প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দীন আহম্মদ কামরান নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করলেও বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন প্রায় সব কেন্দ্রে অনিয়ম, জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখল করা হযেছে।

 

 

 

 

সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমান আহত হয়েছেন। বেলা দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

 

 

এ সময় তার গাড়িতে ইট পড়লে গাড়ির গ্লাস ভেঙে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

 

 

 

এদিকে নগরের রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এর পরপরই সেখানে একদল যুবক ঢুকে একটি বুথ দখলের চেষ্টা করে। দখলের খবর পেয়ে সেখানে যান বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

 

 

 

 

 

তিনি সেখানে গিয়ে বুথ দখলের বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে বলেন, রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকজন যুবক কেন্দ্র ঘিরে আছে। এরপর তিনি নিজেই সেখানে জড়ো হওয়া যুবকদের দিকে এগিয়ে যান। পরে এসব যুবক কেন্দ্র ছেড়ে চলে যায়।

 

 

 

 

এদিকে সিলেট সিটির ৮, ৯, ১৮ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে জাল ভোটের অভিযোগে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মোট ছয়টি কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগে উত্তেজনা দেখা দেয়।

 

 

 

 

 

প্রার্থীদের কর্মীদের মধ্যে মারামারি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। সিলেট নগরের পাঠানতুলায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শাহজালাল জামিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় তিনটি কেন্দ্রের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা শুরু হয়।

 

 

 

 

এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে জাল ভোটের অভিযোগে মারপিট ও ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। পরে আওয়ামী লীগ-মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষেও ওই সব কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

 

 

 

 

 

 

ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে নগরীর দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার দুপুরে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ গাজী সৈয়দ বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাদ্রাসা (১১৬) ও ২৭ নং ওয়ার্ডেও হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৩৪) কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। সিটি নির্বাচনের তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা প্রলয় কুমার সাহা এই তথ্য জানিয়েছেন।

 

 

 

 

 

 

এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিবেন না বলেও জানান।

 

 

 

 

 

 

 

ভোট শেষে বিকেল ৪টায় তার দলীয় কার্যলয়ে এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুর ১টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরী দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রিটানিং কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ করেন।

 

 

 

 

 

 

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবুও নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।

 

 

 

 

 

নির্বাচন কমিশনের অফিসকে জানিয়েছি সকাল থেকে ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রে আমার ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

 

 

 

 

 

 

 

এছাড়াও জাতীয় পার্টির এমপি ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে।

 

 

 

 

তারা ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

 

 

 

 

অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দীন আহম্মদ কামরান বলেন, আমি সম্পূর্ণ আশাবাদী, নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত এবং সিলেটের মানুষ আমাদের সমর্থন করছে। আমরা শতভাগ আশাবাদী নৌকার বিজয়ে।

 

 

 

 

 

 

ভোট সুষ্ঠু হয়েছে, ভাল হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করে। নির্বাচনী ফলাফল জনগণ যেটা দেবেন সেটা অবশ্যই আমি মাথা পেতে নেব।

 

 

 

 

 

 

এর আগে সোমবার সকাল ৮:৫০ মিনিটে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে ভোট দেন কামরান। তিনি এই করপোরেশনের দুই বারের মেয়র ছাড়াও পৌরসভা নির্বাচনেও চেয়ারম্যান হিসেবে জেতেন একবার।

 

 

 

 

 

 

 

তবে ২০১৩ সালে হেরে যান বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। এবার পরপর দুই নির্বাচনে মুখোমুখি তারা।

 

 

 

 

 

 

কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট ঢুকতে না দেয়ার বিষয়ে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বলেন, ‘এগুলো মোটেও ঠিক না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। ভোটাদের উপস্থিতিও অত্যন্ত সন্তোষজনক।’