প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালী বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দেয়া ও অসদাচরণ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি, গ্রেফতার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে রংপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল মিঞাকে বুধবার রাত ১২টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।

 

 

 

 

 

আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রংপুরের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি বশির আহমেদের সাথে সাক্ষাত করে তারা এই আল্টিমেটাম দেন। এদিকে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের সময়কার একটি ছবিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে।

 

 

 

 

 

দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ ও মহানগর সেক্রেটারী তুষারকান্তি মন্ডল, ছাত্রলীগ মহানগর সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী রংপুর ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে বাবুল মিঞার অপসারণের জন্য বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আসেন। পরে তারা দাবি বাস্তবায়নে ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি বশির আহমদের সাথে সাক্ষাত করেন।

 

 

 

 

সাক্ষাত শেষে মহানগর আওয়ামীলীগ সেক্রেটারী তুষারকান্তি মন্ডল সাংবাদিকদের জানান, এক এগারোর সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে অবৈধভাবে গ্রেফতারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রংপুর কোতয়ালী থানার বর্তমান ওসি বাবুল মিঞা। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ও তথ্য প্রমান আমরা ডিআইজিকে দিয়েছি।

 

 

 

 

 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা রংপুরের পুত্রবধু। সজিব ওয়াজেদ জয় রংপুরের সন্তান। রংপুর আওয়ামীলীগের ঘাঁটি। সেকারনে তার মতো একজন ওসিকে আমরা আর রংপুরের মাটিতে দেখতে চাই না। আমরা ডিআইজিকে আল্টিমেটাম দিয়েছি বুধবার রাত ১২টার মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি আমাদের আশ্বস্থ করেছেন ১২টার মধ্যেই ব্যবস্থা নিবেন। ব্যবস্থা নেয়া না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।

 

 

 

 

 

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, এই ওসির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিময়, দুর্নীতি, ঘুষগ্রহণ, আসামিকে ধরে এনে ছেড়ে দিয়ে আর্থিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ আমরা করে এসেছিলাম। তিনদিন আগেই রংপুর পলিটেকনিক থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা শিবির কর্মীকে ধরে থানায় দিলে রাতে ওসি তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এরকম অনেক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছিল। যেহেতু তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেহেতু আমরা তাকে রংপুরে দেখতে চাই না।

 

 

 

 

 

এ ব্যপারে ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি বশির আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, আজ বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। তারা কোতয়ালী থানার ওসির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ, অভিযোগের স্বপক্ষে কিছু ছবিসহ বিভিন্ন প্রমাণপত্র দিয়েছেন।

 

 

 

 

আমি সাথে সাথেই এসপিকে সেই অভিযোগের সব কিছু বলেছি ও নির্দেশ দিয়েছি এসব ভেরিফাই করার জন্য। ভেরিফাই করার পর যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তিনি যদি আইনবহির্ভূত কাজ করেন, তিনি যদি ক্ষমতার অপপ্যবহার করে থাকেন, অনিয়ম, দুর্নীতি করে থাকেন। তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

বুধবার রাত ১২টার মধ্যেই প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এসপিকে ভেরিফাই করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভেরিফাইয়ের পরেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

 

 

 

সার্বিক বিষয়ে রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিঞা সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার সময়ে আমাকে ঘিরে কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। ছবিটির সত্যতা থাকলেও যে ভাষায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে তা আদৌ সত্য তথ্যনির্ভর নয়।

 

 

 

 

 

ওসি জানান, আমি ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ডিউটিতে তার দেহরক্ষী হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৭ সালেও ঢাকা কোর্টে তার নিরাপত্তায় আমরা নিয়োজিত ছিলাম।

 

 

 

 

 

 

তিনি আরো জানান, ২০০১ সালে তার বাবা, চাচা ও ভাইয়েরা জামায়াতের মামলায় আসামি হয়েছিলেন। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিলো তার পরিবারকে ঘিরে। তার বড় ভাই ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং বর্তমানে ছোট ভাই ছাত্রলীগের থানা সেক্রেটারি।

 

 

 

 

ওসি বাবুল মিঞা আরও জানান, ২০১১ সালে বর্তমান সরকার আমাকে পদোন্নতি দিয়ে উত্তরা এবং সবুজবাগ থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা তোফায়েল আহাম্মেদ, উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী, পংকজ দেবনাথ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবের হোসেন চৌধুরী, শেখ হেলাল উদ্দিন আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন ও জানেন। আমি দায়িত্ব পালনে কখনোই অবহেলা করিনি। বর্তমানে রংপুরে সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছি।

 

 

 

 

 

 

কি ছিল সেই ফেসবুক পোস্টে:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৫৪ মিনিটে খন্দকার মিলন (Khandokar Milon) নামের একটি আইডিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের দৃশ্যে রংপুর কোতয়ালী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার (ওসি) ছবি সংবলিত একটি পোস্ট দেয়া হয়। ওই পোস্টে লেখা হয় ‘২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারে অংশগ্রহণ করা এই পুলিশ কর্মকর্তা এখন রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল আকতার। চেনা যায় কি!’ সূত্রঃ AHR ।

 

 

 

 

 

 

পোস্টটি ভাইরাল হবার সাথে সাথেই নানান মতের মানুষ বিভিন্ন মত প্রকাশ করতে থাকেন। বিষয়টি নজরে নিয়ে কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিঞা (OC Kotowaly PS Rangpur) আইডিতে ওই পোস্টের বিপরীতে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। এ ঘটনার ১২ ঘন্টার পরই রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ওসি বাবুল মিঞাকে প্রত্যাহারে ১২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলো।