প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:         শ্বশুড় হলো পিতার সমান। কিন্তু, সেই শ্বশুড় যদি নিজের ছেলের বউকে কুদৃষ্টিতে দেখে তখন বিষয়টি কেমন হতে পারে একটু ভাবুন। এর থেকে আর জঘন্য কি-ই-বা হতে পারে তা জানা নেই।

 

 

 

 

 

ঘটনাটি খুলে বলা যাক, ফাঁকা বাড়িতে সুযোগ পেলেই বউমাকে কুপ্রস্তাব দিত শ্বশুর। এমনকি আড়াই বছরের নাতনির সামনেই জোর করে বউমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করত শ্বশুর।

 

 

 

 

 

 

কিন্তু, সেই ঘটনা স্বামী-শাশুড়িকে জানালে, স্ত্রীকে রক্ষা করা তো দূরের কথা, উল্টো স্বামী-শাশুড়ি মিলেও গৃহবধূর উপর শুরু করে অত্যাচার। একদিকে শ্বশুরের কুপ্রস্তাব, অপরদিকে স্বামী-শাশুড়ির অত্যাচারে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল সুপ্রিয়া ঘরামি নামে ওই গৃহবধূ।

 

 

 

 

 

ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে অত্যন্ত মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

 

 

 

 

জানা গেছে, সোনারপুরের গঙ্গাজোয়ারা এলাকার বাসিন্দা ছিল সুপ্রিয়া। স্কুলে পড়ার সময়ই গোবিন্দপুরের লাঙলবেড়িয়ার বাসিন্দা সুজন মণ্ডলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুপ্রিয়ার।

 

 

 

 

পেশায় সুজন একজন রাজমিস্ত্রি। সুজনের সঙ্গে প্রায় ৪ বছর ধরে প্রেম চলে সুপ্রিয়ার। কিন্তু, সুপ্রিয়ার বাড়ির লোকের তাদের সম্পর্কে মত ছিল না। তবুও বাড়ির অমতে এক প্রকার জোর করেই সুজনকে বিয়ে করে সুপ্রিয়া। বিয়ের পরে সুজন-সুপ্রিয়া দম্পতির একটি কন্যা সন্তানও হয়।

 

 

 

 

 

 

বিয়ের পর সুজনের সঙ্গে যে সুখের ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল সুপ্রিয়া, সেটা ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। পণের দাবিতে সুপ্রিয়া উপর শুরু হয় অত্যাচার। সুপ্রিয়াকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে স্বামী সুজন।

 

 

 

 

 

এর পাশাপাশি আরও অভিযোগ, শ্বশুর তপন মণ্ডলের কুনজর পড়েছিল সুপ্রিয়ার উপর। ফাঁকা বাড়িতে সুযোগ পেলেই সুপ্রিয়াকে কুপ্রস্তাব দিত শ্বশুর। এখানেই শেষ নয়, এমনকি আড়াই বছরের নাতনির সামনেই জোর করে পুত্রবধূ সুপ্রিয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ারও চেষ্টা করতেন শ্বশুর।

 

 

 

 

 

 

শ্বশুরের এমন কর্মকাণ্ডের কথা স্বামী সুজনকে জানিয়েছিলেন সুপ্রিয়া। কিন্তু, স্ত্রীর সেই কথায় কোনো গুরুত্বই দেয়নি সুজন। কোনো উপায় না দেখে বাবার বাড়িতেও শ্বশুরের এমন ‘নোংরামোর’ কথা জানায় সুপ্রিয়া।

 

 

 

 

এরপর দুই বাড়ির আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে ওই সমস্যা মেটে। কিন্তু, স্থায়ীভাবে কোনো সমাধান হয়নি। নিয়মিত বউমার উপর অত্যাচার চালিয়ে যেতে থাকে শ্বশুর তপন। একটু সুযোগ পেলেই তপন তার বউমা সুপ্রিয়াকে উত্যক্ত করত।

 

 

 

 

 

বুধবার (৮ আগস্ট) বাড়িতে কেউ ছিল না। আড়াই বছরের মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে একাই ছিল সুপ্রিয়া। অভিযোগ, সেই সুযোগে ফের সুপ্রিয়ার সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে শুরু করেন তপন।

 

 

 

 

 

নিজেকে বাঁচাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় সুপ্রিয়া। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। পানি খাওয়ার নাম করে জোরপূর্বক সুপ্রিয়ার ঘরে ঢুকে পড়েন শ্বশুর তপন। তারপরই মত্ত অবস্থায় পুত্রবধূর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তপন। এ সময় শ্বশুর তপন ও সুপ্রিয়ার মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

 

 

 

 

 

 

এরপর স্বামী সুজন বাড়ি ফিরলে তাকে এ ঘটনার কথা জানায় স্ত্রী সুপ্রিয়া। ঘটনার কথা এবার বাইরে সবাইকে জানিয়ে দেয়ার হুমকিও দেয় সুপ্রিয়া। এর পরই স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ি ৩ জন মিলে সুপ্রিয়ার উপর মারধর শুরু করে। পরে মারধরের কারণেই মৃত্যুর হয় সুপ্রিয়ার।

 

 

 

 

 

এ বিষয়ে সুপ্রিয়ার বাবার বাড়ির লোকেরা জানিয়েছে, বুধবার দুপুরে হঠাৎই সুজন তাদের ফোন করে সুপ্রিয়ার অসুস্থতার খবর জানায়। এই খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে তারা দেখেন, শ্বশুরবাড়ির বারান্দায় কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় শোওয়ানো হয়েছে সুপ্রিয়ার দেহ।

 

 

 

 

 

এদিকে সুপ্রিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাদের কাছে দাবি করেন, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সুপ্রিয়া। কিন্তু, সুপ্রিয়ার গলায় ফাঁসের কোনো চিহ্ন না দেখে সন্দেহ হয় তাদের। তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সুপ্রিয়ার স্বামী সুজন-শ্বশুর তপন- শাশুড়িরা।

 

 

 

 

 

 

এর পরই সুপ্রিয়ার পরিবার স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়িকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সুপ্রিয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

 

 

 

 

 

ওই ঘটনার দিন রাতেই সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সুপ্রিয়ার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সুপ্রিয়ার স্বামী সুজন মণ্ডল ও শ্বশুর তপন মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

 

 

 

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের পর সুপ্রিয়ার দেহে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুত্রবধূ হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে।