প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       একজন অসুস্থ মানসিকতার সাম্প্রদায়িক মানুষকে কেন দেশে-বিদেশে হিরো বানানোর সব আয়োজন সম্পন্ন হলো? এই হামলা আর এই রক্ত কিন্তু মাহমুদুর রহমানের পাপের পাহাড়কে ধুয়ে দিতে পারে। এখন তিনি সবার সহানুভূতি পাবেন।

 

 

 

 

 

ছাত্রলীগ কেন সরকারের এত বড় ক্ষতি করল, আমার মাথায় ঢোকে না। দুপুরে ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে বললেন, ছাত্রলীগের বাড়াবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত।

 

 

 

 

 

তার কিছুক্ষণ পরই ছাত্রলীগ মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে বুঝিয়ে দিল, তারা আসলে কারও নিয়ন্ত্রণে নয়। তারা যা ইচ্ছা, তাই করতে পারে।

 

 

 

 

 

 

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা এবং তার রক্তাক্ত ছবি দেখে অনেকে উল্লসিত হয়েছেন। অনেকে হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে বলছেন, এটা তার পাওনা ছিল, এত কম মারল কেন, পিটিয়ে মেরে ফেলল না কেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

 

 

 

 

শুনে আমি শঙ্কিত হয়েছি। আমাদের মনে আইন হাতে তুলে নেয়ার এমন উদগ্র আকাঙ্খা লুকিয়ে আছে, একজন মানুষের রক্ত দেখে খুশি হওয়ার মত নিষ্ঠুরতা আমরা বয়ে চলি; এটাই আমার শঙ্কার মূল কারণ।

 

 

 

 

 

 

চোখের বদলে চোখ নিলে তো দেশটা অন্ধে ভরে যাবে। আজ মাহমুদুর রহমান যে হামলার মুখে পড়েছেন, ভবিষ্যতে তো আপনিও তেমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।

 

 

 

 

যে দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতিও প্রতিহিংসা দেখানো হয়নি, সে দেশে ভিন্নমতের একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলার প্রকাশ্য সুপারিশ ফেসবুকে করা যায়, এটা অবিশ্বাস্য।

 

 

 

 

 

সবাই যদি এভাবে আইন হাতে তুলে নেয় বা নিতে উৎসাহ দেয়; তাহলে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। সবাই ভাববে দেশে আইনের শাসন নেই। আপনারা কি সেটাই চান?

 

 

 

 

 

অনেকে হামলাকারীদের বীর হিসেবে অভিহিত করছেন। অন্য কেউ মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালাতে পারেনি, কুষ্টিয়া পেরেছে। আইন হাতে তুলে নেয়া অন্যায়।

 

 

 

 

তবু বিরোধী দলে থেকে এ ধরনের কিছু করলে না হয় আপনি আড়ালে-আবডালে হলেও তাদের সাহসের প্রশংসা করতে পারতেন। কিন্তু, নিজেদের দল ক্ষমতায় থাকলে, পুলিশ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকলে এ ধরনের অপকর্ম করতে সাহস লাগে না। এটা সাহসের ব্যাপার না, সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

 

 

 

 

কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি তো মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এখন তার আদালতের ওপর আস্থা রাখা উচিত ছিল। নিজেই যদি হামলা করে শাস্তি দিয়ে দেবেন, তাহলে আর মামলা করলেন কেন?

 

 

 

 

আমি চাই মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। তার বিরুদ্ধে সত্যিকারের অভিযোগগুলো তুলে ধরে মামলা করা হোক। আমি মাহমুদুর রহমানের বিচার চাই।

 

 

 

 

 

কিন্তু, হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এই অপ্রয়োজনীয় হামলা চালিয়ে মাহমুদুর রহমানকে হিরো বানাচ্ছেন আর সরকারকে বিব্রত করছে; তাদেরও খুঁজে বের করা দরকার।

 

 

 

(প্রভাস আমিন এর ফেসবুক থেকে নেয়া)