প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সরকার নানা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এরা জনগণের বিপক্ষ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করছে।

 

 

 

 

 

রোববার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

 

 

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র-ছাত্রী, কৃষক, শ্রমিক আইনজীবী, কূটনীতিক, পেশাজীবী কেউ এই সরকারের হাতে নিরাপদ নয়। তাই আমি দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছি।

 

 

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, মানুষকে বোকা বানানো সরকারের স্বভাবজাত, কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমরা দেখেছি সরকার প্রধান পার্লামেন্ট দাঁড়িয়ে বলছেন, সকল কোটা বাতিল, পরবর্তিতে তিনি বললেন, এটা হাইকোটের রায় আছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয়, অথার্ত তিনি ছাত্রদের সাথে প্রতারণা করেছেন। তাই ছাত্ররা সরকারকে বিশ্বাস করতে পারছে না। জনগণ বিশ্বাস করেতে পারছে না। কারণ এই বিশ্বাসযোগতা তারা হারিয়ে ফেলেছে।

 

 

 

 

 

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই ব্যর্থতা শুধু পরিবহন সেক্টরে না, রাষ্ট্রের প্রতিটা ক্ষেত্রে এই সরকারের ব্যর্থতা। দেশে কোন পার্লামেন্ট নেই, কমিশন প্রশাসন শুরু করে জুডিশিয়ালসহ সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করেছে । আর এসব কিছু হয়েছে পুলিশী সহায়তায়। দেশে কি হবে না হবে সকল কিছু নির্ধারণ করছে নিজেরা নিজেরাই।

 

 

 

 

 

 

 

চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথোপকথোন ফাঁস হওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন,’এটা অপরাধ কোথায় সমস্ত দেশই তো তাদের পক্ষে। আমরা আগেই শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলাম। শিক্ষণীয় আন্দোলন করছে তারা।

 

 

 

 

 

 

 

দেশের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ, বুদ্ধিজীবী সবাই বলছে যৌক্তিক।তবে তার (আমির খসরু) কথা বিকৃত করে ছেড়ে দেয়ার সম্ভবনাই বেশি। কারণ এখন তো সবই করা যায়। আমির খসরুর কথোপকথনের জেড় ধরে গতকাল রাতে দুই বার অভিযান চালানো হয়েছে গ্রেফতার করা জন্য।

 

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন,’গতকাল ধানমন্ডিতে নিরহ ছাত্রছাত্রীদের উপর সশস্র হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এতে বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। সারাদেশেই এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তারা।প্রকৃত পক্ষে আওয়ামী লীগ অনির্বাচিত স্বৈরাচারী সন্ত্রাসী দল। তাদের কাছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের কোন মূল্য নেই।

 

 

 

 

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্ণীকাটের উপর হামলা দেশটির উপর হামলার শামিল মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই হামলার জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন।

 

 

 

 

 

 

তিনি বলেন,’গতকাল রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মাদপুরের বাসায় নৈশভৌজে গিয়েছিলেন।তার আগেই সেখানে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছিল। তিনি বের হলে তার উপর হামলা চালানো হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উপর এই হামলা মার্কিন রাষ্ট্রের উপর হামলার শামিল। এই হামলায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন করেছে। আমরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী সন্ত্রাসীর গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

 

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,ড.আব্দুল মঈন খান,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান,সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী,সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ,নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।