প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       সম্প্রতি অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার অপারেশনাল কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের সারি দীর্ঘ হওয়ায় জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। সামগ্রিকভাবে সমন্বয় করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

 

 

 

 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার বিভিন্ন ডিপোয় জমা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কনটেইনার না পেয়ে পাঁচটি জাহাজ এরই মধ্যে বন্দর ছেড়ে গেছে।

 

 

 

 

 

এখন জমে থাকা এসব কনটেইনার কীভাবে জাহাজীকরণ হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রপ্তানি পণ্য নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দর জেটি ত্যাগের কথা থাকলেও রপ্তানি পণ্য না নিয়ে বন্দর ত্যাগের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

 

 

 

 

 

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, যানজট, ভাঙা রাস্তা এবং কনটেইনার ওঠানামায় ধীরগতির কারণে সঠিক সময়ে জাহাজীকরণ সম্ভব নাও হতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সভাপতি নুরুল খাইয়ুম খান বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে আমার ডিপো (আইসিডি)। গতকাল সকাল ৯টায় রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার নিয়ে ডিপো থেকে যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারেনি বন্দরে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে একদিকে ডেলিভারি হয়নি আমদানি পণ্যের, অন্যদিকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করতে পারেনি। গতকাল থেকে গাড়ি চলাচল শুরু হলে সবাই একযোগে পণ্য ডেলিভারি নিতে আসেন।

 

 

 

 

 

আবার রপ্তানি পণ্য নিয়ে আসছে ট্রেইলরগুলো। নগরীর ভাঙা রাস্তা আর ট্রাফিকের অব্যবস্থাপনায় যানজট তৈরি হয়েছে। ফলে বন্দরের গেটের উভয় দিকে লেগে গেছে জট।

 

 

 

 

 

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, নৌ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বেসরকারি ডিপোসহ সামগ্রিক সমন্বয় প্রয়োজন। না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে ব্যবসায়ীরা।

 

 

 

 

 

একদিকে ঈদুল আজহা, অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান জটিল পরিস্থিতি নিয়ে আজ (বুধবার) দুপুরে মতবিনিময় সভা আহ্বান করেছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

 

 

 

 

 

নগরীর খুলশী থানার ঝাউতলা এলাকায় বিজিএমইএ ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্য নিয়ে জটিল অবস্থা তৈরি হওয়ায় এ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আহসানুল হক বলেন, সড়কে অব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ যানজটের কারণে সময়মতো রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দরে পৌঁছা যাচ্ছে না। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর তো জাহাজ জেটি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

 

 

 

 

 

 

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর বলেন, হঠাৎ করেই দেশে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে পোশাক রপ্তানিকারকরা বেশি সমস্যায় পড়বেন। এ পরিস্থিতিতে বন্ধের দিনেও কাজ করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।