প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাবিব উদ্দিন আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

 

 

 

 

এছাড়া, খনি দুর্নীতি তদন্তে নাম আসা মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আওরঙ্গজেবের ৪২ দিনের হজের ছুটি মঞ্জুর করেছে পেট্রোবাংলা।

 

 

 

 

 

কয়লা খনি দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার একদিন পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

 

 

 

 

 

এর আগে, বুধবার (২৫ জুলাই) খনি দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনির সাবেক ও বর্তমান সব ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

 

 

 

 

 

খনি কর্তৃপক্ষের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন ছাড়াও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামারুজ্জামান, এসএম নূরুল আওরঙ্গজেব ও আমিনুজ্জামানের নাম এসেছে অভিযুক্তদের তালিকায়।

 

 

 

 

এরমধ্যে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন আওরঙ্গজেব। আর রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামারুজ্জামান। আমিনুজ্জামানের বিরুদ্ধে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

 

গত ১৯ জুলাই হাবিব উদ্দিন আহমেদকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পেট্রোবাংলায় সংযুক্ত করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার একদিনের মাথায় তাকে বরখাস্ত করা হলো।

 

 

 

 

এছাড়া, পরিচালক আওরঙ্গজেবকে ৪২ দিনের হজের ছুটিতে পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা। তার স্থলে পেট্রোবাংলার মাইন অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাবেদ চৌধুরীকে এ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

 

 

 

 

 

 

তবে, বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ যে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছে, তাদের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আসামিরা হলেন, সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্যবিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়া, ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক ( জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক, উপ-ব্যবস্থাপক ( (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মোর্শেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেল্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্রনাথ বর্মন, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) জোবায়ের আলী, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী ও মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা।

 

 

 

 

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই কয়লা দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির চার কর্মকর্তাকে দেশত্যাগ করতে না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন।

 

 

 

 

 

সে তালিকাতেও খনির সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমেদের নাম রয়েছে। তালিকার অপর তিন কর্মকর্তা হচ্ছেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির জিএম (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, জিএম (কোল মাইনিং), আবু তাহের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান চৌধুরী এবং ডিজিএম (স্টোর) একেএম খাদেমুল ইসলাম। এই তালিকায় আওরঙ্গজেবের নাম না থাকায় তার বিদেশ গমনে কোন বাধা নেই।