প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:        সামনে ঈদুল আযহা। কোরবানির ঈদ। এর প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হলো পশু কোরবানি। দেশে মূলত কোরবানি করা হয় গরু, ছাগল ও ভেড়া। ইদানিং অবশ্য কিছু উটও পশুর হাটে উঠছে।

 

 

 

 

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রতিবছর দেশজুড়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে সাড়ে সাতশ’ পশুর বসে। ঈদের পাঁচ থেকে তিন দিন আগে এসব হাট জমে, বিকিকিনি চলে ঈদের পর দিন পর্যন্ত।

 

 

 

 

 

চলতি বছর এসব অস্থায়ী হাটের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সপ্তাহ দুয়েক আগেই। এখন চলছে হাট বসানোর আগে অানুষাঙ্গিক প্রস্তুতি। বেপারিরা কোরবানির পশু হাটে তোলার শেষ সময়ের প্রস্তুতির মধ্যে আছেন।

 

 

 

 

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছর কোরবানি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৪ লাখ গরু। আর ছাগল-ভেড়ার চাহিদা ছিল প্রায় ৭০ লাখ। এর মধ্যে ৩০ লাখের জোগান এসেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের কাছ থেকে। আর দাম ভালো পাওয়ার আশায় সাধারণ গৃহস্থের ঘরে পালিত ১২ লাখ গরু উঠেছিল হাটে।

 

 

 

 

 

কয়েক বছর আগেও দেশের কোরবানির হাটগুলো নির্ভরশীল ছিল ভারতীয় গরুর সরবরাহের ওপর। গত পাঁচ বছর ধরে এই নির্ভরতা কমতে শুরু করেছে।

 

 

 

 

বর্তমানে এই চাহিদা প্রায় শূণ্যের কোঠায়। অধিক লাভের আশায় কিছু বেপারির ভারতীয় গরু আমদানি করলেও হাটে দেশি গরুর ভিড়ে তা ছিল সংখ্যায় খুবই নগন্য।

 

 

 

 

 

বেপারিরা জানান, বর্তমানে দেশে যতো গরু আছে তাতে ভারতীয় গরু না এলেও কোরবানির পশুর কোনো সঙ্কট হবে না। তবে দাম একটু বাড়তি হতে পারে।

 

 

 

 

 

গত বছর হাটগুলোতে দেশি গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় গত বছর সংকট হয়নি, দামও ছিল সহনীয় পর্যায়ে। বেপারিদের ধারণা, এবারও কোনো সংকট হবে না, দামও থাকবে সহনীয় ও স্থিতিশীল।

 

 

 

 

 

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, এ বছরও ৪৪ থেকে ৪৫ লাখ পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কৃষকদের খামারে পালিত পশু দিয়েই এই চাহিদা মেটানো সম্ভব।

 

 

 

 

কারণ এ বছরও ক্ষুদ্র এবং মাঝারি খামারিদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৩০ থেকে ৩২ লাখ গরু। আর গৃহস্থের ঘরে পালিত গরু ও মহিষ পাওয়া যাবে ১০ থেকে ১৪ লাখ। আর ছাগল ও ভেড়া তো আছেই।

 

 

 

 

 

এ বছরও কোরবানির পশু সংকটের কোনও আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, গত বছর কোরবানিতে দেশে পশু সংকট হয়নি।

 

 

 

 

এবারও হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের ব্যাংক ঋণের সুবিধাসহ নানান সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কাজেই খামারিরা কোরবানির অপেক্ষায় রয়েছে।’

 

 

 

 

 

মন্ত্রী আরও জানান, বন্যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফসলের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কিছু খামারি তাদের পালিত গরু নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। তারা লোকসানের আশঙ্কা করেছে।

 

 

 

 

 

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের সর্বত্র জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এ পরিস্থিতি থেকে উতরে উঠতে পেরেছেন বলে মনে করেন ছায়েদুল হক। তার ভাষ্য, ‘কোনও খামারে বন্যার পানি উঠলে সেখান থেকে পশুগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে গো-খাদ্যের যোগান দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ে যেন পশুগুলোর কোনও রোগ-বালাই না হয় সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা-উপজেলায় চিকিৎসকদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

 

 

 

 

দুই বছরে পরিপক্ব গরু উৎপাদনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ছায়েদুল হক। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গরু পরিপক্ব হতে ছয়-সাত বছর লাগে।

 

 

 

 

কিন্তু ব্রাজিলের বুলের (ষাঁড়) মাধ্যমে দুই বছরে পরিপক্ব গরু উৎপাদনে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। উৎপাদন বাড়াতে ব্রাজিল থেকে প্রযুক্তি এনে তা ব্যবহারের মাধ্যমে দেড়-দুই বছরের মধ্যে গরু পরিপক্ব করে তোলা হবে।

 

 

 

 

এ বিষয়ে ব্রাজিলের কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।’

 

 

 

 

 

অবৈধ-ক্ষতিকর উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণ রোধে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বলেও জানান ছায়েদুল হক। এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

 

 

 

 

নিরাপদ গরু ও ছাগল উৎপাদন করতে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা কৃষকদের বাড়ি ও খামারে গিয়ে তদারকি করছেন। এমনকি কোরবানির পশুর হাটগুলোতে মনিটরিং টিম থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী।

 

 

 

 

 

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়ার জন্য এক কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭১ লাখ ছাগল-ভেড়া ও প্রায় ৩২ হাজার উট-দুম্বা।

 

 

 

 

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রতিটি ছোট পশুর হাটে অন্তত একটি, বড় হাটে দুটি করে এবং ঢাকার গাবতলী হাটে চারটি মেডিকেল টিম থাকবে।

 

 

 

 

 

রাজধানীর প্রতিটি টিমে একজন ভেটেরিনারি সার্জন, একজন টেকনিক্যাল কর্মী (ভিএফএ/ইউএলএ) এবং একজন করে শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্ন ভেটেরিনারি সার্জন থাকবেন। গত বছর সারা দেশে ২ হাজার ৩৬২টি পশুর হাটে মোট ১ হাজার ১৯৩টি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করে।

 

 

 

 

 

গত বছরের মতো এ বছরও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গবাদিপশুর খামারগুলোতে স্বাস্থ্যহানিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।

 

 

 

 

 

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড, হরমোন জাতীয় ওষুধের বিক্রি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বহাল থাকবে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব দ্রব্য চোরাইপথে আসা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে মনিটরিং এবং জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশ প্রশাসন পল্লি চিকিৎসকদের এসব ব্যবহার রোধে পদক্ষেপ নেবে।

 

 

 

 

 

সারাবছর দেশে যে পরিমাণ গবাদি পশুর চাহিদা থাকে, কোরবানি ঈদে সেই সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তাই এ উৎসবকে সামনে রেখে খামারি ও কৃষকরা পশু লালন-পালন করেন বছরের শুরু থেকে।

 

 

 

 

 

ঈদ ঘনিয়ে আসছে, তাই এই সময়ে পশুর যত্ন নিতে ব্যস্ত খামারিরা। তবে একই সঙ্গে উদ্বিগ্নও তারা। কারণ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু এলে লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

 

 

 

 

 

রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসবে ২০টি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ২০টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বসবে ১৩টি হাট এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৭টি।

 

 

 

 

 

 

২০টি হাটের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেরাদিয়া বাজার, উত্তর শাহজাহানপুরের মৈত্রী সংঘ মাঠ, গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়ন বালুর মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়াম-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগ মাঠ, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়, আরমানিটোলা মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ধূপখোলা ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট, দনিয়া কলেজ মাঠ, শ্যামপুর বালুর মাঠ এবং সাদেক হোসেন খোকা মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গায় হাট বসানোর কথা রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

এদিকে ডিএনসিসি এলাকার মধ্যে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সেতুর পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফাঁকা জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, আশিয়ান সিটি হাউজিং, ভাটারা (সাইদ নগর), মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইনসের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) খালি জায়গা এবং মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশে সেতু প্রোপার্টি ও সংলগ্ন খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসার কথা রয়েছে।