প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুই মামলায় ৫ দিন করে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ বুধবার তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

 

 

এর আগে ৮ জুলাই রাশেদ খানকে দুই মামলায় ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। রাশেদকে ১ জুলাই রাজধানীর ভাষানটেক থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত রাশেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

 

 

 

 

রাশেদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি করেন ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান। এজাহারে বলা হয়, গত ২৭ জুন রাত ৮টা ৮ মিনিটে রাশেদ খান ফেসবুক লাইভে মিথ্যা, মানহানিকর ও নাশকতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। কিছু বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে প্রধানমন্ত্রীর মানহানিকর ছিল।

 

 

 

 

 

 

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় রাশেদ সম্পর্কে পুলিশ আদালতকে বলেছে, রাশেদের ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিকাশ, রকেটের মাধ্যমে টাকার লেনদেন হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালতকে জানান, রাশেদের হিসাবে সাত লাখ টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

 

 

রাশেদের আইনজীবী জায়েদুর রহমান আদালতকে জানান, এ টাকা কোনো ব্যবসায়ী দেননি। ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা এ টাকা দিয়েছেন। কেউ দিয়েছেন ১০০ টাকা, কেউবা ৫০০ টাকা। ব্যানার, ফেস্টুন, মাইকের ভাড়া বাবদ খরচ চালানোর জন্য এ টাকা দিয়েছেন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা।

 

 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের হামলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা মামলাতেও রাশেদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। রাশেদের বাবা নবাই বিশ্বাস পেশায় রাজমিস্ত্রি। মা সালেহা বেগম গৃহিণী।

 

 

 

 

 

রাশেদের বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন বছর আগে ভিটেবাড়ি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে ছেলের লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছি। চেয়েছিলাম, ছেলে লেখাপড়া শেষ করে ভালো একটা চাকরি ধরবে। অথচ ছেলে তাঁর জেলে।

 

 

 

 

 

 

সুহেলকে পরীক্ষা দিতে অনুমতি
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়ক এ পি এম সুহেলকে কারাগারে থেকে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এ আদেশ দেন।

 

 

 

 

গত বৃহস্পতিবার শান্তিনগরের চামেলীবাগে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লাকি আক্তারের বাসা থেকে পুলিশ সুহেলকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত সূত্র বলছে, সুহেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। কারাগার থেকে পরীক্ষার দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে আদালত তাঁকে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেন।

 

 

 

 

 

 

সুহেলের ওপর গত ২৩ মে বিকেলে বাংলাবাজার সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে থাকা সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে হামলা হয়। সেখান থেকে তাঁকে আহত অবস্থায় প্রথমে ধূপখোলার আসগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।