প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:        লাইসেন্স ছাড়া চালক মাসুম বিল্লার হাতে গাড়ি দিয়ে অপরাধ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন জাবালে নূর পরিবহনের মালিক মো. শাহাদাৎ হোসেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এ মর্মে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

 

 

 

 

সাত দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার শাহাদাৎ হোসেনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম।

 

 

 

 

শাহাদাৎ হোসেন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

 

 

 

 

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

স্বীকারোক্তিতে মালিক শাহাদাৎ হোসেন বলেছেন, তিনি জাবালে নূর পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের মালিক। তার ওই বাসের ড্রাইভার ছিলেন মাসুম বিল্লাহ।

 

 

 

 

 

তিনি জাবালে নূর কোম্পানির সভাপতি মো. জাকির হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোমান ও ডিএমডি অলি আহমেদের পূর্বপরিচিত এবং তাদের অনুরোধেই চালক মাসুম বিল্লাহর ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিয়োগ প্রদান করেন।

 

 

 

 

 

 

লাইসেন্স ছাড়া চালক মাসুম বিল্লার হাতে গাড়ি দিয়ে তিনি অপরাধ করেছেন। তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই না করে অনুপযুক্ত চালক নিয়োগ করার কারণে গত ২৯ জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের পাশে বাসে ওঠার অপেক্ষায় থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব নিহত হয়।

 

 

 

 

 

 

এর আগে গতকাল চালক মাসুম বিল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

 

 

 

 

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস বিমানবন্দর সড়কের জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন।

 

 

 

 

 

নিহতরা হলেন— শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির আবদুল করিম এবং একাদশ শ্রেণির দিয়া খানম মিম। এ ঘটনায় দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম রোববার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।

 

 

 

 

 

 

ওই ঘটনার পর দোষীদের বিচার চেয়ে ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

 

 

 

 

 

 

ওই ঘটনায় গত রোববার দিবাগত রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম এ মামলা দায়ের করেন।