প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       এখন কারোরই অন্যায় অাবদার বা তদবির আর শুনছেন না ট্রাফিক সার্জেন্টরা। এ যেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতার ঘোষণা। তদবিরের জন্য কোনো ফোন কল এলে তারা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবেই।

 

 

 

 

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এখন ট্রাফিক সার্জেন্টরা রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর। যানবাহনের যথাযথ কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকা পরিচিতজনদের আগে থেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন দ্রুত তা ঠিক করেই যেন রাস্তায় নামেন।

 

 

 

 

 

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সড়ক ব্যবস্থাপনা বদলে যাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে সাথে কথা বলেছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

 

 

 

 

 

 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম সাকলায়েন শিথিল বলেন: ‘সড়ক নিরাপদ করতে শুধু এ আন্দোলনের সময় থেকে নয়, অনেক আগে থেকেই আমি তৎপর ছিলাম।

 

 

 

 

 

সঠিকভাবে গাড়ি পার্কিং না করা, গাড়ির লাইসেন্স না থাকা, লার্নিং ড্রাইভারের লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোসহ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া যানবাহন আটকালেই পরিচিজনদের ফোন পেয়েছি।’

 

 

 

 

 

 

তদের জরিমানা ও মামলা থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করলেও ভবিষ্যতে যেনো আর এমনটা না ঘটে সেজন্য কীভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে সে বিষয়েও বুঝিয়েছেন তিনি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তাদের সহায়তা করার।

 

 

 

 

 

 

তবে এ আন্দোলনের পর থেকে এ ধরনের ফোন কল আসার প্রবণতা অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা। এছাড়া মাথায় হেলমেট পরে চলাফেরা সহ রাস্তায় শৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে সবসময়ই উদ্বুদ্ধ করেছেন এ ধরনের ফোন কলধারীদের।

 

 

 

 

 

নিজের উদাহরণ দিয়ে তাদের বুঝিয়েছেন ‘আমি মোটরসাইকেল অ্যাক্সিডেন্ট করেছি কিন্তু হেলমেট থাকায় বেঁচে গেছি।’‘মঙ্গলবার রাতে মাদকসহ একটি গাড়ি ধরেছি যেখানে ড্রাইভারের লাইসেন্স আছে কিন্তু তা ভুয়া।’

 

 

 

 

 

 

সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরে আসুক উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন: ‘সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের নিজেদেরই নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে, পরিবর্তন আসতেই হবে।’

 

 

 

 

 

‘এখন কেউ কল করলে ফোন রিসিভ করে সার্জেন্টকে বলি তার বিরুদ্ধে যথাযথ অাইনানুগ ব্যবস্থা নেন।’ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন বরিশালের মুলাদী সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার কামরুল আহসান।

 

 

 

 

 

 

‘আগে অনেক পরিচিতজনরা ফোন দিতেন গাড়ির কাগজপত্র না থাকায়, লাইসেন্স না থাকায় কিন্তু ছোটখাটো বিষয়গুলোতে সবসময়ই চেষ্টা করেছি হেল্প করার। কিন্তু বাচ্চাদের গণজোয়ারের পর মনে হয়েছে এতটুকু আইন অন্তত সবার মেনে চলা উচিৎ।’

 

 

 

 

 

 

 

কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেই পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, অনেককে দেখেছি যাদের হেল্প করেছি তাদেরই আবার পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সোচ্চার। এ ধরনের দ্বিচারী আচরণ খারাপ লাগে।

 

 

 

 

 

বর্তমানে ট্রাফিক সপ্তাহ চলছে যাদের কাগজপত্র নেই বা অন্য কোনো ধরণের ত্রুটি পাচ্ছি ট্রাফিক আইনে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে সম্প্রতি মানুষ বেশ সচেতন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের আরেক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইন কে বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় তদবির এখন অনেক কম আসছে। সিনিয়র অফিসারদের চাপ, রাজনৈতিক চাপ খুবই কম। এটা খুব ইতিবাচক।

 

 

 

 

 

 

 

এর আগে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রোববার থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।সারাদেশে ৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত।