প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা হবে জানিয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘কক্সবাজারে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন। আমি দেখি আরও অনেক জায়গায় মাদকের আগ্রাসন থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সাংবাদিকরা সেটা নিয়ে লিখেন না। তারা কী ভয় পান? আপনাদের অভয় দিয়ে বলতে চাই, মাদকের গডফাদারদের হাত চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবো।’

 

 

 

 

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনরোধে প্রণীত অ্যাকশন প্লান বাস্তবায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বেনজীর আহমেদ।

 

 

 

 

 

 

র‌্যাবের ডিজি বলেন, ‘সাংবাদিকতা শুধু ডিনার টিকেট পাওয়ার সুযোগ নয়; এখানে নীতি-নৈতিকতার একটা বিষয় আছে, দায়বদ্ধতার একটা জায়গা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আপনাদের মাদকের বিরুদ্ধে লিখতে হবে। যেভাবে দেশকে জঙ্গিমুক্ত করেছি, সেভাবে দেশকেও মাদকমুক্ত করবো। এটা করা সম্ভব। পৃথিবীর কোনো দেশ মাদকমুক্ত নয়। একটু হলেও মাদকের ব্যবহার আছে। তবে আমরা চাইলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।’

 

 

 

 

 

 

র‌্যাব প্রধান বলেন, ‘কক্সবাজারে আটটি উপজেলা আছে। প্রয়োজনে আটটি উপজেলায় আলাদা আলাদা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। মাদকের জন্য জনসংখ্যার ভয়াবহতাও দায়ী। শুধু ঢাকা শহরেই জনসংখ্যা দুই কোটি। পক্ষান্তরে পুরো অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা দুই কোটি। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশাল একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য যেমন বেগ পেতে হয় শুধুমাত্র ঢাকার জন্য একই বেগ পেতে হয়।’

 

 

 

 

 

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মাদকের মামলায় আটক আসামিদের জন্য আলাদা বিশেষ কারাগার স্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরে একটা দ্বীপ আইডেন্টিফাই করা যেতে পারে বা বিচ্ছিন্ন কোনো এলাকা। যেখানে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ আসামি রাখা যাবে।’

 

 

 

 

 

 

র‌্যাবের ডিজি বলেন, ‘৩ মে থেকে আমরা যখন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি সে সময় অনেকেই সমালোচনা করেছেন। এখন তারা চুপ হয়ে গেছে। আমরা স্পষ্ট কথায় বলে দিচ্ছি কারও কোনো সমালোচনার আমরা ধার ধারি না।’

 

 

 

 

 

 

মাদকের মামলার দ্রুত বিচারের ওপর জোর দিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৫ জন নিহত এবং ১১ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জঙ্গিবাদ ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। এবারও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বিজয়ী না হয়ে ফিরব না। এটি ১৬ কোটি মানুষের ডিমান্ড। সরকার, রাষ্ট্রের ও জনগণের ডিমান্ড। মাদকের বিরোধী অভিযান চলবে।’

 

 

 

 

 

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) আয়োজনে কর্মশালায় ১৬টি মন্ত্রণালয়ের ৫০জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অ্যাকশান প্লানের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের (মাদকদ্রব্য অনুবিভাগ) অতিরিক্ত সচিব আতিকুল হক।

 

 

 

 

 

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি ডোপ টেস্টের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময়ও ডোপ টেস্টের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযান চলবে।

 

 

 

 

 

ডিএনসির ডিজি মো. জামাল উদ্দীন আহম্মদ বলেন, ‘সারা দেশে সাড়ে ৪০০ অপারেশনাল ফোর্সসহ মোট জনবল প্রায় ১৭০০। আর যানবাহন রয়েছে ৫১টি। তবে সরকার আরও ৫০টি যানবাহন এবং জনবল আট হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে।