প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:         নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের শনিবারের মধ্যে (১১ আগস্ট) গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার সব দায়ভার সরকার নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের মারধরের ঘটনায় সাংবাদিক নেতাদের সাথে এ বৈঠক করেন তিনি।

 

 

 

 

 

 

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা কারা, কোন দলের— তা চিহ্নিত করে তাদের নজরে রাখা হচ্ছে। আজ মিটিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিষয়গুলো অবহিত আছেন এবং ব্যবস্থা নিতে আন্তরিক। শনিবার সারাদেশে সাংবাদিকরা যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা আশা করছি এর আগেই দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।’

 

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, কোমলমতি ছাত্রদের আন্দোলনে যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে, তারা সরকারকে বিব্রত করতে চেয়েছে। এ হামলার মধ্য দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের উসকে দেওয়ার পাঁয়তারা করেছে। তারা চায় সরকার ও সাংবাদিকরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকুক। এর মধ্য দিয়ে এসব দুর্বৃত্তকারীরা ফায়দা হাসিল করতে চায়।

 

 

 

 

 

এ সময় মন্ত্রীর কাছে ক্যামেরা ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ ও ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা। তথ্যমন্ত্রী এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও আহত সাংবাদিকদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সব চিকিৎসার দায়ভার সরকারের বলে জানান। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকরা যেন আর হামলার শিকার না হন, সেজন্য মন্ত্রণালয় নানামুখী উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

 

 

 

ইনু বলেন, আমরা আহত সাংবাদিকদের জন্য এরই মধ্যে চিকিৎসার সব ব্যায়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

 

একই অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় সাংবাদিকদের খোঁজখবর রাখছেন। আমাদের সরকার গণমাধ্যমবান্ধব।

 

 

 

 

আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে তথ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে দাপ্তরিক চিঠি লিখছি আমরা। আপনারা আস্থা রাখতে পারেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হবে।

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগেই সাংবাদিকদের মহার্ঘ্য ভাতা বাস্তবায়িত হবে। এ সংক্রান্ত সবকিছুই অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

 

 

 

 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেত্রী হিসেবে যেমন সাংবাদিকবান্ধব, প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি তেমনই।

 

 

 

 

আমি মনে করি, সাগর-রুনির হত্যার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ নেই বলেই হয়তো তাদের হত্যার বিচার দেরি হচ্ছে। কিন্তু ছাত্রদের আন্দোলনের মাঝে যারা সাংবাদিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেছে, তাদের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সবার কাছে পরিষ্কার। ফলে তাদের গ্রেপ্তার করতে দেরি হওয়ার কথা নয়।

 

 

 

 

 

বৈঠকে বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, আমরা আগামী শনিবার সারাদেশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছি।

 

 

 

 

 

যদি আপনারা সরকারের পক্ষ থেকে আহত সাংবাদিদের চিকিৎসার ভার ও দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার না করেন, তাহলে দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে। আর সরকারের বিরদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা এর ফায়দা নেবে। ফলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।

 

 

 

 

 

 

ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, সাংবাদিকরা জানেন, তাদের অধিকার আদায়ে কিভাবে আন্দোলন করতে হয়। তথ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিক আহত সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন এবং সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন। আমরা আশা করি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। তা না হলে সাধারণ সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হব।

 

 

 

 

 

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সদ্য নির্বাচিত ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সহসভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন্নাহারসহ অন্যরা।