প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এমপি ঈদ উদযাপনের জন্য গিয়েছিলেন ফরিদপুরে। নিজ নির্বাচনী এলাকায় পাঁচদিন অবস্থানকালে এলাকার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, মতবিনিময় এবং এলাকার জনগণের সঙ্গে গণসংযোগও করেছেন।

 

 

 

 

 

পাঁচদিন এলাকায় অবস্থান করে তিনি এখন ঢাকায়। শুধু আবদুর রহমান এমপিই নন, আওয়ামী লীগের অন্যান্য এমপি, মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা যারা ঈদ উদযাপন করতে দেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা সবাই এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

 

 

 

 

 

বর্তমানে সংসদ অধিবেশন চলছে। এছাড়া দুদিন পরই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। তখন তৃণমূলের নেতারাও চলে আসবেন ঢাকায়। ফলে কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী ও এমপিদের আর এলাকায় থাকার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

 

 

দুয়ারে কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা গিয়েছিলেন নিজ নিজ এলাকায়।

 

 

 

 

 

যারা ঈদে বাড়ি যাননি তারা ঈদের আগে গিয়ে বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে অংশ নিয়েছেন। তারা এলাকার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, মতবিনিময় ছাড়াও আলাপ-আলোচনা, দলের সাংগঠনিক অবস্থাসহ আসছে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গণসংযোগও করেছেন।

 

 

 

 

 

কেউ কেউ এলাকায় ঈদের সুযোগে দলীয় কোন্দলও নিরসন করেছেন। অনেকে নেতাকর্মীদের মান ভাঙিয়েছেন। আবার অনেকে এটাকে জনগণের কাছে যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সাধ্য মতো মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। অনেকে কাছের নেতাকর্মীদের মাঝে উপহারসামগ্রীও বিতরণ করেছেন।

 

 

 

 

 

নির্বাচনের সময় তৃণমূল নেতারা যেন তাদের পক্ষে কাজ করেন- সে বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন অনেকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ঈদ করেছেন।

 

 

 

 

 

কোম্পানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন তিনি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ঈদ করেছেন নিজ নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠিতে। সেখানে তিনি গরীব-দুস্থদের মাঝে জাকাত দিয়েছেন।

 

 

 

 

 

উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও ঈদ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকা ভোলায়। তিনিও ছুটির দিনগুলোতে এলাকায় গিয়ে ঈদের সামগ্রী বিতরণ এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এসেছেন।

 

 

 

 

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ ঈদ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরে। গত ১০ দিন তিনি এলাকায় অবস্থান করেছেন। ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরেছেন।

 

 

 

 

 

সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন তার গ্রামের বাড়িতে ঈদ করেছেন। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে ঈদ করেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীরাও এলাকায় গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে ঢাকায় ফিরেছেন।

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এমপি এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে জানান, ফরিদপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে।

 

 

 

 

তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও কথা বলেছি। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছি এলাকার নেতাকর্মীদের। তারা ইতোমধ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য মাঠে নেমে গেছে।

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, শুধু ঈদ নয়, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এলাকায় যাই এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলি। সুখে-দুখে এলাকার মানুষের পাশে আছি। আগামীতেও তাদের পাশে থাকব।

 

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম প্রায়ই এলাকাতে পড়ে থাকেন। ঈদেও তিনি এলাকাতে ছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদের আগেও এলাকায় ছিলাম। নেতাকর্মীদের দেয়া বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে অংশ নিয়েছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি।

 

 

 

 

 

 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কর্মীরা মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।