প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:         আ.লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের ইতিমধ্যে বিএনপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সংলাপের আভাস দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকেও আভাস দেয়া হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা আওয়ামী লীগকে ভেবে দেখতে হবে।

 

 

 

 

বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের সঙ্গে সংলাপ চায।় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, যেকোনো জাতীয় সংকটে রাজনৈতিক দলগুলোকেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়।

 

 

 

 

 

রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা দেশকে অনেক বড় সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে। সংলাপ প্রচেষ্টার পাশাপাশি নির্বাচনে মোর্চা গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।

 

 

 

 

 

ওবায়দুল কাদের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে গত ২৬ জুলাই এক বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

 

 

 

তবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। কাদের সিদ্দিকী ওবায়দুল কাদেরকে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসম্প্রদায়িক দলের নেতৃত্বে যে জোট রয়েছে তিনি সেখানেই যোগ দেবেন।

 

 

 

 

এর আগে কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন ওবায়দুল কাদের। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। এখানে রাজনীতির কোনও অঙ্ক নেই।

 

 

 

 

 

ওবায়দুল কাদের : বিএনপির সাথে নির্বাচনের আগে অনানুষ্ঠানিক সংলাপ হলে সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আর মাত্র তিন মাস বাকি। এই তিন মাসের মধ্যে শিডিউল ঘোষণা হবে, এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো সংলাপের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।

 

 

 

 

 

তবে আমাদের মধ্যে একটা ওয়ার্কিং, একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকতে পারে, এর জন্য টেলিফোনে আমার সাথে যে-কেউ কথা বলতে পারেন। কাদের সিদ্দিকী সাহেব ফোন করেছেন তিনি কথা বলতে চান। তাকে আমি বলেছি আসেন।

 

 

 

 

অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা হতে পারে। আর কিছু না হোক চোখ দেখা দেখি না হোক টেলিফোনে তো সংলাপ করা যায়। ২৭ জুলাই শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেলের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

 

তিনি বলেন, কেউ আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করবেন না প্লিজ। আমি বলেছি আমাদের সাথে কথাবার্তা তো হতে পারে। আনুষ্ঠানিক সংলাপের বিষয়ে আমি কোনো কথা বলিনি।

 

 

 

 

১১ আগস্ট কাদের বলেন, শর্ত আরোপ করে কোন সংলাপ হয় না। সংলাপ হতে হয় স্বতস্ফূর্ত ভাবে। কিন্তু বিএনপি সব কিছুতে শর্ত আরোপ করে বসে। সংলাপের বিষয়ে কোন পূর্ব শর্ত থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ফোন করলে বিএনপি মহাসচিব ফিরতি ফোন করবেন এটা তো কোন রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের কথা নয়।

 

 

 

 

 

এর আগে ৯ আগস্ট তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছে, ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড মারে তাদের সঙ্গে কীসের সংলাপ, তাদের সঙ্গে কি সংলাপ হয়?

 

 

 

তারপরও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করে ডিনারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সংলাপে বসতে চেয়েছিলেন, তারা আসেননি। না এসে যে ভাষায় কথা বলেছিল সেটা কোনো রাজনীতির ভাষা না। এরপরও কি তাদের সঙ্গে সংলাপ হয়।

 

 

 

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম : ২৭ জুলাই বায়দুল কাদেরের সংলাপ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বহুবার আলোচনার জন্য বলেছি এবং আহ্বান করেছি।

 

 

 

আজকে আপনাদের মাধ্যমে আবারো আহ্বান করছি। আসেন আমরা কথা বলি। কোথায় বসবেন? কী করবেন? বলেন। আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। আলোচনার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে ফোন করা হবে কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) ফোন করলে আমরা ফোন করব।

 

 

 

 

রুহুল কবির রিজভী : সরকারকে স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ১১ আগস্ট শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কর্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

 

 

 

 

ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেছেন, নির্বাচন প্রসঙ্গে পূর্ব শর্ত দিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়, শর্ত ছাড়া যে কোনো বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। শূন্য টেবিলে তো আর আলোচনা হয় না।

 

 

 

 

 

আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকতে হবে। অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তারা যদি এটা না চায় তাহলে বুঝতে হবে তাদের মন স্বচ্ছ না। তাদের মন সাদা নয়, অফ হেয়াইট (ধুসর)।

 

 

 

 

 

মাহবুব-উল আলম হানিফ: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, সংলাপ আর ষড়যন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না। বিএনপি ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে।

 

 

 

 

 

 

তারা দেশকে অস্থিতিশীল ও উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করবে, আবার সংলাপের কথা বলবে, এটা হতে পারে না। ১২ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।