প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:         দীপ্তি ও তৃপ্তি অন্ধকার ঘরে চাঁদের আলো হয়ে দেখা দিয়েছেন তারা। পাবনার চাটমোহরে তাদের বাড়ি। বাড়িতে নেই টয়লেট, নেই খাবার পানির সুব্যবস্থা; নেই বিদ্যুৎ সংযোগও। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত এ সংসারের সবাইকে সকাল হলেই প্রাকৃতিক কাজ সারতে যেতে হয় প্রতিবেশীর বাড়ি অথবা ঝোঁপঝাড়ে।

 

 

 

 

 

দারিদ্র্যের অন্ধকারে নিমজ্জিত চাটমোহর পৌরশহরের বালুচর মহল্লার দিনমজুর দুলাল চূর্ণকারের পরিবারটি এভাবেই মৌলিক চাহিদা পূরণেই হিমসিম খাচ্ছে।

 

 

 

 

তবে এমন অন্ধকার ঘরে চাঁদের আলো হয়ে দেখা দিয়েছে দুলালের দুই মেয়ে দীপ্তি ও তৃপ্তি। সব প্রকার অভাব-অনটনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দীপ্তি বিএ শেষ বর্ষে ও তৃপ্তি একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন।

 

 

 

 

 

দুলাল চূর্ণকার জানান, তার মেয়েরা মেধাবী ও খুব পরিশ্রমী। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় কেরোসিনের বাতি দিয়ে পড়াশোনা করে চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেছে তারা। এ ছাড়া টিউবওয়েল না থাকায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন গোসলবিহীন থাকতে হয়। এতে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।

 

 

 

 

 

 

সংসার ও মেয়েদের পড়াশোনা কীভাবে চলছে, জিজ্ঞেস করলে দুলাল জানান, উপবৃত্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে কোনোমতে মেয়েরা তাদের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেয়। কিন্তু দিনমজুরির অর্থ দিয়ে সংসার চলে না।

 

 

 

 

 

দীপ্তি ও তৃপ্তির বলেন, আমরা এখন বড় হয়েছি। মেয়েমানুষ হয়ে প্রতিদিন প্রতিবেশীদের বাড়িতে প্রাকৃতিক কাজ সারতে যেতে লজ্জা লাগে। বাবার সামর্থ্য থাকলে কোনো কিছুরই অভাব রাখতেন না; শুনেছি কষ্টের সঙ্গে সুখ আসে। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।

 

 

 

 

 

 

এদিকে সরকারি জায়গা লিজ নেয়া জমি থেকে দীপ্তির পরিবারকে তুলে দিতে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

দিনমজুর দুলাল চূর্ণকারের এমন করুণ পরিণতির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমারকে অবগত করা হলে তিনি বিষয়টি পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।