প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       বাড়ির বাইরে বেরোনো যাচ্ছে না। তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে জাপান জুড়ে। এই মওসুমে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় গরম পড়েছে অনেক বেশি। ফলে নাজেহাল জাপানবাসী। গরমের হাত থেকে বাঁচতে নতুন উপায় বের করেছে জাপান।

 

 

 

 

 

বছরের শুরুতেই অবশ্য আবহ বিশেষজ্ঞরা এই রকম গরম পড়ার সতর্কতা জারি করেছিলেন। জাপান সেই গরমের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য নিচ্ছে মিস্ট টেকনোলজির। কী এই মিস্ট টেকনোলজি? সহজ বাংলায় বললে কুয়াশা প্রযুক্তি।

 

 

 

 

 

 

এক বিশেষজ্ঞ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তারা মিস্ট-স্প্রে করার মাধ্যমে গরমকে জয় করার চেষ্টা করছেন। রাস্তায় টাঙানো হয়েছে কুয়াশা তৈরি করার যন্ত্র। বিশাল লম্বা তারের মধ্যে দিয়ে কুয়াশা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে গরম অনেকটাই কম অনুভুত হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

আরও বলা হয়, রাস্তায় গরম প্রতিরোধক ব্যবস্থার মধ্যে মিস্ট টেকনোলজি সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জাপানে। যেটি তাপমাত্রা আট ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামিয়ে আনতে সক্ষম। এছাড়া গরমের মাত্রা অনুযায়ী আরও নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে সে দেশে।

 

 

 

 

 

মধ্য টোকিওর মারুনৌচি এলাকা এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। টোকিও স্টেশনের কাছে অবস্থিত এই এলাকা।

 

 

 

 

 

নাগরিকরা খুশি এই মিস্ট টেকনোলজিতে। তবে শুধু মারুনৌচি এলাকায় নয়, এই ব্যবস্থা জাপানের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে পারলে ভাল হত বলে মনে করছেন জাপানবাসী। পরিবেশ বান্ধব এই কুয়াশা প্রযুক্তির মাধ্যমে গরমকে জয় করতে পেরেছেন তাঁরা। ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই প্রযুক্তি।

 

 

 

 

 

এছাড়াও রয়েছে ৩০০ বছরের পুরোন উচিমিজু পদ্ধতি। যার বাংলা জল ছেটানোর পদ্ধতি। জমিতে বা মাটিতে জল ছিটিয়ে তা ঠাণ্ডা করার ফলে তাপমাত্রা অনেকটাই কমে আসে। চলছে এই প্রযুক্তির ব্যবহারও।

 

 

 

 

 

তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে জাপানে। গরমে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৫০ জনের। ইতিমধ্যেই মধ্য টোকিওতে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। তাপমাত্রার পারদ ৪১ ডিগ্রি ছুঁয়েছে কুমাগায়াতে। জাপানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একেই ধরা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

জাপান আবহাওয়া বিভাগের বক্তব্য স্বাভাবিকের থেকে এই মওসুমে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। দু হাজারেরও বেশি মানুষকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

দু বছর পরে এই সময়েই টোকিও ২০২০ সামার অলিম্পিক শুরু হবে। সেকথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জাপান প্রশাসন। হনসু, শিকোকু, কাইশু দ্বীপে থাকবে পর্যটকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে থাকবে বিশেষ সতর্কবাণী।