প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       ঘটনাস্থলের আগে থেকে প্রতিটি স্থানেই ঘাতক জাবালে নূরের দুই বাসের রেষারেষির চিহ্নগুলো এখনো স্পষ্ট। দুর্ঘটনাস্থলের ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালে জাবালে নূর বাস নিজের যে গায়ের রং রেখে যায়, তার সাথে মিল পাওয়া যায় র‌্যামের দুই পাশের দেয়ালে আর রেলিংয়ের ছুটে ছুটে যাওয়া রং আর ক্ষতে। কোন কোনে জায়গায় লোহার রেলিং-এ ট্যাপ পড়ে রয়েছে, ঠিক অন্য পাশের রেলিংয়েই রয়েছে বাসের ঘষার গভীর টানা চিহ্ন। তাও অন্তত ঘটনাস্থল থেকে সাড়ে তিনশ ফিট আগে থেকেই শুরু।

 

 

 

 

 

বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্স ইন্সটিটিউট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ ফিট আগে তাদের রেষারেষির দেওয়ার প্রমাণটা পাচ্ছি। রেলিংয়ে যে ধরনের ইমপ্যাক্ট পড়েছে, যদি পথচারীতে গাঁয়ে না তুলত, তাহলে যেকোনো সময়ে ব্রিজের রেলিংয়ের ভেঙে উল্টে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

 

 

 

 

 

 

এদিকে দূরত্বের হিসেবে এবং রেখে যাওয়া চিহ্ন পরিদর্শন করে বুয়েটের এআরআই বলছে, দূরত্ব ও গাছ উপড়ে যতদূর গিয়ে বাস থেমেছে তাতে বাস দুটোর গতি ছিলো অন্তত সত্তুরের কাছাকাছি।

 

 

 

 

কাজী সাইফুন নেওয়াজ আরো বলেন, ৮০ কিলোমিটার গতিতে দুই সেকেন্ডে একটা গাড়ি ১৫০ ফিট যায়। ওই দিকে ৩৫০ ফিট, এখানে ৭০-৮০ ফিট। তাহলে প্রায় ৪০০ ফিটের বেশি হয়, সেইসময়ে ওই গাড়ির গতি ছিল প্রায় ৭০ কিলোমিটার।

 

 

 

 

এদিকে এই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়ায় বিষয়টি দুর্ঘটনা হিসেবে নেয়া হলে প্রকৃত শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, এতে সড়কে হত্যার বিষয়টি উহ্যই থেকে যাবে।

 

 

 

 

 

 

আইন প্রণয়ন কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, যদি গাড়ির চাকা ব্লাস্ট হয়ে গেলে সেইসময়ে ইন-ব্যালেন্স করে একটা দুর্ঘটনা ঘটে, সেটা অন্য বিষয়। আমি দাঁড়িয়েছি, সেইখানে একটা গাড়ি এসে আমার গাঁয়ে ওঠে, তাহলে সেটা তো দুর্ঘটনার জন্য হতে পারে না। সেই ক্ষেত্রে এটি হত্যা মামলা হবে।

 

 

 

 

 

এছাড়া দুর্ঘটনা নয়, হত্যার বিষয়টিও মাথায় রেখে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সড়কের ত্রুটি আছে কি না তাও বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।