জাফরিনা ইসলাম: এক বিন্দু রক্ত থেকে তিল তিল করে বেড়ে ওঠা সন্তানটি যখন মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীর বুকে আসে, তখন সন্তানটি কান্না করে। মায়ের বুকে খুঁজে নেয় নিরাপদ আশ্রয়স্থল। গুটি গুটি পা পা করে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। হঠাৎই দেখা যায় কিছু বিকৃত রুচির ভন্ড অমানুষের কামনার দৃষ্টি পড়ে আপনার সন্তানটির দিকে। আপনার চিন্তা শক্তির বাইরেই হয়তো সেই নরপিশাচরা।

 

 

 

 

কাকে বিশ্বাস করবেন? যাকে মনে হচ্ছে মানুষ, তার ভিতরেও আছে পশুত্ব মনোভাব। সবার দৃষ্টির আড়ালে আকস্মিক একটা ছোবল। অনেকটা শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেবার মতো।

 

 

 

 

 

আপনি যদি নিজ কানে শোনেন, আপনার সন্তান আপনাকেই বলছে আম্মু, আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। কি করবেন আপনি? তদন্ত করবেন? কার বিরুদ্ধে? ধনী ক্ষমতাবান ঐ নরপিশাচদের বিরুদ্ধে? এরাও কিন্তু সমাজেরই একজন, তাই নিশ্চুপ হয়ে আপাতত আছি।

 

 

 

 

দুঃখজনক হলেও এটাই বাস্তব আমরা প্রকাশ করতে পারি না কারণ আমাদের সমাজের মানুষগুলোর কাছে অসম্মানিত বা সমালোচনার ঝড় হবে আমার/আপনার সন্তান তা কখনোই কিন্তু আমাদেন কাম্য নয়। তবে, এ দেশে শিশু-নারী নির্যাতনের আইন আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগ কতোখানি?

 

 

 

 

 

আইন তো প্রমাণ ছাড়া নির্বাক। সেক্ষেত্রে আপনি কি করবেন? আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিচারকের স্থানে আপনিই বসলেন। শাস্তি আপনি নিজে দিবেন? কিন্তু, এখানেও বিপত্তি! কারণ, তখন সংবাদপত্র থেকে মিডিয়াতে সর্বত্র চলবে বিস্তারিত তদন্তের ঝড় ( মিথ্য বা সত্য)… আরেক টাকার খেলা।

 

 

 

 

 

এ পৃথিবীর সকল বাবা-মাকে যদি প্রশ্ন করা হয় আপনি হলে এ ক্ষেত্রে কি করতেন? নিরপেক্ষতার সাথে যদি বিবেক তাড়িত হয় তখন অবশ্যই আপনি বলবেন জ্বী, আমি হলেও একই কাজটি জনসম্মুখেই করতাম নরপিশাচ নিধন। এদেশের আইন তাদেরই পক্ষে যায় যাদের অবস্থান সমাজের সম্মানিত স্তরে।

 

 

 

 

তাই, যে যাই বলুক আইন কিন্তু তখন রায় দিয়ে বলবে আপনি পাগল, তাই আপনার কথা মূ্ল্যহীন এবং অযৌক্তিক প্রমাণিত হওয়াতে সম্মানিত নরপিশাচকে বেকসুর খালাস দিলাম। তখন বলতে দ্বিধাবোধ হবে না সেলুকাস বাংলাদেশ…।

 

 

 

 

 

 

পরিশেষে বলি বাংলাদেশটাকে ভালোবাসি কিন্তু এদেশের মাটিতে কবর হলেও কবরের ভিতর থেকে নিরব আর্তনাদের কন্ঠে আল্লাহর আরশ না কাঁপলেও, বাড়ীর ইটগুলো খসে খসে পড়বে একদিন।

 

 

 

 

 

আমি একজন মা হয়ে পৃথিবীর সকল মায়েদের কাছে প্রশ্ন একটাই নরপিশাচরা নিধন হলে আপনি/আপনারা কি খুশি হবেন নাকি প্রশ্ন তুলবেন আইন কেনো নিজের হাতে তুলে নিলেন? চলুন, আমরা মাদক নিধনের মতো নরপিশাচ/ধর্ষক নিধন করি।

 

 

 

 

 

মানুষরুপি অমানুষ নরপিশাচদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। একটি নরপিশাচ নিধন মানে পাঁচটি শিশুর নিরাপদ জীবন।

 

 

 

 

 

সবাই সোচ্চার হয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করুন ধর্ষকের নিধন আজ ঠিক এই মুহূর্ত থেকেই শুরু হোক।

 

 

লেখিকা: জাফরিনা ইসলাম