প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      কার হাত বেশি বিশ্বস্ত এবার? ফের্নান্দো মুসলেরা জানেন এই ‘বিশ্বস্ত’ কথার মানেটা কী। কোয়ার্টার ফাইনালে আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান যে শটটা নিয়েছিলেন তা তো অনেকটা চোখ বন্ধ করেই ধরে ফেলার কথা তাঁর।

 

 

 

 

কিন্তু সেদিন চিরবিশ্বস্ত হাত দুটিই কেমন অচেনা হয়ে গেল! কিংবা দাভিদ দে গেয়া—এই টুর্নামেন্টের আগে সোনার গ্লাভসের প্রতিযোগিতা হলে অনেকে তো তাঁর হাতেই তুলে দিতেন সেটি। কিন্তু বিশ্বকাপে সেই তিনিই হলেন হাসির পাত্র।

 

 

 

 

 

গোল্ডেন গ্লাভসের লড়াইয়ের আলোচনায় এই ব্যর্থদের নাম আসছে থিবো কর্তোয়া, উগো লরি, জর্ডান পিকফোর্ড আর সুবাসিচদের কীর্তি বোঝাতেই। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেই লরি ক্যাসারেসের যে হেডটি ফিরিয়ে দিয়েছেন ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে, মুসলেরার ভুলের বিপরীতে সেটিই হয়ে গিয়েছিল ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স।

 

 

 

 

এরপর সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগকে রুখে দিয়ে সোনার গ্লাভস জেতার লড়াইয়ে তিনি এখন হট ফেভারিট। কর্তোয়া ফাইনালে ওঠেননি, কিন্তু তাঁর সম্ভাবনাও প্রবল।

 

 

 

 

 

ফেভারিটদের মধ্যে তাঁর সেভই যে সবচেয়ে বেশি, ২২টি। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন যে শেষ আটে থেমে গেল, তাতেও বড় প্রতিরোধটা ছিল এই বেলজিয়ান গোলরক্ষকের। ম্যাচ শেষে কোচ তিতেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।

 

 

 

 

আজ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও তাঁর একটি সুযোগ থাকছে। তবে কোচ বেঞ্চের কাউকে সুযোগ দিলে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পারফরম্যান্সেই লড়তে হবে তাঁকে লঁরি সুবাসিচদের সঙ্গে।

 

 

 

ফাইনালটা টাইব্রেকারে গেলে সোনার গ্লাভসটা সুবাসিচকেই হয়তো দিতে হবে। শেষ ষোলো, এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল, ক্রোয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুটি টাইব্রেকার জয়ের নায়কই যে তিনি।

 

 

 

 

ডেনমার্কের বিপক্ষে ৩-২-এ জেতা শ্যুট-আউটে প্রতিপক্ষের তিনটি শটই ফিরিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার ইগর আকিনফেভ নায়ক বনেছিলেন স্পেনকে বিদায় করে।

 

 

 

 

 

পা দিয়ে ইয়োগো আসপাসের শেষ শট ফেরানোর পর সেই পা ‘ফুট অব গড’-এরও খেতাব পেয়ে যায়। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালের শ্যুট-আউটে আকিনফেভের হার সুবাসিচের কাছে। সেমিফাইনালেও পোস্ট অক্ষত রেখে শিরোপা ট্রফির পাশাপাশি এখন সোনালি গ্লাভসের স্বপ্নও নিশ্চয় তাঁর চোখে।

 

 

 

 

ইংলিশদের আশা শেষ পর্যন্ত মিথ্যে হয়ে গেছে এ আসরে। বেঁচে আছে হ্যারি কেইনের সোনার বুট জয়ের স্বপ্ন, কেউ কেউ জর্ডান পিকফোর্ডকেও ফেভারিট মানছেন সোনার গ্লাভস জয়ে।

 

 

 

 

জো হার্টের জুতায় পা গলিয়ে ২৪ বছর বয়সী পিকফোর্ডের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল এই বিশ্বকাপ। তাঁর উচ্চতা নিয়েও কেউ কেউ কটু কথা বলেছেন। কিন্তু পিকফোর্ড তাঁদের দাঁতভাঙা জবাবই দিয়েছেন।

 

 

 

 

 

ইংলিশদের এত দিনের টাইব্রেকার দুঃস্বপ্ন উড়িয়ে দিয়েছেন তো তিনি তাঁর ওই বিশ্বস্ত হাত দুটি দিয়েই। সোনার গ্লাভসের লড়াইটাও এবার তাই সহজ নয়।

 

 

 

সূত্র: ফিফা ডট কম