প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় ‘ভারত’ প্রসঙ্গে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। গতরাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

 

 

 

 

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, গাজীপুর সিটি নির্বাচন এবং তিন সিটি নির্বাচনে কৌশল নির্ধারণের জন্য এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকে তিন নেতার ভারত সফর এবং মির্জা ফখরুলের লন্ডন সফর নিয়েই আলোচনা হয় বেশি।

 

 

 

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৈঠকে বলেছেন, ‘ভারত সফর নিয়ে আমরা অন্ধকারে কেন? কি আলোচনা সেখানে হয়েছে তা জানা প্রয়োজন।’

 

 

 

 

 

 

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘ভারত বিরোধী অবস্থান থেকে সরে এলে, বিএনপি আর বিএনপি থাকবে না, এটা আওয়ামী লীগের বি টিম হয়ে যাবে।’

 

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘এই সফর নিয়ে এত লুকোচুরি কেন?’ অবশ্য বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তিন নেতার ভারত সফরে দলের নীতি ও আদর্শের কোনো বিচ্যুতি হয়নি। মূলত: সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি এবং ভারতকে বাংলাদেশের জনগণের মনোভাব বোঝানোর জন্য এই সফরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

 

 

 

 

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, `ভারতই একমাত্র পারে বর্তমান সরকারের উপরে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চাপ সৃষ্টি করতে।` অবশ্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, `ভারতের সঙ্গে দেন-দরবার না করে বরং আন্দোলন করলেই ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। এতে ভারতও বিএনপিকে ভয় পাবে।`

 

 

 

 

 

 

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুলের লন্ডন সফর নিয়েও কথা হয়। যেখানে বিএনপি মহাসচিব তারেক জিয়ার সঙ্গে দুই দফা দীর্ঘ বৈঠক করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক সাহেব আন্দোলন এবং নির্বাচনের ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

 

 

 

 

 

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বৈঠকের বিস্তারিত শুনতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব কথা বলা যায় না।’ তবে তিনি বলেন, ‘সামনে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হবে, যেখানে সহজেই আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।