প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:         হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত নারীরা যদি হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা পান, তবে তাদের সুস্থ হওয়ার হার বেড়ে যায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা হাসপাতালে পরিচালিত এক গবেষণা এই কথা বলছে।

 

 

 

 

 

১৯ বছর ধরে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত নারী রোগীর কেস পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে ১৩.৩ শতাংশ নারী রোগী পুরুষ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে মারা গিয়েছেন।

 

 

 

 

আর ১২ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের নারী রোগী মারা গিয়েছেন নারী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে। অর্থাৎ নারী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিলে হার্ট এটাকে আক্রান্ত নারী রোগীদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

 

 

 

 

 

ফ্লোরিডা হাসপাতালে ১৯৯১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া নাম না জানা অসংখ্য নারী রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

 

 

 

 

 

গবেষণায় রোগীদের বয়স, জাতিসত্বা, চিকিৎসার আগের তথ্য ইত্যাদি বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। গবেষকরা দেখেছেন হার্ট অ্যাটাকের পর নারী চিকিৎসকের হাতে চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের সুস্থতার সুযোগ বেশি ছিল। তবে নারী রোগীরা নারী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরো বেশি।

 

 

 

 

 

 

আবার যেসব পুরুষ চিকিৎসকের মেডিকেল টিমে নারী বেশি তাদের কাছেও নারী রোগী সুস্থ হয়েছেন বেশি।

 

 

 

 

 

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিজ্ঞানী ড. সেথ কারনাহান বলেন, নারী চিকিৎসকরা যে পুরুষ চিকিৎসকদের চাইতে ভালো চিকিৎসা দেন – এ বিষয়ে আগের গবেষণাগুলো থেকে পাওয়া ধারণা আরো দৃঢ় করবে বর্তমান এই গবেষণা।

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, এই গবেষণার সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হল আমরা দেখাতে পেরেছি যে নারী রোগীদের জন্য নারী চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়াই বেশি ফলপ্রসূ। তবে এ ব্যাপারে আরও গবেষণা হওয়া উচিৎ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

 

 

 

তবে গবেষণাটির কিছু সমস্যাও আছে। শুধুমাত্র নারী চিকিৎসকের উপস্থিতির কারণেই যে নারী রোগীরা সুস্থ হন তা নিশ্চিত নয়।

 

 

 

 

 

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কার্ডিয়াক নার্স মরিন ট্যালবট মনে করেন, নারী চিকিৎসক থাকার কারণেই নারী হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত নারী রোগীরা সুস্থ হন কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রেও এ ধরণের পরীক্ষা হওয়া উচিৎ।

 

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, রোগীর যত্ন ও চিকিৎসার এই পার্থক্য কেন হয় তা বোঝাটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। একই ধরণের পরীক্ষা যুক্তরাজ্যেও করার কথা বলছেন কোন কোন স্বাধীন গবেষক। এতে বিষয়টা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করেন তারা।