প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      অহেতুক তর্কে লিপ্ত হওয়াটা দোষণীয়। কিন্তু অহেতুক বিতর্কে সাধারণ মানুষের তুলনায় শিক্ষিত লোকেরাই বেশি লিপ্ত হয়। আর ‘অহেতুক তর্ক’ দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছি যাতে দুনিয়া বা দ্বীনের কোনও ফায়দা নেই। তবে অনেক বিতর্ক আছে এমন, তা শুধু জায়েজই নয়; বরং উত্তমও বটে। এ ধরণের আলোচনা-পর্যালোচনায় লিপ্ত হওয়া প্রকৃত তালিবে ইলম অথবা ভালো মানুষের পরিচয়।

 

 

 

 

যে ছাত্র উস্তাদকে কোনো প্রশ্ন করে না, একেবারে চুপচাপ বসে থাকে (এবং যে মুরিদ পীর সাহেবের কথার ওপর প্রশ্ন করে না এদের কেউই সফল হবে না।) কাজেই উভয়ের উচিত জনবসতি ছেড়ে বন জঙ্গলে চারণ ভূমিতে চলে যাওয়া এবং রাখালের কাজ করা।

 

 

 

 

 

একদিন নেযাম উদ্দিন আওলিয়া রহ. এর কাছে ‘সুদূর’ বলখ থেকে দু’জন লোক আসলেন। উভয়ে যখন হাউজে অযু করতে গেলেন তখন এই বিতর্কে লিপ্ত হলেন যে, এই হাউজটি বড়? না বলখের অমুক হাউজটি বড়? উভয়ে নিজ নিজ দাবির স্বপক্ষে দলিলাদি পেশ করতে শুরু করলেন।

 

 

 

 

 

এ কথা নেযাম উদ্দিন আওলিয়া রাহ. জানতে পারলেন। নামাজের পর যখন উভয় বুযুর্গ হযরতের খেদমতে হাজির হলেন, এবং কারণ হিসেবে হযরত থেকে নিজেদের ইসলাহ ও আত্মশুদ্ধি করানো ও ফয়েয লাভের কথা বললেন, তখন হযরত নেযাউদ্দিন আউলিয়া রহ. বললেন, তোমাদের বিতর্কের ফয়সালা কী হলো? কোন্ হাউজ বড়? দু’জন এ কথা শুনে চুপ হয়ে গেলেন।

 

 

 

 

 

 

হযরতের কথার কোনও উত্তর দিলেন না। তখন হযরত নেযাম উদ্দিন আউলিয়া রাহ. বললেন, ‘তোমাদের (আধ্যাত্মিক রোগ) অহেতুক বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার চিকিৎসা হলো, তোমরা প্রথমে উভয়ে হাউজের (দিল্লির বলখের) পরিমাপ করে নিজেদের বিতর্কের ফায়সালা করো, এরপর অন্য কথা।

 

 

 

 

 

 

আজকাল সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রাবল্য খুব বেশি। দ্বীনের অতীব প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে কোনোই ধারণা নেই। কিন্তু অহেতুক বিতর্কে লিপ্ত হয়ে পড়ে অনায়াসে। অথচ হাদিস শরিফে এসেছে, (অর্থ) অর্থাৎ ব্যক্তির সৌন্দর্য হলো, সে অনর্থক কথা-বার্তা ত্যাগ করবে।

 

 

 

 

 

 

(তিরমিজি শরীফ হাদিস নং-২৩১৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-১৭৩৭; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৯৭৬) অহেতুক বিতর্কে নিজেকে না জড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজে বিরত থাকুন। অন্যকেও যথাসাধ্য এর থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করুন। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
আমিন।