প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:        উপবৃত্তি পাওয়ায় মিষ্টি নিয়ে ক্লাসে না আসার অজুহাতে শরীয়তপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে রোববার। অভিযুক্ত রাফে মাহাবুব খান ওই কলেজের কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষক।

 

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র রাব্বি মোল্লা। রাব্বি বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তি পায়। রোববার উপবৃত্তির টাকা পেয়ে ক্লাসে মিষ্টি নিয়ে না আসার অজুহাতে শিক্ষক রাফে মাহাবুব খান ওই ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। আহত অবস্থায় রাব্বিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

রাব্বির বাবা আনিছ মোল্লা বলেন, রাব্বি উপবৃত্তির টাকা পেয়েছে। সেই টাকা দিয়ে মিষ্টি কিনে স্কুলের শিক্ষক মাহাবুব খানকে দেয়নি। তাই সবার সামনে রাব্বিকে কিল, ঘুষি ও চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন ওই শিক্ষক। ছেলেকে যেভাবে মেরেছে, এভাবে মানুষ মানুষকে মারে না। আমি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করব।

 

 

 

 

 

রাব্বির সহপাঠী সৌরভ বেপারী, রাকিব চৌকিদার ও জসিম সরদার জানায়, আমরা উপবৃত্তির টাকা পেলে একজনের পর একজন ক্লাসের সবাইকে মিষ্টি খাওয়াই। রোববার রাব্বির মিষ্টি আনার কথা ছিল।

 

 

 

 

কিন্তু রাব্বি মিষ্টি না নিয়ে ক্লাসে আসে। মিষ্টি না আনায় মাহাবুব স্যার রাব্বিকে বলেছে, মিষ্টি আনো নাই, মোবাইল দাও বিক্রি করে মিষ্টি আনব। এ বিষয় নিয়ে তর্ক বাধে স্যার আর রাব্বির মধ্যে। তখন রাব্বি স্যারকে মন্দ কথা বলে। এ সময় স্যার মারতে গেলে দোতলা থেকে রাব্বি দৌড়ে নিচে চলে যায়। তখন নিচে গিয়ে রাব্বিকে মারধর করে স্যার।

 

 

 

 

 

 

শিক্ষক রাফে মাহাবুব খান বলেন, মিষ্টির জন্য রাব্বিকে মেরেছি কথাটা সঠিক না। রাব্বি সবসময় আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। তাই দুটি চড় মেরেছি। শিক্ষক হিসেবে এটি আমার অন্যায় হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

শরীয়তপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ বলেন, আমি ঘটনাটি লোক মুখে শুনেছি। কেউ এখনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।