প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      হত্যা ও নাশকতার ১০ মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাজিরার তারিখ আবারো পেছানো হয়েছে।

 

 

 

 

আজ রবিবার খালেদা জিয়ার হাজিরার দিন ধার্য ছিল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। কিন্তু মামলাগুলো হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত থাকায় বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেন। রাজধানীর বকশি বাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়।

 

 

 

 

 

২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ৩১ যাত্রী দগ্ধ ও জখম হয়। তাদের মধ্যে নূর আলম নামের একজনের মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ওই ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করা হয়েছিল। দণ্ডবিধিতে উদ্উত হত্যা মামলার তারিখ ধার্য ছিল আজ। এ ছাড়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার তারিখ ধার্য ছিল।

 

 

 

 

 

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনাসভায় খালেদা জিয়া  মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে যে, আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য রয়েছে।’

 

 

 

 

 

 

ওই বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাবের পরিচয় রয়েছে অভিযোগ করে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টেও আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। ওই মামলা করার আগে তিনি নিয়ম অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও নেন।

 

 

 

 

 

 

নাশকতার  ৯ মামলা : রাজধানীর দারুস সালাম থানায় ২০১৫ সালে দায়ের করা ৯টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয় গত বছর বিভিন্ন সময়। ওইসব মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার পর মহানগর দায়রা আদালতে বিচারের জন্য স্থানান্তর করা হয়।

 

 

 

 

এসব মামলায় খালেদা জিয়া জামিন নেওয়ার পর অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন তারিখে সময় নেওয়ার কারণে বার বার শুনানি পেছানো হয়। গত কয়েক মাসে অধিকাংশ মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত করা হয়। এসব মামলার হাজিরা ছিল আজ।

 

 

 

 

 

গত বছরের ৬ জানুয়ারি দারুসসালাম থানাধীন শাহ আলী মাজার রোডের জমিদারবাড়ির পাশের এবি ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় এসআই কামরুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় খালেদাসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

 

 

 

 

একই বছরের ২৯ জানুয়ারি একই থানার মিরপুর ১ নম্বর মুক্তি প্লাজার পূর্ব পাশের রাস্তার ওপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন একটি মামলা করেন। মামলায় খালেদাসহ ২৭ জনের অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি একই থানার অ্যাপেক্স শোরুমের সামনে, ৩ ফেব্রয়ারি গাবতলী টু সদরঘাট রুটে চলাচলকারী একটি মিনিবাসে দারুসসালাম এলাকায়, ৪ ফেব্রুয়ারি হজরত শাহ আলী মাজারের খালি বালুমাঠের পূর্ব পাশে দুটি গাড়িতে, ২০ ফেব্রুয়ারি দিয়াবাড়ী কবিরের ঝুটের ঘরের অন্য পাশে বালুর মাঠসংলগ্ন এলাকায়, ৩ মার্চ গাবতলী বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গ্রেট ওয়ালের মাঠে পার্ক করা একটি মিনিবাসে, একই মাসে দারুস সালাম এলাকায় আরও দুটি স্থানে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মোট ৯টি মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।