প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    মানুষকে সম্পদ ও ক্ষমতা দেওয়ার মালিক আল্লাহ। আল্লাহর এই কৃপাকে যারা মানুষের কল্যাণের বদলে অকল্যাণে ব্যবহার করে, যারা নিজেদের ক্ষমতার দর্প দেখায় তাদের পরিণাম ভালো হতে পারে না।

 

 

 

 

 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন : ‘অনন্তর তারা যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়-সম্পদের জন্য খুশিতে তন্ময় হয়ে পড়ল, আমি তখন তাদেরকে অকস্মাৎ ধৃত করলাম। অতঃপর অত্যাচারীদের সমূলে উৎপাটিত করা হলো।’

 

 

 

 

 

 

এখানে অকস্মাৎ ধৃত করার অর্থ-তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আজাব তাদেরকে গ্রাস করে ফেলে, যা তারা কল্পনাও করেনি। হজরত উক্বা বিন আমের (রা.) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : যখন দেখা যায়, আল্লাহ কোনো বান্দাকে তার কাম্য বিষয়সমূহ দিয়েই যাচ্ছেন, অথচ সে আল্লাহর অবাধ্যাচারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত, এ অবস্থায় বুঝে নিতে হবে, তাকে কেবল কিছু সময়ের অবকাশ দেওয়া হচ্ছে-তার ওপর শাস্তি এলো বলে।

 

 

 

 

 

-তাবারানী। উপরোক্ত হাদিসে স্পষ্টত তাগিদ দেওয়া হয়েছে বান্দার উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃপার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
যে পথে তিনি সন্তুষ্ট সেই পথে চলা বান্দার কর্তব্য হওয়া উচিত। এর অন্যথা হলে তার ওপর আল্লাহর শাস্তি অনিবার্য হয়ে উঠবে।

 

 

 

 

 

 

এক আসার (সাহাবির উক্তি) হাদিসে আছে, ইবলিস শয়তান ফেরেশতাদের পর্যায়ভুক্ত হয়েও যখন আল্লাহপাকের ক্রোধের অনলে আৎদাহুতি দিল, তখন হজরত জিবরাইল ও মিকাইল ফেরেশতাদ্বয় কাঁদতে শুরু করে দিলেন।

 

 

 

 

 

আল্লাহপাক জানতে চাইলেন, তোমাদের হয়েছে কী, কাঁদছ কেন? তারা জওয়াব দিলেন ‘ইয়া পরওয়ারদেগার! তোমার পরীক্ষার ভয়ে আমরা তটস্থ।

 

 

 

 

অনন্তর আল্লাহ বললেন : ‘তোমরা আমার ভয়ে এভাবে বিচলিত অবস্থাতেই থাক, আমার পরীক্ষার ব্যাপারে নিরুদ্বিগ্ন হইও না।’ আর এক হাদিসে আছে, রসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন : হে অন্তর আবর্তনকারী! আমাদের অন্তরসমূহ তোমার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখ।’

 

 

 

 

 

 

 

অনন্তর রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সমীপে নিবেদন জানানো হলো : ইয়া রসুলুল্লাহ! আপনি কি আমাদের ঈমানের ব্যাপারে ভীত-শংকিত?’ রসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করলেন : ‘অন্তঃকরণসমূহ আল্লাহপাকের দুই আঙ্গুলের আয়ত্তাধীন, তিনি যখন যেভাবে ইচ্ছা করেন সেগুলো আবর্তিত করেন।