প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       দেশের প্রায় সবক’টি বালক বিদ্যালয়ে স্কাউটস এবং শাপলা কাব শাখা গঠন করা হয়েছে। কিন্তু মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পরিমাণ গার্ল গাইডস শাখা খোলা উচিত ছিল তা হয়নি। তাই দেশব্যাপী গার্ল গাইডস’র কর্মকাণ্ড আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ করা হবে। নারীদের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডস’র শাখা খোলা হবে। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী রোববার বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস এ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয় বেইলী রোডস্থ ১০তলা ভবন, বাংলাদেশ স্কাউটস’র শতাব্দী ভবনসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থপন এবং শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় গার্ল গাইডস’র জন্য ১০ তলা ভবন করা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যেখানে গার্ল গাইডের নিজস্ব জায়গা রয়েছে সেখানে কার্যালয় নির্মাণ করা প্রয়োজন।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ জানাবো- আপনারা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সংগঠনটি গড়ে তুলুন। বিশেষ করে নারীদের যতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এর প্রত্যেকটিতেই গার্ল গাইডস’র শাখা খোলা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। গণশিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং স্কাউটস এবং গার্ল গাইডস’র কর্মকর্তারা এখানে আছেন- তারা এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

 

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে দেশের ১২টি অঞ্চলের কাব স্কাউটসদের মাঝে কাব স্কাউটসদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।

 

 

 

 

 

৬ থেকে ১১ বছর বয়েসীদের সংগঠন কাব স্কাটউসদের মধ্যে ১৮৩ জন এ বছর এই সম্মান অর্জন করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যদিয়ে ছোটবেলায় থেকেই সকলের মাঝে মানবিক গুণাবলীগুলো তৈরি হবে। তাদের মানবতাবোধ জাগ্রত হবে, সচেতনতা বাড়বে।

 

 

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্কাউটস এবং গার্ল গাইডস তাদের এই সংগঠনের কাজটাই হচ্ছে দেশের সেবা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা, পাশে দাঁড়ানো, নিয়মানুবর্তিতাও শৃঙ্খলা শেখা এবং দেশের কল্যাণে কাজ করা। আমি দেখেছি যেকোনও দুর্যোগ-দুর্বিপাকেও স্কাউটস দল ছুঁটে যায়, মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই পরবর্তীতে যখন জীবন-জীবিকার জন্য কাজ করবে তখন এই গুণাবলীগুলোই দেশের ও জাতির উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখবে। আমাদের সচেতন ছেলে-মেয়েরাই এদেশকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে জাতির পিতা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আর সে লক্ষ্য নিয়েই এদেশের যাত্রা শুরু।

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭৫ এ জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থেমে যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

 

 

 

 

 

 

তিনি গার্ল গাইডস’র সদস্য এবং শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা একদিন এই গণভবনের প্রান্তরে স্কাউটস এবং গার্ল গাইডস’র সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সেই কথা চিন্তা করেই আজ সকলকে এখানে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনেছি।

 

 

 

 

 

আজ সকলের পদচারণায় গণভবনের মাটি ধন্য উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা কোমলমতিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, মনে হয় যেন শত শত, হাজার হাজার ফুল ফুটে আছে এই গণভবনের বাগানে।

 

 

 

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভেকেট মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ স্কাউটস’র সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।