প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:          নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাসে ফিরলেও সড়কে কোনো রকম পরিবর্তন হয়নি। সব আগের মতোই চলছে। ফেরেনি শৃঙ্খলা।

 

 

 

 

 

ঢাকার রাস্তায় পুলিশের বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেও কাগজপত্র ছাড়া চলছে বাস, লেগুনা, মোটরসাইকেল। আইনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে যাত্রী বহন করছে সিলভার রঙের প্রাইভেট সিএনজি।

 

 

 

 

 

উল্টোপথে চলছে ব্যক্তিগত গাড়ি। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের মামলার ভয়ে রাজধানীতে চলাচল কমে গেছে গণপরিবহনের। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে ঝুঁকি নিয়েই বাসের অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন প্রয়োগ করে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন বা নৈরাজ্য ঠেকানো যাবে না। সবার আগে সব ধরনের পরিবহনের মালিকদের এই উদ্যোগ নিতে হবে। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো চালকের হাতে গাড়ি তুলে না দেওয়া।

 

 

 

 

 

পাশাপাশি যারা রাস্তায় চলে তাদের মধ্যেও ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা কম। পথচারীরা যত্রতত্র রাস্তা পারাপার, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছে না। অনেকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছে। এ সবের কারণে সড়কে বাড়ছে লাশের মিছিল।

 

 

 

 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, আবদুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী তুরাগ, সুপ্রভাত, ভিক্টোরিয়া পরিবহনের বাসগুলো চলন্ত অবস্থায় একটু পর পর যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে।

 

 

 

 

 

বাংলামোটর ট্রাফিক সিগন্যালের ২০ গজ দূরে দ্রুতগতির বিহঙ্গ পরিবহনের গাড়িতে যাত্রী তোলা হয়। এ ছাড়া সড়কগুলোয় বেড়ে গেছে রিকশার চলাচল।

 

 

 

 

যত্রতত্র বাসে যাত্রী ওঠানামা ও রিকশার কারণে সড়কে সারাক্ষণ যানজট লেগে ছিল। একইভাবে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে আগারগাঁও আইডিবি পর্যন্ত এলাকায়ও যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে।

 

 

 

 

 

 

গাবতলী-সায়েদাবাদ রুটে চলাচলকারী ৮ নম্বর, সদরঘাটের ৭ নম্বর, মোহাম্মদপুর-চিটাগাং রুটের ৩৬ নম্বর, তুরাগ, ভিক্টোরিয়া, কমলাপুর-বনানী রুটের ৬ নম্বরসহ রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসেই দিকনির্দেশক (ইন্ডিকেটর লাইট) নেই।

 

 

 

 

 

 

এমনকি বিআরটিসির বাসেও ইন্ডিকেটর নেই। যেসব বাসে ইন্ডিকেটর আছে লেন পরিবর্তনের সময় চালকরা তাও ব্যবহার করছে না। এতে স্বাভাবিকভাবেই পেছনের দিকে যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

 

 

 

 

 

নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়কে নৈরাজ্যের ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষকে দোষারোপ করলে হবে না। এখানে গণপরিবহনের মালিক, চালক, পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবাইকে সচেতন হতে হবে।

 

 

 

 

একজনের অবহেলা/ভুলে অপরজন প্রাণ হারায়। যিনি দুর্ঘটনা ঘটান অনেক সময় তিনি নিজেও কবলে পড়েন। তাই সড়ক দুর্ঘটনা কারো কাম্য নয়। এজন্য নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে সবাইকে আইন মানতে হবে, আইনের প্রতিপালন করতে হবে।

 

 

 

 

 

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ট্রাফিক পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে রুট পারমিটবিহীন চলাচলকারী ৮ নম্বর একটি বাসের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। অপর একটি বাসের গাড়ি চালকের হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়।

 

 

 

 

 

এসব গাড়িচালকের ভাষ্য, মালিকের নির্দেশে তারা এ অবস্থায় রাস্তায় গাড়ি নামিয়েছেন। একই স্থানে হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেলসহ নানা অপরাধে মামলা দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে পারাপারকারীদের ২০-২০০শ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়।

 

 

 

 

 

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরুল হাসান বলেন, গাড়ি চালকদের মধ্যে কেউ-কেউ হালকা যানের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে বাস চালাচ্ছেন। রুট পারমিট নেই। মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর আছে তো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, ইন্স্যুরেন্স নেই এমন সব অপরাধ বেশি। এ ছাড়া পথচারীরা চলন্ত গাড়ির সামনে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেয়ে কাউন্সেলিং করছি।

 

 

 

 

 

 

ট্রাফিক পুলিশের মতে, ফিটনেস, লাইসেন্স, রুট পারমিটের বাইরে রাজধানীতে যেসব আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে তার মধ্যে বেপরোয়া গতি, ওভারলোড, কালো ধোঁয়া, উচ্চস্বরে হর্ন বাজানো, হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার, সিএনজি অটোরিকশার মিটার টেম্পারিংয়ের অপরাধ বেশি।

 

 

 

 

 

 

তবে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে কাগজপত্র বা রুট পারমিট ছাড়াই চলছে লেগুনা গাড়ি। বেশিরভাগ লেগুনার চালক শিশু। অবৈধভাবে যাত্রী বহন করছে প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশা। এসব অপরাধে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাই জড়িত।

 

 

 

 

 

ট্রাফিক সপ্তাহের ৫ম দিনে পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৮শ ৫৮টি মামলা করে পুলিশ। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলার সংখ্যা ৯ হাজার ৯শ ৭৪টি।