প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গত বছরের তুলনায় এবার চট্টগ্রামের খামারিরা গরু-ছাগল-মহিষ বেশি লালন-পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, গেল দুই বছর পশু সংকট হয়নি। এবারও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

 

 

 

 

ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি খামারি গরু মোটাতাজা করেছেন। এ ছাড়া জেলার ১৪ উপজেলায় গৃহস্থ বাড়িগুলোতেও গরু-ছাগল লালন-পালন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

এবার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলে চট্টগ্রামে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৪টি পশু হূষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ বেশি। এ ছাড়া দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে গবাদি পশু।

 

 

 

 

 

 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার খামারিরা গরু-ছাগল-মহিষ বেশি মোটাতাজা করেছেন। কারণ গত বছর খামারিরা গবাদি পশু বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। তাই এবার তাঁরা বেশি পশু পালন করেছেন।’ আগামীতেও কৃষক পর্যায়ে লাভ হলে উৎপাদন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

 

 

তিনি জানান, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে চার লাখ ৮৬ হাজার গবাদি পশু মোটাতাজা করেছেন খামারি ও গৃহস্থবাড়ির মালিকরা। এবার হূষ্টপুষ্ট করা হয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৪টি পশু।

 

 

 

 

সরকারি হিসাব মতে, গত বছর চট্টগ্রামে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩১টি পশু কোরবানি হয়েছিল। এর মধ্যে গরু ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮৪টি, মহিষ তিন হাজার ৩টি, ছাগল-ভেড়া এক লাখ ৮২ হাজার ৪৪১টি ও অন্যান্য পশু ৩টি। স্থানীয়ভাবে লালন-পালন করা গবাদি পশুর পাশাপাশি অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এনে চাহিদা পূরণ করা হয়।

 

 

 

 

 

ডা. রেয়াজুল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর এবং শিল্পনগর হওয়ায় এখানে বিত্তবান মানুষের সংখ্যা বেশি। এসব বিত্তবান মানুষের কাছে বড় ও সুন্দর গরুর চাহিদা থাকে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে দেশি মাঝারি আকারের গরুর। তাই উত্তরবঙ্গ, তিন পার্বত্যজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচুর সুন্দর সুন্দর গরু চট্টগ্রামের বাজারে নিয়ে আসেন ব্যাপারীরা। গত দুই বছর চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর বাজারে আমরা দেখেছি সংকট হয়নি। এবারও সংকট হবে না।’

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ গো-মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা খামারিদের উদ্বুদ্ধ করেছি। এ ব্যাপারে মনিটরিং কার্যক্রমও বছরজুড়ে জোরদার ছিল। ফলে আশানুরূপ ফল এসেছে।’

 

 

 

 

 

 

গত ৩১ মে তৈরি করা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের এক তালিকায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ২৩০টি, সীতাকুণ্ডে ১৫০, সন্দ্বীপে ১২০, ফটিকছড়িতে ২৩৯, রাউজানে ৩০০, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৯৮, হাটহাজারীতে ৫৫০, বোয়ালখালীতে ৪৬৬, পটিয়ায় ৯১৭, চন্দনাইশে ৬৮৪, আনোয়ারায় ৮১২, সাতকানিয়ায় ৩৯৮, লোহাগাড়ায় ৭৪১, বাঁশখালীতে ২০৪, নগরের কোতোয়ালী থানায় ১০৭, ডবলমুরিংয়ে ১২৭ ও পাঁচলাইশে ২২৪টি মিলে চার হাজারের বেশি খামার রয়েছে। এসব খামারে হূষ্টপুষ্ট করা হয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৮০০টি ষাঁড়, ৯৯ হাজার ১০২টি বলদ, ২২ হাজার ৬০১টি গাভি, ৪৩ হাজার ৯১৫টি মহিষ, এক লাখ ৮ হাজার ২৩৫টি ছাগল ও ৩৪ হাজার ৫৮৩টি ভেড়া।

 

 

 

 

 

আসন্ন কোরবানির বাজারে পশু সংকট হবে না জানিয়ে ডা. মো. রেয়াজুল হক বলেন, ‘দেশজুড়ে গবাদিপশু পালন বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতে আমরা ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকারও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় নিজেদের চাহিদা নিজেরাই পূরণ করতে পারছি।’

 

 

 

 

 

 

চট্টগ্রাম জেলা কৃত্রিম প্রজনন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক লাখ ৫ হাজার ৮৫৯টি গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন হলেও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে এক লাখ ২০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

 

 

 

 

 

প্রতিটি কৃত্রিম প্রজননে সরকারি ফি ৩০ টাকা নির্ধারিত। মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, পটিয়া, কর্ণফুলী, চন্দনাইশে খামারের সংখ্যা বেশি হলেও হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, বাঁশখালী, আনোয়ারাসহ প্রায় সব উপজেলায় অনেক গৃহস্থ বাড়িতে গরু-ছাগল লালন-পালন করা হচ্ছে কোরবানিকে সামনে রেখে।

 

 

 

 

 

নগরে ৮ পশুর হাট : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরের বিভিন্ন স্থানে আটটি পশুর হাট ইজারা দিয়েছে।

 

 

 

 

এর মধ্যে দুটি স্থায়ী ও ছয়টি অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। স্থায়ী পশুর হাটগুলোর মধ্যে সাগরিকা গরুর বাজার ও বিবিরহাট গরুর বাজার এবং অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), কাটগড় গরুর বাজার (পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ), সল্টগোলা গরুর বাজার, স্টীল মিল গরুর বাজার, কমল মহাজন গরুর বাজার ও পোস্তারপাড় ছাগল বাজার রয়েছে। গত শনিবার থেকে কর্ণফুলী পশুর বাজারে (অস্থায়ী হাট) কোরবানির পশু বিকিকিনি শুরু হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

এদিকে নগর ও জেলার ১৯২টি পশুর হাটে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে ৮২টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক।

 

 

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন একই সময়ে জেলা ও নগরের সব হাট বসে না। হাটের সংখ্যা বেশি হলেও পালাক্রমে মেডিক্যাল টিম জেলা ও নগরের বিভিন্ন হাটে গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে।

 

 

 

 

 

 

ক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবাদি পশুর বিষয়ে সন্দেহ হলে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে প্রতিটি হাটে।’