প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:        একবার এক ধনী মুসলিম মহিলার সাথে আমার আজব এক কথোপকথন হয়েছিল। আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্যে যার নাম আমি বলবো না, একটি প্রোগ্রামে আলোচনার পর আমাকে রাতের খাবার খেতে এক বাসায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।

 

 

 

 

 

আর সেটি ছিল ১৫ হাজার বর্গ ফুটের বিশাল এক প্রাসাদ। আমি গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করার সময় বাড়ির সৌন্দর্য দেখে মনে মনে ভাবতে লাগলাম, কে এই এল-ক্যাপনের (আমেরিকার এক বিখ্যাত গ্যাংষ্টার) বাড়িতে বাস করে!!!

 

 

 

 

 

তারপর আমরা ম্যানশনে প্রবেশ করলাম। আমাদেরকে ডিনার পরিবেশন করা হয়েছিল কিং আর্থারের টেবিলের মত প্রকান্ড এক টেবিলে। সম্ভবত টেবিলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে কথা পৌঁছাতে হলে মাইক্রোফোনের প্রয়োজন হবে, এত লম্বা এক টেবিল!

 

 

 

 

 

যাইহোক, আমরা সবাই এক পাশে বসে খাবার খেলাম। তারপর কথা-বার্তা বলতে লাগলাম। বাড়ির কর্তী বললো – “আমার একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন আছে।” আমি বললাম – “ঠিকাছে, বলুন।”

 

 

 

 

 

তিনি বললেন – “না, আমি সবার সামনে এটা বলতে পারবো না।” তখন আমি অন্য সবাইকে বললাম – “আপনারা টেবিলের অপর প্রান্তে গিয়ে বসুন, (যার অবস্থান ভিন্ন আরেকটি জিপ কোডে ) যেন আমি তার সাথে কথা বলতে পারি।” সবাই দূরে গিয়ে বসলো।

 

 

 

 

 

তারপর ঐ মহিলা বললেন – “আমি জানি, আমাদের সবাইকে মরতে হবে, এবং কিয়ামতের দিন উঠতে হবে….কিন্তু আমি এই বাড়ি ছেড়ে যেতে চাই না।”

 

 

 

 

 

তাদের লিভিং রুমের আয়তন হবে এই মসজিদের আয়তনের মত। পেছনে রয়েছে কৃত্রিম ঝর্ণা, প্রায় সব ওয়ালে গ্লাস লাগানো। তাদের বাসার ভেতরের সিঁড়িটি ছিল অসম্ভব সুন্দর মার্বেল পাথরে ঝড়ানো, দেখে মনে হয় যেন উপর থেকে সিল্ক গড়িয়ে পড়ছে।

 

 

 

 

আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি এটা আসলে কী? পরে বুঝতে পেরে চমৎকৃত হয়ে গেলাম। তারা আমাকে জানালো, বাড়িতে ২৭ টি বেড রুম রয়েছে। আমি ভাবলাম – ঘুমান তো এক রুমে, বাকিগুলো দিয়ে কী করেন।

 

 

 

 

 

 

কিন্তু ঐ মহিলা ম্যানসনটি নিয়ে এতো বেশি আচ্ছন্ন এবং সম্মোহিত…. প্রতিটি ফার্নিচার সে অনেক যত্ন করে কিনেছে। তাই সে বললো – “আমি এই বাড়ি ছেড়ে যেতে চাই না, আমি এখন কী করি?” আমি বললাম – “আপনার যা ইচ্ছা করতে পারেন, কিন্তু আপনাকে এটা একদিন ছাড়তেই হবে। দুঃখিত, আপনার এ ক্ষেত্রে কিছু করার নেই। ”

 

 

 

 

 

 

এই দুনিয়াতে এমন অনেক জিনিস আছে যা আমাদেরকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমাদেরকে এই বিষয়টা হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। এমনকি এই শরীরও একদিন ছেড়ে দিতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে নতুন শরীর দিবেন।

 

 

 

 

 

যখন আপনি এটা উপলব্ধি করতে পারবেন তখন আপনি আর এমনসব বিষয় নিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বেন না, যা এক সময় এমনিতেই ছেড়ে দিতে হবে। এটাই বাস্তবতা। আপনি তখন আর আপনার শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বেন না। গাড়ি নিয়ে, বাড়ি নিয়ে বা জামা-কাপড় নিয়ে আর আচ্ছন্ন হয়ে পড়বেন না।

 

 

 

 

 

 

এসব বিষয় ভোগ করতে পারেন, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এসব জিনিস আপনার জীবনের সবকিছু হয়ে পড়া উচিত নয়। অনেকেই বাসা থেকে বের হওয়ার পূর্বে আয়নাতে তাদের কেমন দেখায় সেটাতে অনেক মনোযোগ এবং গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

 

 

 

 

 

আপনি এ সম্পর্কে যা ইচ্ছা বলতে পারেন, কিন্তু আপনার কাজ বলে দিচ্ছে আপনার প্রায়রিটি কোথায়। আমি বলছি না যে, আপনি শরীরের যত্ন নিবেন না, দাঁত ব্রাশ করবেন না, শুধু পরকাল নিয়ে পড়ে থাকবেন….আমি এটা বলছি না।

 

 

 

 

 

আপনি অবশ্যই শরীরের যত্ন নিবেন…..কিন্তু আপনার জীবন যদি মুভি, ভিডিও গেইমস, শারীরিক সৌন্দর্য, আর বিনোদনে আবর্তিত হতে থাকে এবং আপনার আচরণ দেখে মনে হয় যেন এসব জিনিস চিরকাল থাকবে …তাহলেই সেটা সমস্যাপূর্ণ।

 

 

 

 

 

কিয়ামতের দিন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন কিসব জিনিস আপনি সামনে প্রেরণ করেছেন আর কিসব জিনিস পেছনে ফেলে এসেছেন।

 

 

 

 

 

[সূরা ইনফিতারের ৫ নাম্বার আয়াত – عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ – “তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কি অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কি পশ্চাতে ছেড়ে এসেছে।” আয়াতের আলোচনায় উস্তাদ নোমান আলী খান।]