প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     প্রয়োজনীয় ডাক্তারের অভাবে খুড়িঁয়ে খুড়িঁয়ে চলছে নাসিরনগর উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা। উপজেলায় গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা বিরাজ করছে। ৫০ শয্যা হাসপাতালে ২১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ১৩ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে ।

 

 

 

 

 

মাত্র ৮ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন চিকিৎসক সংযুক্তির আদেশের ভিত্তিতে বছরের পর বছর ধরে অন্যত্র কর্মরত রয়েছে। এখান থেকে তারা শুধু বেতন ভাতা উত্তোলন করে থাকেন।

 

 

 

 

 

২-৩ জন ডাক্তার কর্মস্থলে নিয়মিত থাকলেও কতিপয় ডাক্তাররা জেলা সদর থেকে এসে হাজিরা দিয়েই চলে যান এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যেন দেখার কেউ নেই। এ উপজেলার নাগরিকরা আধুনিক চিকিৎসার সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

 

 

 

 

সাড়ে তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে ১টি পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র,৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র রয়েছে।

 

 

 

এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক,কর্মচারি,ওষুধ ও যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, বিদুৎ,পানি ,স্যানিটেশন সমস্যা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জরার্জীণ অবকাঠামো, চিকিৎসক ও কর্মচারিদের আবাসিক সংকট, ব্লাড ব্যাংক না থাকাসহ নানাবিধ সংকটে উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

 

 

 

 

 

২০০৭ সালে উপজেলার একমাত্র হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোন প্রকার উন্নতি ঘটেনি। এখানে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়নি।

 

 

 

 

 

এ কারনে অপারেশন থিয়েটারে স্থাপিত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অযত্ন অব্যবহ্নত অবস্থায় পড়ে থাকায় যন্ত্রপাতি গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এখানে দুর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে অসহনীয় দূভোর্গের শিকার হচ্ছে রোগীরা ।

 

 

 

 

এখানে এসে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না পেয়ে চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের হাসপাতালে যান। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের সিজারিয়ান(সিজার) করা জরুরি হয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তাদের কষ্টের সীমা থাকে না।

 

 

 

 

 

 

একাধিক সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তারের পরির্বতে চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতালের পিয়ন আর ওয়ার্ড বয়রা। প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় ব্যান্ডেজ,সেলাইসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপাচার পিয়ন,ওয়ার্ড বয় ওঝাড়–দাররা করে থাকেন।

 

 

 

 

ফলে সব সময় রোগীরা মৃত্যুর ঝুঁকির আশংকায় থাকেন।উপজেলা কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া) জুনিয়র কনসালটেন্ট(স্যার্জিকেল) জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি এন্ড অবস) জুনিয়র কনসালটেন্ট (ডেন্টাল), জুনিয়র কনসালটেন্ট (নাক কান গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট(মেডিসিন),জুনিয়র কনসালটেন্ট(চর্ম ও যৌন)জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু),প্যাথলজিষ্ট,রেডিওলজিষ্টসহ অনেক চিকিৎসকের পদ র্দীঘদিন ধরে শূণ্য পড়ে রয়েছে।

 

 

 

 

৫০ শয্যা হাসপাতাল হিসেবে খাদ্য বরাদ্ধ পাওয়া গেলেও চাহিদা মোতাবেক ঔষধপত্রসহ চিকিৎসক,নার্স ও জনবল পোষ্টিং দেয়া হয়নি। অথচ এ হাসপাতালে প্রায় সময় ইনডোরে ৬০/৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে এবং আউটডোরে ৩/৪শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। বিশেষ করে গাইনি কোন ডাক্তার না থাকায় মহিলা রোগীদের চরম দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে ।

 

 

 

 

 

হাসপাতালে ব্লাড ব্যংক নেই।এখানে এক যুগ ধরে এক্স-রে মেশিন থাকলেও মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট(রেডিওগ্রাফি)অভাবে পড়ে রয়েছে। হাসপাতালে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার(ওটি)ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল,এ্যানেসথেসিয়ার ও সার্জারি ডাক্তার না থাকায় সিজারসহ অন্যান্য অপারেশন বন্ধ রয়েছে।

 

 

 

 

 

তাছাড়া বছরের পর বছর অব্যবহ্নত ও তালা বন্ধ থাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এসব চিকিৎসার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখানে দাঁতের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সামগ্রী,আলটাসনোগ্রাম মেশিনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই।এ হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তৈলের প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ না থাকায় তাও বন্ধ রয়েছে।

 

 

 

 

 

ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে হারিকেন ও মোমবাতির আলোয় রোগীদের থাকতে হয়। নামে ৫০ শয্যা হলেও শয্যা সংখ্যা কম হওয়ায় প্রায়ই রোগীদেরকে মেঝেতে বা বারান্দায় থাকতে হয়। ভর্তিকৃত প্রায় সব রোগীকেই প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বাইরে থেকে কিনতে হয়।

 

 

 

 

উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১টি পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র রয়েছে। একটিতেও ডাক্তার নেই। তাবিজ আর ঝাড়ফুঁক-ই তাদের একমাত্র চিকিৎসা।

 

 

 

 

আবার কেউ কেউ হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। উপজেলার একমাত্র গুনিয়াউক ১০ বেড পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থা জরাজীর্ণ। ২ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও একজনও নেই। ৪ জন সেবিকার পদ থাকলেও একজন সেবিকা রয়েছে।

 

 

 

 

 

মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফার্মাসিষ্ট), মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব)সহ এমএলএসএস, মালি, নিরাপত্তা প্রহরীর পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় মূল ভবনসহ আবাসিক ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে আস্তর খসে পড়ছে।

 

 

 

 

 

 

একাধিক সূত্র জানায় এ উপজেলায় ডাক্তার ও সেবিকাদের পোষ্টিং দেয়া হলেও তদবির করে তারা অন্যত্র চলে যায়। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশতে অবকাঠামো ও ডাক্তার না থাকায় নাসিরনগরের গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা প্রায় ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

 

 

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ার হোসেন ডাক্তার সংকটের কথা স্বীকার করে জানায়, বর্তমানে ৪ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে আউটডোরের চিকিৎসা কার্যক্রম এতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

 

 

 

 

এর মধ্যে একজন ডাক্তার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে বদলী হয়ে চলে যাবেন। ডাক্তার সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে প্রতিমাসে সিভিল সার্জনসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও প্রতিকার হচ্ছে না।

 

 

 

 

 

 

তাছাড়া এ্যানেসথেসিয়ার ও সার্জারি ডাক্তার না থাকায় অপারেশন থিয়েটার(ওটি) চালু করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে টেকনোলজিষ্ট(রেডিওগ্রাফি)পদ শূন্য থাকায় এক্স-রে মেশিনসহ চিকিৎসার যন্ত্রপাতি নষ্ট দীর্ঘদিন ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও তিনি জানান।