প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    বাংলাদেশের খ্যতিমান একজন অভিনেত্রী গুলশান আরা চম্পা। এক সময় চলচ্চিত্রে অভিনয় করার তার তেমন আগ্রহ ছিল না। তার ইচ্ছে ছিল একজন নামকরা মডেল হওয়ার। চম্পার দুই বোন সুচন্দা ও ববিতা এর মাঝে চলচ্চিত্রে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন।

 

 

 

 

 

অনেকেই তখন বলতে লাগলো তার হয়ত তেমন একটা অভিনয় প্রতিভা নেই। ফলে এই কথাগুলো চম্পার মনে প্রচন্ড রকমের জেদ তৈরি করে। সেই জেদ থেকেই নাম লেখালেন অভিনয়ে।

 

 

 

 

 

সর্বপ্রথম চম্পা ‘ডুব সাঁতার’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করে সবাইকে তার উপস্থিতি জানান দেন। তারপর প্রখ্যাত পরিচালক শিবলী সাদিকের ‘তিনকন্যা’ ছবিতে অভিনয় করেন।

 

 

 

 

গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্র ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মাপের কাজ। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর চম্পা ‘লাল দরজা’ ‘টার্গেট’ ‘লটারী, ‘কাশেম মালার প্রেম’ ‘শংখনীল কারাগার’ ‘মনের মানুষ’সহ অসংখ্যা জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

 

 

 

 

 

 

চম্পা নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো সীমার মধ্যে আবদ্ধ না রেখে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান। রোমান্টিক, অ্যাকশন সব ধরনের ছবিতেই তিনি সমানতালে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। নিজের অভিনয় প্রতিভা দিয়েই পাঁচবার অর্জন করে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

 

 

 

 

 

বাংলাদেশের গুণী এই অভিনেত্রী মাঝখানে সিনেমাতে বিরতি দিলেও এখন আবার নতুন নতুন ছবিতে অভিনয় করে যাচ্ছেন। চম্পা বলেন, ‘অভিনয় ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা মাথায় আসে না।

 

 

 

 

সম্প্রতি অনেকগুলো ছবিতে কাজ করেছি। সামনে আরও কিছু ছবির কাজ আছে। জাজের ‘প্রেম আমার টু’তে অভিনয় করছি। এইতো সব মিলে ভালো আছি।’

 

 

 

 

 

চম্পা ইতিমধ্যে ‘নীল ফড়িং’ ‘পদ্মপূরাণ’ ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নামে কয়েকটি চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন। ঈদের পর রোকেয়া প্রাচীর একটি ধারাবাহিকের কাজ শুরু করবেন বলে জানান।

 

 

 

 

 

এবারের ঈদ নিয়ে রয়েছে চম্পার ভিষণ ব্যস্ততা। এই প্রথম তিনি তার মেয়েকে নিয়ে টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমার মেয়েকে নিয়ে ঈদের একটি অনুষ্ঠানে কাজ করলাম। খুব ভালো লাগছে। এছাড়া আরও কয়েকটি সেলেব্রিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। সবমিলে ঈদকে উপভোগ করছি।’

 

 

 

 

 

এবারের ঈদ কিভাবে উদযাপন করবেন জানতে চাইলে চম্পা বলেন, এখনকার ঈদে তেমন আনন্দ পাই না। ছোট বেলার ঈদ ছিল অনেক মজার। সেখানে কোনো টেনশন ছিল না।

 

 

 

 

 

ছিল না বাড়তি কোনো ঝামেলা। সবাই ঘুরতাম আড্ডা দিতাম। সেই ঈদের সঙ্গে এই ঈদের কোনো তুলনাই হয় না। এখন টেনশন বেশী। এখন আনন্দটা একটু কম। সবাইকে শুধু দিতে হয়।

 

 

 

 

 

 

এবারের ঈদ কাদের সঙ্গে কাটাবেন? চম্পা বলেন, আমার দুই বোন সুচন্দা ও ববিতার সঙ্গে এবারের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবো। আমাদের তিন বোনের সম্পর্কটা অনেক চমৎকার।

 

 

 

 

 

 

 

এক সঙ্গে আমরা অনেক আনন্দ করি, মজা করি। তবে ঈদের পরপরই আমি ব্যাংকক যাবো। আমার পরিবারের সবাই বিদেশে থাকে। ঈদের পর আমিও কিছু সময়ের জন্য যাচ্ছি তাদের সঙ্গে মিলিত হতে। উৎস: একুশে টেলিভিশন