প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকরা। কারণ আর বলার বাকি রাখে না।

 

 

 

 

শিরোপা জয় থেকে এক ধাপ দূরে রয়েছে তারা। ইংল্যান্ডকে হারানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটির সর্বস্তরের জনগণ ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবসহ প্রায় সব শহরেই আনন্দ মিছিল আর নাচ-গানের মাধ্যমে ফাইনালে ওঠার আনন্দ উদযাপন করেন।

 

 

 

 

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা জার্মানিকে হয়তো শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়নি বিশ্বের জনপ্রিয় এই দলগুলো।

 

 

 

 

গ্রæপ পর্বে জার্মানির বিদায়, দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল চলতি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে অবাক হয়ে পড়ে ফুটবল ভক্তরা। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলগুলোকে পেছনে ফেলে ক্রোয়েশিয়া যে ফাইনাল খেলবে এ কথাও হয়তো কেউ ভাবেনি।

 

 

 

 

 

কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে লুকা মড্রিচরা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রাশিয়ার লুজনিয়াকি ফুটবল স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে জøাতকো ড্যালিচের শিষ্যরা।

 

 

 

 

ম্যাচের শুরুতেই কাইরন ট্রিপারের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেয়া দুর্দান্ত এক শটে গোল হলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ১৯৬৬ সালের শিরোপাজয়ী ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ২৩ মিনিটে প্যারিসিকের করা গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। নির্ধারিত সময়ে ফলাফল সমতায় থাকলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

 

 

 

 

 

ম্যাচের ১১০ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড মানজুকিচ গোল করলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় জ্লাতকো ড্যালিচের শিষ্যদের। এ জয়ের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে লুকা মড্রিচরা।

 

 

 

 

 

আর এই খুশিতে মেতে ওঠেন ক্রোয়েশিয়ান জনগণ। মধ্যরাত পর্যন্ত দেশটির রাজধানী জাগরেবসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে ম্যাচশেষে আনন্দ মিছিলে নেমে পড়ে সর্বস্তরের জনগণ।

 

 

 

 

 

সেই সঙ্গে নাচ আর গানে মেতে ওঠে কিশোর-কিশোরীরা। এতে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় প্রাপ্ত বয়স্করাও। কেউ কেউ রাস্তায় হেঁটে-হেঁটে আনন্দ উদযাপন করেন। কেউ কেউ আবার গাড়ি নিয়ে আনন্দ মিছিলে অংশ নেন।

 

 

 

 

এ দিন ম্যাচ শুরুর আগে দেশটির প্রতিটি শহরে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানী জাগরেবের মধ্যবর্তী এক জায়গায় খেলা দেখার জন্য প্রায় দশ হাজার লোক উপস্থিত হয়। ম্যাচে গোল হলেই দেশের পতাকা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা মনে করিয়ে দেন সমর্থকরা।

 

 

 

 

 

আগামী রবিবার রাশিয়ার লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামে ফের একবার মাঠে নামবে মড্রিচ-মানজুকিচরা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এ দিন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল দিদিয়ের দেশ্যামের শিষ্যরা।

 

 

 

 

 

শক্তিমত্তার বিচারে ফাইনালে ওঠা দুদলের মধ্যে কাউকেই এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না। নিজ যোগ্যতায় প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া। আর ফরাসিরা এবার তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলবে।

 

 

 

 

এর আগে ১৯৯৮ সালে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠেছিল সেবারের স্বাগতিকরা। ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশ্যাম সেবার ফ্রান্সের স্কোয়াডে ছিলেন।

 

 

 

 

 

ফাইনালে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় ফরাসিরা। এরপর ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বার মতো ফের একবার ফাইনালে ওঠে দেশ্যামের দল। সেবারে টাইব্রেকারে ইতালির বিপক্ষে ৫-৩ গোলে হেরে যায় জিদানরা।

 

 

 

 

রাশিয়া বিশ্বকাপে এবার তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে হুগো লোরিস বাহিনী। অ্যান্তোনি গ্রিজম্যান এবং লুকা মড্রিচরা তাদের ফর্ম ধরে রাখতে পারলে রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হবে দিদিয়ের দেশ্যামের শিষ্যরা।

 

 

 

 

 

এদিকে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসটা ততটা সমৃদ্ধ নয়। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয়ার সুযোগ পায় দলটি। তবে সেবার প্রথমবার খেলতে এসেই বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ক্রোয়েটরা। স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হারলে শিরোপা জেতা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

 

 

এরপর তিনটি বিশ্বকাপ খেললেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরের কথা, গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি। তবে এবার সুযোগ এসেছে অধরা শিরোপা নিজেদের ঘরে তোলার। রাশিয়ার লুজনিয়াকি ফুটবল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে হারাতে পারলেই প্রথম শিরোপা জিততে সক্ষম হবে জ্লাতকো দালিচের শিষ্যরা।