প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব ধরনের প্রচারকাজ রোববার (২৪ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে।

 

 

 

 

আগামী ২৬ মে অনুষ্ঠিত হবে এই সিটির নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থীরা।

 

 

 

 

তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বড় বড় নেতারা। তাদের ভিড়ে এখন গাজীপুরে উত্তুঙ্গ প্রচার, প্রচারণায় নতুন গতি, উজ্জীবিত মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে গাজীপুরের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা।

 

 

 

 

শেষ মুহূর্তের প্রচারণার ব্যস্ততায় যেন নাওয়া-খাওয়াও ভুলে গেছেন প্রার্থী-নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থকরা। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমানতালে চলছে প্রচার-প্রচারণা।

 

 

 

 

 

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সর্বত্রই নির্বাচনী আমেজ। মাইকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে বিরতিহীন প্রচারণার শব্দে রাস্তায় কান পাতা দায়। পোস্টারে পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে শহরের রাজপথ ও অলিগলি।

 

 

 

 

শেষ সময়ের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থী-সমর্থকরা। শনিবার খুব সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন অলিতে গলিতে প্রচারণা চালায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

 

 

 

 

 

বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও দলে দলে ভাগ হয়ে গণসংযোগ চালান। গণসংযোগে অসংখ্য নারী কর্মীর অংশগ্রহণও লক্ষণীয়।

 

 

 

 

 

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।

 

 

 

 

এরই মধ্যে ভোটের বাক্স, ব্যালট পেপারসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র গাজীপুরে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ।

 

 

 

 

 

ইতোমধ্যে ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা ৩৩৭টি কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য এরই মধ্যে গাজীপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও ব্যস্ত। তাদেরও দম ফেলার ফুরসত নেই।

 

 

 

 

 

নগরজুড়ে কেবলই প্রার্থীদের পোস্টার, চলছে মাইকিং। নানা ধরনের গান বেঁধে চলছে প্রার্থীদের প্রচার। এতে গাজীপুরবাসীর কান অনেকটা ঝালাপালা হওয়ার উপক্রম।

 

 

 

 

গাজীপুরে কর্মরত শ্রমিক ভোটাররাও বাসে, ট্রেনে করে জড়ো হচ্ছেন। ভোটের আগে তাদের কর্মস্থলে আনার জন্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও চলছে জোর তৎপরতা।

 

 

 

 

গাজীপুর সিটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

 

 

 

 

নির্বাচনী কর্মকর্তা আসাদুল হক জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রতি তিন কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

 

 

 

 

 

এ ছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একজন করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

 

 

 

 

 

 

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৫ জুন রাত ১২টা থেকে ২৬ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটির নির্বাচনী এলাকায় (মহাসড়ক ব্যতীত) বেবিট্যাক্সি, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ ভ্যান, বাস, ট্রাক, টেম্পো, ইজিবাইক এবং নৌপথে লঞ্চ, ইঞ্জিনবোট, স্পিডবোটসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া আজ ২৪ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের পরের দিন অর্থাৎ ২৭ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।