প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কঠিন সব শারীরিক কসরত দেখিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে চলছে পিরোজপুরের ছেলে রাফি।

 

 

 

 

এখান থেকে অর্জিত টাকা দিয়েই চলছে তাদের সংসার। অভাবের তাড়নায় মাত্র সাত বছর বয়সেই রাফিকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। এখন তার বয়স ১০ বছর।

 

 

 

 

পিরোজপুর জেলা সদরের পিটিআই সড়কের একটি ঝুপড়িঘরে মাকে নিয়ে বসবাস করছে রাফি। তার জন্মের পরই বাবা ইদ্রিস খান আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছেন।

 

 

 

 

 

অভাবের কারণে একমাত্র শিশুসন্তানকে খাদ্য-বস্ত্র-শিক্ষা কোনোটাই সঠিকভাবে দিতে পারেননি মা রোকেয়া বেগম। তাই সাত বছর বয়সেই রাফিকে কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। শহরের একজন ডেকোরেটরের শ্রমিক একদিন তাকে সার্কাস দেখাতে নিয়ে যায়।

 

 

 

 

 

সার্কাসের শারীরিক কসরত তার ভালো লাগে। সার্কাসদল পিরোজপুর থাকা অবস্থায় প্রত্যেক দিন সেখানে যেতে থাকে রাফি। ছোট্ট শিশুর মায়াভরা মুখ দেখে সার্কাসদলের সদস্যরা তাকে শারীরিক কসরতের হাতেখড়ি দেয়।

 

 

 

 

 

এরপর নিজেই শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাঁকিয়ে-মুড়িয়ে অভিনব সব কৌশল প্রদর্শন করা শিখে নেয়। সেই থেকে যেখানেই লোক সমাগম বেশি বা সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, সেখানেই ছুটে যায় রাফি।

 

 

 

 

 

রাফি বলে, ‘আমি ভিক্ষা করি না। কষ্ট করে টাকা ইনকাম করি। এগুলো শিখতে আমার খুব কষ্ট অইছে। খেলা দেখাবার পর মাঝেমধ্যে মাথাডা ঘোরে, খারাপ লাগে। তবে খেলা দেইখ্যা কেউ প্রশংসা করলে খুশি লাগে।’