে হচ্ছে না, বা বিয়ে না হওয়া

 

 

 

 

 

পর্যন্ত শারীরিক চাহিদার তীব্রতাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তাহলে আমরা শারীরিক সম্পর্ক করেই ফেলি- দুজনে এই কথায় একমত হয়ে প্রথমে বিভিন্ন পার্কে, অবশেষে খুলনায় এক আবাসিক হোটেলে উঠে তিন দিন উদ্দাম আদিমতায় মেতে উঠি আমরা। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার চান্স হয় এবং সেখানে ভর্তি হই। আর ও গ্রামের এক ডিগ্রী কলেজেই থেকে যায়।

 

 

 

 

 

এরপর একদিন জেলা শহরে তার সাথে পার্কে আপত্তিকর অবস্থায় এক পরিচিত লোক দেখে ফেলে। সেই খবর বাড়িতে গেলে বাব মা খুব রাগারাগি করে। আর বলে, যদি আমাকে চাস তাহলে ঐ মেয়ের সাথে সম্পর্ক নষ্ট কর। ফিল্মে অনেক দেখেছি কিন্তু বাস্তবেও এমন ঘটবে তা ছিল আমার অকল্পনীয়।

 

 

 

 

 

 

কিন্তু আমার প্রেমিকা লিমা এমনি নাছোরবান্দা যে, আমার বাবার এমন কঠোর হুশিয়ারি সত্ত্বেও আমার বউ হতে এক পায়ে খাড়া। বহুবার নিষেধ করার পরেও সে আমাকে সকাল সন্ধ্যা ফোন দিত। কিন্তু আমি তার ফোন রিসিভ করতাম না। করলেও তাকে বুঝিয়ে বলতাম আমাদের সর্ম্পক ম-বাবা মেনে নিবেন না। এভাবে ১বছর অতিবাহিত হয়। এরপর অন্য জায়গায় তার বিয়ে হয়।

 

 

 

 

 

আর তখন থেকেই একবারের জন্যও তার ফোন রিসিভ করিনা। তবুও সে প্রায় প্রতিদিন দু-একবার করে কল করত ও মেসেজ পাঠাত। আমি শুধু তার একটা মেসেজের উত্তর দিয়েছি “এখন তুমি অন্যের স্ত্রী, আমার সাথে তোমার কথা বলা মোটেও উচিত নয়। আমরা শারীরিক মেলামেশা করেছি, ভুল করেছি। এখন আর বড় ভুল করতে চাই না। এমন করলে তোমার স্বামীর হক নষ্ট করা হবে। কারন তিনি তো কোন অপরাধ করেন নি, তাকে কেনই বা শাস্তি পেতে হবে।

 

 

 

 

 

 

ভাবলাম ম্যাসেজে কাজ হবে। কিন্তু না, বরং সে আমাকে বললো যে আমি তোমার চেয়ে কম বুঝিনা। একবার তোমার ঠিকানা পেলে সোজা তোমার বুকে হামলে পড়তাম। বিশ্বাস করুন, আমি তার স্বামীর কথা চিন্তা করে এখন পর্যন্ত তার ফোন রিসিভ করি না।

 

 

 

 

 

কিন্তু আর কতদিন পারবো ফোন রিসিভ না করে থাকতে। ও তো ফোন দিয়েই যাচ্ছে। এমন একটি সম্পর্কে জড়িয়ে গুরতর অন্যায় করেছি। আর সে ভুল করতে চাই না। কিন্তু তার বারবার ফোন দেয়া আমার দৃঢ়তাকে শঙ্কার সম্মুখীন করে তুলছে। এমতাবস্থায় পরকীয়া থেকে বাঁচতে আমার করণীয় কি ? দয়া করে জানাবেন।

 

 

 

 

 

পরামর্শঃ আপনারা কেউই নির্দোষ না। আপনি শুধু মেয়েটিকে দোষারোপ করে চিঠি লিখেছেন, কিন্তু দোষ কি আপনার নেই? আপনার সাথে পার্কে গিয়েছে বলে মেয়েটিকে আপনার বাবা নষ্টা বলেছেন। তাহলে তো আপনিও খারাপ। কারণ মেয়েটিকে তো আপনিই পার্কে নিয়ে গিয়েছেন।

 

 

 

 

 

 

মেয়েটিকে ভালোবাসার ওয়াদা করেছেন আবার শারীরিক সম্পর্কও করেছেন। তারপর পরিবারে একটু ঝড় দেখা দিতেই লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন.. এটা কেমন ভালোবাসা ? যখন একটি মেয়ের সাথে আপনি এমন ধরণের প্রতারণা করলেন, তখন কোথায় ছিল আপনার এই ভালোমানুষি? আশা রাখবো, ভবিষ্যতে এমন রাস্তায় পা বাড়ানোর আগে বার-বার ভেবে নেবেন।

 

 

 

 

 

মেয়েটি আরেক জনের স্ত্রী হবার পর আর ফোন রিসিভ করছেন না, অবশ্য এই কাজটি খুব ভালো করেছেন। কিন্তু আপনি চাইলেই তার ফোন নম্বর ব্লক করে রাখতে পারেন। অথবা সিম বদল করতে পারেন।

 

 

 

 

 

 

 

আপনি যদি সিম বদল করেন তাহলে মেয়েটি হয়ত আপনাকে আর খুঁজে পাবে না। একই সাথে মেয়েটিকে সাফ জানিয়ে দিন যে যদি এভাবেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে থাক তাহলে আপনি অতীত সম্পর্কের সকল প্রমাণ সহ তার স্বামীকে সব কিছু জানিয়ে দেবেন। তাহলে মেয়েটি ভয় পেয়ে আপনার পথ থেকে নিজেই সরে যাবে।