প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলমান হজ পালন করতে যান সৌদি আরবে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের লক্ষ্যে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে কাবা প্রাঙ্গন মুখরিত করার স্বপ্ন দেখেন বহু আশেক।

 

 

 

 

 

 

বিপরীতে কিছু মানুষ আছেন যারা ইদানিং হজ সফরে গিয়ে সেলফি তোলায় মগ্ন হয়ে পড়েন। ঘনঘন লাইভে এসে জানান দেন নিজের অবস্থান। তাদের কর্মকান্ডে অনেকের কাছে মনে হতে পারে- হজের অপার্থিব, আবেগঘন পরিবেশ যেন এক ধরণের আনুষ্ঠানিকতা।

 

 

 

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রচারে এতোটাই মত্ত হয়ে পড়েন, যেন সেখানে কোনো পিকনিকের আয়োজন চলছে। এসব বিষয় নিয়ে কয়েকজন নতুন ও পুরাতন হাজির মনোভাব জানতে চেষ্টা করা হয়েছিল। টেলিফোনে তারা বলেন . . . . .

 

 

 

 

 

আবু বকর সিদ্দীক-তরুণ আলেম, ব্যবসায়ী

প্রথমবার্তা: হজে গিয়ে সেলফি নেয়া বা ফেসবুকে লাইভে এসে অন্যদের দেখাতে যাচ্ছেন কি?

আবু বকর সিদ্দীক: না, এমনটি করব না, এসব কাজ থেকে দূরে থাকতে চাই। হজে যাচ্ছি সেলফি তুলে ফেসবুকে বা লাইভে এসে পরিবার বা অন্যদের সন্তুষ্ট করানোর জন্য নয়, হজে যাচ্ছি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য। আমল করে নিজের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য।

 

 

 

 

 

প্রথমবার্তা: দেশের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ রাখবেন?

আবু বকর সিদ্দীক: পরিবার ও সাথীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আমি সাধারণ মোবাইল নিয়ে যাচ্ছি। আমি কখনও হজে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করি না। আমি হজে যাচ্ছি বন্ধু ও ব্যবসার খবর পেছনে রেখে যাব। পরিবারের সদস্যদের বলে দিয়েছি যেন আমাকে জরুরি বিষয় ছাড়া ফোন না দেয়। আমার প্রয়োজন হলে ফোন করব। মোবাইলে পরিবারের সঙ্গে কথপোকথন করতে তো হজে যাচ্ছি না।

আবুল কাশেম ইয়াছিন-লেখক, অনুবাদক

 

 

 

 

 

 

প্রথমবার্তা : হজে গিয়ে কোন কাজ বেশি করবেন?

আবুল কাশেম ইয়াছিন: চেষ্টা করব যেন সেলফিমুক্ত, মোবাইলমুক্ত হজ করতে পারি। সেলফি, ইন্টারনেট, ফেসবুকসহ অন্যদের সঙ্গে অতিরিক্ত গল্পগুজব না করে, অযথা সময় নষ্ট না করে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দেব হজসফর। বাসায় নামাজ আদায় না করে একটু কষ্ট হলেও মক্কায় বা মদিনায় মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করব। অন্যায় কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাইব। সময় পেলেই বেশি বেশি তাওয়াফ-ওমরা আদায় করব।

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রথমবার্তা: হজে গিয়ে সেলফি তুলে পরিবারকে দেখাবেন কি?
আবুল কাশেম ইয়াছিন: হজ কোনো পর্যটন কেন্দ্র নয় যে, নিজের সেলফি তুলে স্মরণীয় করে পরিবারকে দেখাতে হবে। হজে যাব প্রভুর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য, পাপ মোচনের জন্য, দুই ফোঁটা চোখের পানি ঝরানোর জন্য। তাই আমি কোনো ধরনের সেলফি তুলে আমার আমলকে নষ্ট করব না, ইনশাআল্লাহ। হজ করে হজের আমল সারাটি জীবন ধরে রাখতে চেষ্টা করবো।

 

 

 

 

 

 

 

প্রথমবার্তা: হজের সুন্দর কোন দৃশ্যের সামনে সেলফি তুলতে মন চাইলে কী করবেন?
আবুল কাশেম ইয়াছিন: সুন্দর দেখে সর্বপ্রথম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করব, তিনি আমাকে তার ঘর দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেলফি তোলা নাজায়েজ। পবিত্র ভূমিতে যে আল্লাহ আমাকে নিলেন তার নিষেধ করা কাজ আমি কীভাবে করব? আমি সেলফি না তুলে মনভরে তৃপ্তি সহকারে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাইব এবং আল্লাহর সান্নিধ্য কামনা করবো।

হাজি কামাল হুসাইন-শিক্ষক, পেশ ইমাম

 

 

 

 

 

 

প্রথমবার্তা: অন্যরা কেউ সেলফি বা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকলে কী করবেন?
হাজি কামাল হুসাইন: মক্কায় গিয়ে অধিকাংশ লোক এখন সেলফি তোলে ও সামাজিক যোগোযোগের মাধ্যমে পোস্ট করে। পবিত্র হজের সফরে আমার সামনে কাউকে সেলফি তুলতে বা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখলে আমি হজের মূল্যবান সময় অপচয় না করে সময়কে কাজে লাগাতে বলবো।

 

 

 

 

 

 

 

 

আরও বলবো- ভাই! অনেক আশা ও আকাঙ্খার পর এখানে এসেছি তাই সেলফি বা মোবাইলের পেছনে না পড়ে ইবাদতে মশগুল হই। আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ পাক দয়া করে আমাদের মেহনত কবুল করুন। সফরের কষ্ট যেন বৃথা না যায় সেদিকে খেয়াল রাখার তাওফিক দান করুন।